আমার শ্যামা মায়ের কোলে চড়ে

বাণী

আমার	শ্যামা মায়ের কোলে চ’ড়ে জপি আমি শ্যামের নাম
		মা হলেন মোর মন্ত্র-গুরু ঠাকুর হলেন রাধা-শ্যাম।।
			ডুবে শ্যামা-যমুনাতে
		মা 	খেলবো খেলা শ্যামের সাথে
		শ্যাম যবে মোরে হানবে হেলা মা পুরাবেন মনস্কাম।।
		আমার মনের দোতারাতে শ্যাম ও শ্যামা দুটি তার,
		সেই দোতারায় ঝঙ্কার দেয় ওঙ্কার রব অনিবার।
			মহামায়া মায়ার ডোরে
			আনবে বেঁধে শ্যাম-কিশোরে
আমি		কৈলাসে তাই মাকে ডাকি দেখবো সেথা ব্রজধাম।।

বঁধু মিটিলনা সাধ ভালবাসিয়া

বাণী

বঁধু		মিটিলনা সাধ ভালোবাসিয়া তোমায়।
তাই		আবার বাসিতে ভালো আসিব ধরায়।।
		আবার বিরহে তব কাঁদিব
		আবার প্রণয়–ডোরে বাঁধিব,
শুধু		নিমেষেরি তরে আঁখি দুটি ভ’রে —
		তোমারে হেরিয়া ঝ’রে যাব অবেলায়।।
যে		গোধূলি–লগ্নে নববধূ হয় নারী,
সেই		গোধূলি–লগ্নে বঁধু দিল আমারে গেরুয়া শাড়ি।
বঁধু		আমার বিরহ তব গানে
		‌‌সুর হয়ে কাঁদে প্রাণে প্রাণে,
		আমি নিজে নাহি ধরা দিয়ে —
		সকলের প্রেম নিয়ে দিনু তব পায়।।

ওমা ত্রিনয়নী! সেই চোখ দে

বাণী

	ওমা ত্রিনয়নী! সেই চোখ দে যে-চোখ তোরে দেখতে পায়।
	সে নয়ন-তারায় কাজ কি তারা যে-তারা লুকায় মা তারায়।।
আমি 	চাইনে সে-চোখ যে-চোখ দেখে মায়া
	অনিত্য এই সংসারেরই ছায়া,
	যে-দৃষ্টি দেখে নিত্য তোরে সেই দৃষ্টি দে আমায়।।
ওমা 	নিবিয়ে দে এই নয়ন-প্রদীপ দেখায় যাহা দুঃখ শোক,
	এই আলেয়া পথ ভুলিয়ে যায় মা নিয়ে নরক-লোক।
	তোর সৃষ্টি চির-আনন্দময় নাকি
	দেখব সে-লোক, দে মোরে সেই আঁখি,
	দেখে না রোগ-মৃত্যু-জ্বরা তোর সন্তান সেই দৃষ্টি চায়।।

মৌরি ফুলের মিঠে সুবাস বাতায়নে এলো ভেসে

বাণী

মৌরি ফুলের মিঠে সুবাস বাতায়নে এলো ভেসে
পথ দিয়ে কে সোনার মেয়ে জলকে গেল এলোকেশে।।
	(কি)	ফুল ছিল তার কবরীতে
		মদির তাহার সুরভিতে,
উদাস ক’রে মনকে আমার নিয়ে গেল ফুলের দেশে।।
দখিন হাওয়া মর্মরিয়া খোঁজে তারে বনে বনে,
ভ্রমর ফেরে গুঞ্জরিয়া তারি তরে আনমনে।
		কালো দীঘির কালো জলে
		তারি তরে ঢেউ উথলে,
তারি পায়ের আল্‌তা হতে আকাশ রাঙে দিনের শেষে।।

সোজা পথে চল রে ভাই

বাণী

	সোজা পথে চল রে ভাই, ঈমান থেকো ধ’রে।
	খোদার রহম মেঘের মত ছায়া দেবে তোরে।।
	তুমি বিচার করো না — কেউ করলে তোমার ক্ষতি
	এক সে-বিচার-করনেওয়ালা ত্রিভুবনের পতি,
তোর	ক্ষতির ডালে ধরবে মোতি তাঁর বিচারের জোরে।।
	সকল সময় ধ’রে থেকো আল্লা নামের খুঁটি
	তিনি তোমার হেফাজতে দিবেন ক্ষুধার রুটি,
	ইয়াকিন দিলে থেকো তুমি, নিবেন তোমায় ত’রে।।

আন্‌মনে জল নিতে ভাসিল গাগরী

বাণী

আনমনে জল নিতে ভাসিল গাগরী
সাঁতার জানি না, আনি কলস কেমন করি।।
জানি না বলিব কি শুধাবে যবে ননদী
কাহার কথা ভাবে পোড়া মন নিরবধি
কলসি না ভাসিয়া ভাসিতাম আমি যদি
কি বলিব কেন মোর ভিজিল ঘাগরী।।
একেলা কুলবধূ, পথ বিজন, নদীর বাঁকে
ডাকিল বৌ–কথা–কও কেন হলুদ চাঁপার শাখে
বিদেশে শ্যাম আমার পড়ল মনে সেই সে ডাকে
ঠাঁই দে যমুনে, বুকে, আমিও ডুবিয়া মরি।।