চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়

বাণী

চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়
আজিকে যে রাজাধিরাজ কা'ল সে ভিক্ষা চায়।।
অবতার শ্রীরামচন্দ্র যে জানকীর পতি
তারও হলো বনবাস রাবণ করে দুর্গতি।
আগুনেও পুড়িল না ললাটের লেখা হায়।।
স্বামী পঞ্চ পাণ্ডব, সখা কৃষ্ণ ভগবান
দুঃশাসন করে তবু দ্রৌপদীর অপমান
পুত্র তার হলো হত যদুপতি যার সহায়।।
মহারাজ হরিশচন্দ্র, রাজ্য দান ক'রে শেষ
শ্মশান-রক্ষী হয়ে লভিল চণ্ডাল-বেশ
বিষ্ণু-বুকে চরণ-চিহ্ন, ললাট-লেখা কে খণ্ডায়।।

এলো বরষা শ্যাম সরসা প্রিয়-দরশা

বাণী

এলো বরষা শ্যাম সরসা প্রিয়-দরশা।।
দাদুরি পাপিয়া চাতকী বোলে নব জলধারা-হরষা।।
	নাচে বন-কুন্তলা যামিনী উতলা
	খুলে পড়ে গগনে দামিনী মেখলা,
চলে যেতে ঢ’লে পড়ে অভিসারে চপল যৌবন-মদ অলসা।।
	একা কেতকী বনে কেকা কুহরে,
	বহে পূব-হাওয়া কদম্ব শিহরে।
	দুরন্ত ঝড়ে কোন্ অশান্ত চাহি রে
	ঘরে নাহি রহে মন, যেতে চায় বাহিরে,
যত ভয় জাগে তত সুন্দর লাগে শ্রাবণ-ঘন-তমসা।।

হের আহিরিণী মানস-গঙ্গা

বাণী

কৃষ্ণ	: হের আহিরিণী মানস-গঙ্গা দুকূল পাথার।
রাধা	: হরি ভয়ে মরি একা নারী কিসে হব পার।।
কৃষ্ণ	: পারের কাণ্ডারি আমি প্যারী এসো আমার নায়।
রাধা	: ওগো একেলা গোপের কুলবধু আমি, তুমিও তরুণ মাঝি তায়।।
কৃষ্ণ	: যৌবন ভার ভারি পসার রাধে! তবু নাহি ভয়।
রাধা	: ওইটুকু তরী, ভয়ে মরি হরি, ভার যদি নাহি সয়।
উভয়ে	: হের মানস-গঙ্গায় উঠিয়াছে ঢেউ ঝড় বহে অনিবার।।
রাধা	: নাই পারের কড়ি পারে যাব কি করি,
কৃষ্ণ	: দিয়ে মন বাঁধা পারে চল কিশোরী।
উভয়ে	: মোরা ভেসেছি অকূলে প্রেমের গোকুলে কুলের ভয় কি আর।।

আমি মূলতানী গাই

বাণী

	আমি মূলতানী গাই
শ্রোতারা বাছুর সম মুখপানে চেয়ে মম
	ঘন ঘন তোলে হাই।।
জাপটে সুরের দাড়ি
শ্বশুরের দাড়ি, ভাসুরের দাড়ি
	সাপটে তান মারি-আ-আ-আ
	জাপটে সুরের দাড়ি
পমকে ধমক দেই, মীরে মাড় চটকাই।।
হায় হায় রে হায়-
বোলতানে আবোল-তাবোল তানে খেলি হা-ডু-ডু
কিত-কিত - হা-ডু-ডু- হা-ডু-ডু-কিত-কিত-কিত-কিত-কিত
	মোড়-মোড়-মোড়
আমি	বাটের চাট মেরে সুরে করি চিত
আমি	তালের সিঙ দিয়ে বেদম গুতাই।।
মোর	মুখের হা দেখে হিপোপটেমাস
	আফ্রিকার জঙ্গলে ভয়ে করে বাস
আমি	যত নাহি গাই তার অধিক রাগাই।।

মঞ্জু মধু ছন্দা নিত্যা তব সঙ্গী

বাণী

মঞ্জু মধু ছন্দা নিত্যা তব সঙ্গী।
সিন্ধুর তরঙ্গ নৃত্যের কুরঙ্গী।।
গুঞ্জা বেলা পদ্ম পুঞ্জীভূত বক্ষে
অশ্রু-লাজ কুণ্ঠা শঙ্কা-ঘন চক্ষে,
অঙ্গে শ্যামাকান্তা! মন্দাকিনী-ভঙ্গী।।
অঙ্গুলিতে বন্দী অঙ্গুরিত ছন্দ
কণ্ঠে সুর-লক্ষ্মী বৃন্দাবনানন্দ,
গঙ্গা এলে বক্ষে সন্ধ্যারাগে রঙ্গী।।

অনেক মানিক আছে শ্যামা

বাণী

অনেক মানিক আছে শ্যামা তোর কালোরূপ-সাগরজলে
আমার বুকের মানিক কেড়ে রাখ্‌লি কোথায় দে মা ব’লে।।
কত লতার কোল ক’রে খালি, ফুলের অর্ঘ্য১ নিস্‌ মা কালি
(মোর) সারা বনের একটি কুসুম আছে কি ঐ চরণ-তলে।।
একখানি মুখ খুঁজি মাগো তোর কণ্ঠের মুন্ডমালায়
একটিবার মা সে মুখ দেখা, আবার কেড়ে পরিস্‌ গলায়।
			(না হয়) রাখিস্‌ পূজার থালায়।
অনন্ত তোর রূপের মাঝে, সে কোন্‌ রূপে মা কোথায় রাজে?
মোর নয়ন-তারা তারা হয়ে দোলে কি তোর বুকের কোলে।।

১. ফুলের অর্ঘ্য-এর পরিবর্তে কবি ‘পূজাঞ্জলি’ শব্দটিও ব্যবহার করেছেন।