আমি মা ব’লে যত ডেকেছি

বাণী

আমি মা ব’লে যত ডেকেছি, সে-ডাক নূপুর হয়েছে ও-রাঙা পায়।
মোর শত জনমের কত নিবেদন, চরণ জড়ায়ে কহিয়া যায়।।
মাগো তোরে নাহি পেয়ে লোকে লোকে
	যত অশ্রু ঝরেছে মোর চোখে,
সেই আঁখিজল জবা ফুল হয়ে, শোভা পেতে ঐ চরণ চায়।।
মাগো কত অপরাধ করেছিনু বুঝি, সংহার ক’রে সে-অপরাধ,
বল লীলাময়ী, মিটেছে কি তোর মুণ্ডমালিকা পরার সাধ।
		যে ভক্তি পায়নি চরণতল
		আজ হয়েছে তা বিল্বদল,
মোর মুক্তির তৃষা মুক্তকেশী গো, এলোকেশ হয়ে পায়ে লুটায়।।

সই কই লো আমার ঘর নিকোবার

বাণী

স্ত্রী	:	সই কই লো আমার ঘর নিকোবার ন্যাতা।
পুরুষ	:	আহা ন্যাতা নয় গো শীতের কাঁথা এই যে আমি হেথা॥
স্ত্রী	:	সই-লো ওলো সই, আমার ছাই ফ্যালবার ভাঙাদ কুলো কই ?
পুরুষ	:	কুলোর বাতাস চুলোর ছাই
		স্বামী বলো কিম্বা ভাই, (ওলো) এই যে তোমার আমি।
উভয়ে	:	মিলেছি রাজ যোটক দুয়ে
পুরুষ	:	গিঁটে বাত ওরে বাবা রে বাবা গিঁটে বাত
স্ত্রী	:	আর ফিকের ব্যথা, ওরে মা রে, মা আর ফিকের ব্যথা॥
		ওলো সই বাপের বাড়ি যাব আমি এ ঘরে রব না,
পুরুষ	:	দেখো পুরুষের রাগ করে আনাগোনা
		আমিও যাব শ্বশুর বাড়ি, ওরে রেমো নিয়ে আয় ব্যাগ ছাতা।
উভয়ে	:	নথে এবং নাথে এম্‌নি যুদ্ধ।
পুরুষ	:	গুঁতোগুতি
স্ত্রী	:	জড়াজড়ি
পুরুষ	:	ছাতা-ছড়ি
স্ত্রী	:	খুনতি-বেড়ী
উভয়ে	:	হাতা॥

পূবালী পবনে বাঁশি বাজে রহি' রহি'

বাণী

পূবালী পবনে বাঁশি বাজে রহি' রহি'।
ভবনের বধূরে ডাকে বনের বিরহী।।
রতন হিন্দোলা নীপ ডালে বাঁধা',
দোলে দোলে, বলে যেন 'রাধা রাধা',
দুরু দুরু বুকে বাজে গুরু গুরু দেয়া
কেয়া ফুল আনে সোম-সুগন্ধ বহি'।।
চোখে মাখি সজল কাজলের ছলনা
অভিসারিকার সাজে সাজে গোপ-ললনা।
বৃষ্টির টিপ ফেলে ননদীর নয়নে
কদম-কুঞ্জে চলে গোপন চরণে,
মিলন বিরহ শোক তার বুকে
কাঁদে 'রাধা-শ্যাম রাধা-শ্যাম' কহি।।

হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে

বাণী

হারানো হিয়ার নিকুঞ্জপথে কুড়াই ঝরা ফুল একেলা আমি।
তুমি কেন হায় আসিলে হেথায় সুখের স্বরগ হইতে নামি।।
	চারিপাশে মোর উড়িছে কেবল
	শুকনো পাতা মলিন ফুল–দল,
বৃথাই কেন হায় তব আঁখিজল ছিটাও অবিরল দিবস–যামী।।
	এলে অবেলায় পথিক বেভুল
	বিঁধিছে কাঁটা নাহি যবে ফুল,
কি দিয়ে বরণ করি ও চরণ নিভিছে জীবন, জীবন–স্বামী।।

ঝঞ্ঝার ঝাঁঝর বাজে ঝনঝন

বাণী

ঝঞ্ঝার ঝাঁঝর বাজে ঝনঝন
বনানী-কুন্তল এলাইয়া ধরণী
কাঁদিছে পড়ি চরণে শনশন শনশন।।
দোলে ধূলি-গৈরিক পতাকা গগনে,
ঝামর কেশে নাচে ধূর্জটি সঘনে।
হর-তপোভঙ্গের ভুজঙ্গ নয়নে,
সিন্ধুর মঞ্জীর চরণে বাজে রনরন রনরন।।

শক্তের তুই ভক্ত শ্যামা

বাণী

শক্তের তুই ভক্ত শ্যামা (তোরে) যায় না পাওয়া কেঁদে।
(তাই) শাক্ত সাধক রাখে তোরে ভক্তি-ডোরে বেঁধে।।
(মা) শাক্ত বড় শক্ত ছেলে
(সে) জানে দড়ি আলগা পেলে
যাবি পালিয়ে চোখে ধূলা দিয়ে মায়া জালে বেঁধে।।
(তুই) সুরাসুরে ভুলিয়ে রাখিস্‌ ইন্দ্রত্বের মোহে,
(ওমা) গুণের কিছু ঘাট নাই তোর নির্গুণ তাই কহে।
তোর মায়াতে ভুলে গিয়ে,
বিষ্ণু ঘুমান লক্ষী নিয়ে
(তোর) অন্ত খুঁজে শিব হয়েছেন ভবঘুরে বেদে।।