জ্বালো দেয়ালি জ্বালো

বাণী

জ্বালো দেয়ালি জ্বালো
অসীম তিমিরে শ‍্যামা মা যে অযুত কোটি আলো।।
	এলো শক্তি অশিব নাশিনী
	এলো অভয়া চির বিজয়িনী
কালো রূপের স্নিগ্ধ লাবনি নয়ন মন জুড়ালো।।
গ্রহ তারার দেওয়ালি জলিছে পবনে
জ্বালো দীপালি জীবনের সব ভবনে।
	এলো শিবানী প্রাণ দিতে সবে
রক্ষা করিতে পীড়িত মানবে ধরাবে বাসিতে ভালো।।

কোথায় তুই খুঁজিস ভগবান্

বাণী

কোথায় তুই খুঁজিস ভগবান্, সে যে রে তোরই মাঝে রয়,
			চেয়ে দেখ সে তোরই মাঝে রয়।
সাজিয়া যোগী ও দরবেশ খুঁজিস্ যায় পাহাড় জঙ্গলময়।।
আঁখি খোল্ ইচ্ছা-অন্ধের দল নিজেরে দেখ্ রে আয়নাতে,
দেখিবি তোরই এই দেহে নিরাকার তাঁহার পরিচয়।।
ভাবিস্ তুই ক্ষুদ্র কলেবর, ইহাতেই অসীম নীলাম্বর,
এ দেহের আধারে গোপন রহে সে বিশ্ব-চরাচর।
প্রাণে তোর প্রাণের ঠাকুর বেহেশ্‌তে স্বর্গে কোথাও নয়।।
এই তোর মন্দির-মসজিদ এই তোর কাশী-বৃন্দাবন,
আপনার পানে ফিরে চল কোথা তুই তীর্থে যাবি, মন!
এই তোর মক্কা-মদিনা, জগন্নাথ-ক্ষেত্র এই হৃদয়।।

কন্যার পায়ের নূপুর বাজে রে বাজে রে

বাণী

	কন্যার পায়ের নূপুর বাজে রে বাজে রে।
	রুমুঝুমু রুমুঝুমু বাজে রে বাজে রে।
যেন	ভোমরারি ঝাঁক উড়ে গেল ফুল-বনের মাঝে রে।।
	কালো জলে নামলো যেন বুনো হাসেঁর দল,
যেন	পাহাড় বেয়ে ছুটে এলো ঝর্ণা ছলছল
	থির সায়রে টাপুর-টুপুর ঝরে মেঘের জল
		যেন বাদল সাঝেঁ  রে।।
যেন	আচমকা নিঝুম রাতে গাঙে জোয়ার এলো
	ঝরা পাতায় চৈতী বাতাস বইলো এলোমেলো।
		সে সুর ওঠে রিমঝিমিয়ে
		আমার বুকে চমক দিয়ে
	মহুয়া-ডালে গানের পাখি	নীরব হলো লাজে রে।।

শোনো লো বাঁশিতে ডাকে

বাণী

শোনো লো বাঁশিতে ডাকে আমারে শ্যাম।
গুমরিয়া কাঁদে বাঁশি ল’য়ে ‘রাধা রাধা’ নাম।।
	পিঞ্জরে পাখি যেন
	লুটাইয়া কাঁদে মন,
আশে পাশে গুরুজন বাম।।

হে মদিনার নাইয়া

বাণী

হে মদিনার নাইয়া!
ভব-নদীর তুফান ভারি কর মোরে পার
তোমার দয়ায় ত’রে গেল লাখো গুনাহ্‌গার॥
পারের কড়ি নাই হে আমার হয়নি নামাজ রোজা
কূলে এসে বসে আছি নিয়ে পাপের বোঝা
(আমায়) ‘পার কর ইয়া রসুল’ বলে কাঁদি জারে জার॥
তোমার নাম গেয়েছি শুধু কেঁদে সুব্‌হ শাম
তরিবার মোর নাই ত’ পুঁজি বিনা তোমার নাম।
হাজরো বার দরিয়াতে ডুবে যদি মরি
ছাড়ব না মোর পারের আশা তোমার চরণ-তরী
সবার শেষে পার যেন হয় এই খিদ্‌মতগার॥

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি

বাণী

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি আঘাত করেছ, স্বামী,
সে পাষাণ দিয়ে তোমার পূজায় এ মিনতি রাখি আমি।।
	যে আগুন দিলে দহিতে আমারে
	হে নাথ, নিভিতে দিইনি তাহারে;
আরতি প্রদীপ হয়ে তারি বিভা বুকে জ্বলে দিবা-যামী।।
তুমি যাহা দাও প্রিয়তম মোর তাহা কি ফেলিতে পারি,
তাই নিয়ে তব অভিষেক করি নয়নে দিলে যে বারি।
	ভুলিয়াও মনে কর না যাহারে,
	হে নাথ, বেদনা দাও না তাহারে,
ভুলিতে পারো না মোরে, ব্যথা দেওয়া ছলে, তাই নিচে আসো নামি'।।