বন-বিহঙ্গ যাও রে উড়ে

বাণী

বন-বিহঙ্গ যাও রে উড়ে মেঘ্‌না নদীর পাড়ে
দেখা হলে আমার কথা কইয়ো গিয়া তারে।
কোকিল ডাকে বকুল-ডালে, যে-মালঞ্চে সাঁঝ-সকালে রে,
আমার বন্ধু কাঁদে সেথায় গাঙেরি কিনারে।।
গিয়া তারে দিয়া আইস আমার শাপ্‌লা-মালা
আমার তরে লইয়া আইস তাহার বুকের জ্বালা।
সে যেন রে বিয়া করে, সোনার কন্যা আনে ঘরে রে,
আমার পাটের জোড় পাঠাইয়া দিব সে-কন্যারে।।

ওগো সুন্দর তুমি আসিবে বলিয়া

বাণী

ওগো সুন্দর! তুমি আসিবে বলিয়া বনপথে পড়ে ঝরি’
				(রাঙা) অশোকের মঞ্জরি।
হাসে বনদেবী বেণীতে জড়ায়ে মালতীর বল্লরী,
				নব কিশলয় পরি’।।
	কুমুদী-কলিকা ঈষৎ হেলিয়া
	চাঁদেরে নেহারি হাস মুচিকিয়া,
মহুয়ার বনে ভ্রম-ভ্রমরী ফিরিতেছে গুঞ্জরি’।।
যাহা কিছু হেরি ভাল লাগে আজ লুকাইতে নারি হাসি,
কাজ করি আর শুনি যেন কানে মিঠে পাহাড়িয়া বাঁশি।
	এক শাড়ি খুলে পরি’ আর শাড়ি
	বারে বারে মুখ মুকুরে নেহারি,
দুরু দুরু হিয়া উঠে চমকিয়া, অকারণে লাজে মরি।।

শ্রান্ত বাঁশরি সকরুণ সুরে

বাণী

শ্রান্ত বাঁশরি সকরুণ সুরে কাঁদে যবে।
কে এলে প্রদীপ ল’য়ে আঁধার ঘরে নীরবে।।
	গোধূলি লগনে এসে
	দাঁড়ালে বঁধুর বেশে,
জীবনেরই বেলা শেষে হে প্রিয় এলে কি তবে।।
যে হাতের মালা তব চেয়েছিনু, প্রিয়তম
রাখ সেই হাতখানি তপ্ত ললাটে মম,
তোমার পরশে মোর মরণ মধুর হবে।।

ঐ ঘর ভুলানো সুরে

বাণী

ঐ ঘর ভোলানো সুরে কে গান গেয়ে যায় দূরে। 
তার সুরের সাথে সাথে মোর মন যেতে চায় উড়ে।। 
তা'র সহজ গলার তানে
সে ফুল ফোটাতে জানে, 
তা'র সুরে ভাটির-টানে নব জোয়ার আসে ঘুরে।। 
তা'র সুরের অনুরাগে 
বুকে প্রণয়-বেদন জাগে; 
বনে ফুলের আগুন লাগে, ফুল সুধায় ওঠে পুরে।। 
বুঝি সুর-সোহাগে ওরি, 
পায় যৌবন কিশোরী, 
হিয়া বুঁদ হয়ে গো নেশায় তার পায়ে পায়ে ঘুরে।।

১. গানে

এই সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি

বাণী

এই সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি
		খোদা তোমার মেহেরবানী।
শস্য-শ্যামল ফসল-ভরা মাঠের ডালিখানি
		খোদা তোমার মেহেরবানী।।
	তুমি কতই দিলে রতন
	ভাই বেরাদর পুত্র স্বজন
ক্ষুধা পেলেই অন্ন জোগাও মানি চাই না মানি।।
খোদা তোমার হুকুম তরক করি আমি প্রতি পায়
তবু আলো দিয়ে বাতাস দিয়ে বাঁচাও এ বান্দায়।
	শ্রেষ্ঠ নবী দিলে মোরে
	তরিয়ে নিতে রোজ-হাশরে
পথ না ভুলি তাইতো দিলে পাক কোরানের বাণী।।

খেলে চঞ্চলা বরষা-বালিকা

বাণী

খেলে চঞ্চলা বরষা-বালিকা
মেঘের এলোকেশে ওড়ে পুবালি বায়
দোলে গলায় বলাকার মালিকা।।
চপল বিদ্যুতে হেরি' সে চপলার
ঝিলিক হানে কণ্ঠের মণিহার,
নীল আঁচল হতে তৃষিত ধরার পথে
ছুড়ে ফেলে মুঠি মুঠি বৃষ্টি শেফালিকা।।
কেয়া পাতার তরী ভাসায় কমল-ঝিলে
তরু-লতার শাখা সাজায় হরিৎ নীলে।
ছিটিয়ে মেঠো জল খেলে সে অবিরল
কাজলা দীঘির জলে ঢেউ তোলে
আনমনে ভাসায় পদ্ম-পাতার থালিকা।।