ছাড় ছাড় আঁচল বঁধু

বাণী

ছাড় ছাড় আঁচল, বঁধু, যেতে দাও।
বনমালী, এমনি ক’রে মন ভোলাও।।
একা পথে দুপুর বেলা, নিরদয়, একি খেলা।
তুমি এমনি করে মায়া-জাল বিছাও।।
পথে দিয়ে বাধা, একি প্রেম সাধা,
আমি নহি তো রাধা, বঁধু, ফিরে যাও।।
হে নিখিল নর-নারী, তোমার প্রেম-ভিখারি
লীলা বুঝিতে নারি তব শ্যাম রাও।।

বাদল বায়ে মোর নিভিয়া গেছে বাতি

বাণী

বাদল বায়ে মোর নিভিয়া গেছে বাতি।
তোমার ঘরে আজ উৎসবের রাতি।।
তোমার আছে হাসি, আমার আঁখি-জল
তোমার আছে চাঁদ, আমার মেঘ-দল,
তোমার আছে ঘর, ঝড় আমার সাথী।।
শূন্য করি’ মোর মনের বন-ভূমি,
সেজেছ সেই ফুলে রানীর সাজে তুমি।
	নব বাসর-ঘরে
	যাও সে-সাজ প’রে,
ঘুমাতে দাও মোরে কাঁটার সেজ পাতি’।।

শোনালো শ্রবণে শ্যাম শ্যাম নাম

বাণী

শোনালো শ্রবণে শ্যাম শ্যাম নাম
যে নাম শুনি পবনে, যে নাম হৃদি-ভবনে
(সখি) যে নাম ত্রিভুবনে বাজে অবিরাম।।
নাম শোনা লো, শোনা লো
যে নাম শুনে কুলনারী হয় আনমনা লো।
সখি, ধেয়ায় যে নাম প্রতি ঘরে প্রতি জনা লো।
সখি ভোলায় যে গৃহকাজ, ভোলায় যে কুললাজ
যে নাম শুনিতে লো কান পেতে রই
সাধ যায় যে নাম-নামাবলী গায়ে দিয়ে যোগিনী হই।
নহে শুধু রাধিকার, সাধকের সাধিকার, যে নাম জপমালা সই,
তোরা শোনা সেই নাম লো,
তোরা বাহিরে শোনা, তোরা গাহিয়া শোনা
যে নাম অন্তরে জপি অবিরাম লো।।

তোমার হাতের সোনার রাখি

বাণী

তোমার হাতের সোনার রাখি আমার হাতে পরালে।
আমার বিফল বনের কুসুম তোমার পায়ে ঝরালে।।
		খুঁজেছি তোমায় তারার চোখে
		কত সে-গ্রহে কত সে-লোকে,
আজ কি তৃষিত মরুর আকাশ বাদল-মেঘে ভরালে।।
দূর অভিমানের স্মৃতি কাঁদায় কেন আজি গো!
মিলন-বাঁশি সহসা ওঠে ভৈরবীতে বাজি’ গো!
		হেনেছ হেলা, দিয়েছ ব্যথা
		মনে পড়ে আজ কেন সে-কথা,
মরণ-বেলায় কেন এ গলায় মালার মতন জড়ালে।।

নিশীথ হয়ে আসে ভোর

বাণী

নিশীথ হয়ে আসে ভোর, বিদায় দেহ প্রিয় মোর।
রজনী-গন্ধ্যার বনে হের গুঞ্জরিছে ভ্রমর।।
হের ঐ তন্দ্রা ঢুলু ঢুল্, জড়ায়ে হাতে এলোচুল।
বধূ যায় সিনান-ঘাটে পথে লুটায় বসন-আকুল।।
খোল খোল বাহুর মালা, মোছ মোছ প্রিয়া আঁখি,
শোন্ কুঞ্জ-দ্বারে তব কুহু মুহু মুহু ওঠে ডাকি’।
হের লো, শিয়রে তব প্রদীপ হয়ে এলো ম্লান,
দাঁড়াল রাঙা ঊষা ঐ রঙের সাগরে করি’ স্নান।
আকাশ-অলিন্দে কাঁদে পাণ্ডুর-কপোল শশী,
শুকতারা নিবু-নিবু ঐ, মলয়া উঠে উছসি,।
কাঁদে রাতের আঁধার মোর বুকে মুখ রাখি’।।

ফিরে ফিরে দ্বারে আসে যায়

বাণী

ফিরে ফিরে দ্বারে আসে যায় কে নিতি।
তার অধরে হাসি আর নয়নে প্রীতি।।
দোদুল্ তাহার কায়া ঘনায় চোখে মায়া,
জেগে ওঠে দেখে তা’য় পুরানো স্মৃতি।।
তাহার চরণ-পাতে তাহার সাথে সাথে,
আসে আঁধার রাতে শুক্লা চাঁদের তিথি।।
গেলে মন দিতে চাহে না সে নিতে,
ধরিতে গেলে চোখে সে কী তার ভীতি।।
ডাকি প্রিয় ব’লে তবু যায় সে চ’লে,
পায়ে পায়ে দ’লে হৃদয় ফুল-বীথি।।