
বর্ণানুক্রমে
নোটিশ বোর্ড
জনপ্রিয়
নজরুলগীতির সকল অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীকে জানাচ্ছি শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা।
নজরুলগীতির সকল অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীকে জানাচ্ছি শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা।

বল বীর – বল উন্নত মম শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! বল বীর – বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’ চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’ ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া, উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর! মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর! বল বীর – আমি চির উন্নত শির! আমি চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস, মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস! আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর, আমি দুর্বার, আমি ভেঙে করি সব চুরমার! আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল, আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল! আমি মানি না কো কোন আইন, আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন! আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর! বল বীর – চির-উন্নত মম শির! আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা! ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা আমি মহামারী, আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ঞ চির-অধীর! বল বীর – আমি চির উন্নত শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! বল বীর - বল উন্নত মম শির! আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস, আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ! আমি বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার, আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার, আমি পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল, ধর্মরাজের দন্ড, আমি চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড! আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য, আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব। আমি প্রাণ খোলা হাসি উল্লাস, – আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস, আমি মহা প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু গ্রাস! আমি কভূ প্রশান্ত কভূ অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী, আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! বল বীর - বল উন্নত মম শির! উন্নত মম শির! উন্নত মম শির!
রাগঃ
তালঃ দ্রুত-দাদ্রা

বনে মোর ফুটেছে হেনা চামেলি যূথী বেলি। এসো এসো কুসুম সুকুমার শীতের মায়া-কুহেলি অবহেলি’॥ পরানে দেয় দোলা দেয় দোলা দুল্ দোলায় (পরানে দেয় দোলা দেয় দোলা দেয় দোলন্) উতলা দখিন হাওয়া কোকিল কুহরে কুহু কুহু স্বরে মদির স্বপন-ছাওয়া। হাসে গীত-চঞ্চল, জোছনা-উজল মাধবী রাতি এসো এসো যৌবন সাথি ফুল-কিশোর, হে চিতচোর, দেবতা মোর। মম লাজ অবগুণ্ঠন ঠেলি’॥
রাগঃ জংলা
তালঃ দ্রুত-দাদ্রা

বুকে তোমায় নাই বা পেলাম রইবে আমার চোখের জলে। ওগো বঁধু! তোমার আসন গভীর ব্যথায় হিয়ার তলে।। আসবে যখন তিমির রাতি রইবে না কেউ জাগার সাথী, আসবে সে-দিন জ্বালব বাতি — মুছব নয়ণ-জল আঁচলে।। নাইবা হলাম প্রিয় তোমার, বন্ধু হ’তে দোষ কি বঁধু? মুখের ‘মধু’র তৃষ্ণা শেষে আমি দিব বুকের মধু। আমি ভালোবাসিনি ত’, ভালোবাসা পাবার ছলে।। বাহুর পাশে প্রিয়ায় বেঁধে’ আমার তরে উঠ্বে কেঁদে, সেই তো আমার জয় গো, প্রিয়, অন্তরে রই, রই না গলে।।
রাগঃ ভৈরবী মিশ্র
তালঃ কাহার্বা
বহু পথে বৃথা ফিরিয়াছি প্রভু হইব না আর পথহারা বন্ধু স্বজন সব ছেড়ে যায় তুমি একা জাগো ধ্রুবতারা।। মায়ারূপী হায় কত স্নেহ-নদী, জড়াইয়া মোরে ছিল নিরবধি, সব ছেড়ে গেল, হারাইনু যদি তুমি এসো প্রাণে প্রেমধারা।। ভ্রান্ত পথের শ্রান্ত পথিক লুটায় তোমার মন্দিরে, প্রভু আরো যদি কিছু আছে মোর প্রিয় লও বাঁচায়ে বন্দীরে। ডাকি' লও মোরে মুক্ত আলোকে তব আনন্দ-নন্দন-লোকে, শান্ত হোক এ ক্রন্দন, আর সহে না এ বন্ধন-কারা।।
রাগঃ
তালঃ দাদ্রা

বেলা গেল সন্ধ্যা হ’ল, (ওরে) এখন খোল আঁখি। তুই সোনার খনির কাছে এসে ফিরলি ধূলা-মাখি।। এ সংসারের সার ছেড়ে তুই সং সেজে হায়, বেড়াস নিতুই, যে তোরে ধন-রত্ন দিলো তারেই দিলি ফাঁকি।। ভুলে রইলি যাদের নিয়ে, তাদের পেলি কোথা হতে, তোর যাবার বেলায় কেউ কি সাথি হবে রে তোর পথে। এখনো তুই ডাক একবার নাইরে সীমা তাহার দয়ার, সে-ই করবে ক্ষমা, ঘুম পাড়াবে শীতল বুকে রাখি।।
রাগঃ
তালঃ কাহার্বা

বাঁধিয়া দুইজনে দুঁহু ভুজ বন্ধনে কাঁদিছে শ্যাম রাই। মিলনের মাঝে এত বেদনা যে বাজে গো – দেখি নাই, শুনি নাই।। সাগরে মিশে নদী, তবু কাঁদে নিরবধি, বুঝি না কেন গো – বুকে যত পায়, তত তৃষ্ণা বেড়ে যায়, সাধ মেটে না যেন গো।। সাধ কি মেটে গো চাঁদকে হেরে চকোরিণীর সাধ কি মেটে গো – মেঘ দেখে চাতকিনীর সাধ কি মেটে গো। হের, নব নাগরি নব নাগর মাতিল প্রেম-রসে, নব প্রভাত-কমলে যেন বন ভ্রমর বসে। নব সোনার শতদলে যেন নব মেঘের ছায়া কনকমালা ঘিরিল যেন বন নীল গিরি কায়া। গিরিধারীরে ধরিল, ধিরিধিরি রাধা গিরিধারীরে ধরিল।। আধ অধরে ধরে নাক’ হাসি, আধ-অধরে বাঁশি, হেরি’ আধ অঙ্গ দাস হতে চায়, আধ অঙ্গ দাসী; শ্রীচরণ ঘিরিয়া মন মধুকর গাহে, চরণাম্বুজ-রজ মাধুকরী চাহে।। বলে, ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও – ওই চরণ কমল-মধু ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও, ঐ যুগল-রূপ রাধা-শ্যাম দেখি যেন অবিরাম (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও) আমি আনন্দ-যমুনা হয়ে, চরণ ধুয়ে যাব বয়ে, (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও) আমি নিত্য হৃদি-ব্রজধামে হেরিব মোর রাধা-শ্যামে, (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)।।
বেতার গীতিচিত্রঃ ‘যুগল মিলন’
রাগঃ
তালঃ ফের্তা

Nazrulgeeti.org is the largest portal in the world about Nazrulgeeti. Anything and everything about Nazrulgeeti will be found in this portal. All lyrics, used raag and taal, audio/video, swaralipi and unknown stories behind the song, everything will be available here. The collection is growing every day. Be with us and help spread Nazrulgeeti worldwide.
Developed, Owned and Maintained by Mamunur Rahman Khan