ব্যথার আগুনে হৃদয় আমার

বাণী

ব্যথার আগুনে হৃদয় আমার
		জ্বলিছে দিবস রাতি গো।
কাঁদিতে আসিলে এ তনু শ্মশানে
		কে তুমি ব্যথার ব্যথী গো॥
মুছিয়া গিয়াছে চন্দনের লেখা
খুলে শুকাইয়া গিয়াছে মন্দারের মালা
নিভেছে আশা দীপ আজি অবেলায়
		কে তুমি রাতের সাথি গো॥

বাঁশি তার কোথায় বাজে

বাণী

বাঁশি তার কোথায় বাজে।
বাজে মোর দহন-জ্বালায়, বাজে মোর ব্যথার মাঝে।।
বাজে মোর মিলন-তৃষায়, না পাওয়াতে
বাজে তার আসার আশায়, পথ চাওয়াতে,
বাজে মোর রাতের ঘুমে, বাজে মোর দিনের কাজে।।
বাজে মোর অন্তরে গো বাজে মোর বাহির-দ্বারে,
বাজের মোর ব্রজের পথে, মথুরায় কারাগারে।
	সুরে যার গভীর প্রেমের পরশ লভি’
	আঁকি গো কল্পনাতে যাহার ছবি,
সে কখন আঁখির আগে আস্‌বে চির-কিশোর সাজে।।

১. প্রেমের, ২. বেদনার

গীতি-আলেখ্য : ‘আকাশবাণী’

তোর কালো রূপ লুকাতে মা

বাণী

তোর কালো রূপ লুকাতে মা বৃথাই আয়োজন।
ঢাকতে নারে ও রূপ, কোটি চন্দ্র তপন।।
	মাখিয়ে আলো আমার চোখে
	লুকিয়ে রাখিস তোর কালোকে,
তোর অতল কালো রূপে মাগো বিশ্ব নিমগন।।
আঁধার নিশীথ সে যেন তোর কালো রূপের ধ্যান
তোর গহন কালোয় গাহন ক’রে জুড়ায় ধরার প্রাণ।
হেরি তোর কালো রূপ স্নিগ্ধ-করা
	শ্যামা হ’ল বসুন্ধরা,
নিবল কোটি সূর্য, তোরে খুঁজে অনুক্ষণ।।

আমি আলোর শিখা

বাণী

আমি আলোর শিখা
ফুটাই আঁধার ভবনে দীপ-কলিকা।।
নিশ্চল পথে আমি আনন্দ-ছন্দ
অন্ধ আকাশে আমি রবি-তারা-চন্দ
আমি ম্লান মুখে আনি রূপ-কণিকা।।

নাটকঃ ‌‘সিরাজদ্দৌলা’

ভেঙো না ভেঙো না বঁধু তরুণ চামেলি

বাণী

ভেঙো না ভেঙো না বঁধু তরুণ চামেলি-শাখা।
ফুলের নজ্‌রানা এর আজিও পাতায় ঢাকা।।
	কুঞ্জ-দ্বারে থাকি’ থাকি’
	বৃথা এত ডাকাডাকি,
আজিও এ বনের পাখি ঘুমায় হের গুটিয়ে পাখা।।
	অসময়ে হে রসময়
	ভাঙিয়ো না লতার হৃদয়,
তনুতে এলে অনুরাগ হেরিবে না ফাঁকা ফাঁকা।।
	আসছে-ফাগুন মাসে
	আসিও ইহার পাশে,
আজ যে-লতা কয় না কথা, সেদিন তা'য় যাবে না রাখা।।

না-ই পরিলে নোটন-খোঁপায় ঝুমকো জবার ফুল

বাণী

না-ই পরিলে নোটন-খোঁপায় ঝুমকো জবার ফুল (রানী)
এমনি এসো (ওগো) লুটিয়ে পিঠে আকুল এলোচুল।।
	সজ্জা-বিহীন লজ্জা নিয়ে
	এমনি তুমি এসো প্রিয়ে
গোলাপ ফুলের রঙ মাখাতে হয় যদি হোক ভুল।।
গৌর দেহে নাই জড়ালে গৌরী চাঁপার শাড়ি
ওগা ভূষণ পরে না-ই বা দিলে রূপের সাথে আড়ি।
	যেমন আছ তেমনি এসো
	নয়ন তুলে একটু হেসো
সেই খুশিতে উঠবে দুলে আমার হৃদয় কুল।।