হেরি আজ শূন্য নিখিল

বাণী

হেরি আজ শূন্য নিখিল, প্রিয় তোমারি বিহনে।
কোথা হায় তুমি কোথায় উঠিছে কাঁদন পবনে।।
কেন বা এলে তুমি কেন বা বিদায় নিলে,
স্বপনে দিয়ে দেখা মিশালে জাগরণে।।
কান্তা-বিরহে হেথা ক্লান্ত কপোত কাঁদে,
সে কোথায় গেছে উড়ে’ সাথি তার কোন গগনে।
আঁধার ঘরে মম কেন জ্বালালে বাতি,
যদি নিভায়ে দেবে ছিল গো তোমার মনে।।
ভাসিয়া চলেছি আজ স্রোতের কুসুম সম,
নিরাশার পাথার-জলে তোমারি অন্বেষণে।।

জগতে আজিকে যারা

বাণী

জগতে আজিকে যারা
আগে চলে ভয়-হারা
ডেকে যায় আজি তারা,
		চল্‌ রে সুমুখে চল।
পিছু পানে চেয়ে’ মিছে
প’ড়ে আছি সব নীচে,
চাস্‌নে রে তোরা পিছে
		অগ্র-পথিক দল।।
চলার বেগে উঠবে জেগে বনে নূতন পথ
বর্তমানের পানে মোদের চল্‌বে অরুণ-রথ,
অতীত আজি পতিত রে ভাই, রচ্‌ব ভবিষ্যৎ।
স্বর্গ মোরা আন্‌ব, না হয় যাব রসাতল।।
	রইব না পিছে প’ড়ে
	অতীতের কঙ্কাল ধ’রে,
বইবে নব জীবন-স্রোত যৌবন-চঞ্চল।
বিশ্ব-সভাঙ্গনে সকল জাতির সনে
বসিব সম-আসনে গৌরব-উজ্জ্বল।।

বল্ সখি বল্ ওরে স'রে যেতে বল্

বাণী

বল্ সখি বল্ ওরে স'রে যেতে বল্।
মোর মুখে কেন চায় আঁখি-ছলছল,
	ওরে স'রে যেতে বল।।
পথে যেতে কাঁপে গা শরমে জড়ায় পা,
মনে হয় সারা পথ হয়েছে পিছল
	ওরে স'রে যেতে বল।।
জল নিতে গিয়ে সই ওর চোখে চেয়ে রই
সান-বাঁধা ঘাট যেন কাঁপে টলমল
	ওরে স'রে যেতে বল।।
প্রথম বিরহ মোর
চায় কি ও চিত-চোর;
চাঁদিনী চৈতী রাতে আনে সে বাদল
	স'রে যেতে বল
	ওরে স'রে যেতে বল।।

রাখিস্‌নে ধরিয়া মোরে ডেকেছে মদিনা

বাণী

রাখিস্‌নে ধরিয়া মোরে, ডেকেছে মদিনা আমায়।
আরাফাত্‌ময়দান হতে তারি তক্‌বীর শোনা যায়।।
কেটেছে পায়ের বেড়ি, পেয়েছি আজাদী ফরমান,
কাটিল জিন্দেগী বৃথাই দুনিয়ার জিন্দান-খানায়।।
ফুটিল নবীর মুখে যেখানে খোদার বাণী
উঠিল প্রথম তক্‌বীর ‘আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি,
যে দেশে পাহাড়ে মুসা দেখিল খোদার জ্যোতি — 
রব না দারুল হরবে যেতে দে যেতে দে সেথায়।।
যে দেশে ধূলিতে আছে হজরতের চরণ-ধূলি
সে ধূলি করিব সুরমা চুমিব নয়নে তুলি’,
যে দেশের মাটিতে আছে নবীজীর মাজার শরিফ — 
নবীজীর দেহের পুষ্প ভাসে রে যে দেশের হাওয়ায়।।

সর্ব প্রথমে বন্দনা গাই তোমারই

বাণী

সর্ব প্রথমে বন্দনা গাই তোমারই ওগো বারিতালা।
তারপরে দরুদ পড়ি মোহাম্মদ সাল্লে আলা।।
সকল পীর আর দেবতা-কুলে
সকল গুরুর চরণ-মূলে,
জানাই সালাম হস্ত তুলে
দোওয়া কর তোমরা সবে, হয় যেন গো মুখ উজালা।
সর্ব প্রথমে বন্দনা গাই তোমারই ওগো খোদাতা’লা।।

সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে

বাণী

সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে তুমি আমারে ছুঁইয়াছিলে।
অনুরাগ–কুম্কুম দিলে দেহে মনে, বুকে প্রেম কেন নাহি দিলে।।
বাঁশি বাজাইয়া লুকালে তুমি কোথায় —
যে ফুল ফোটালে সে ফুল শুকায়ে যায়
কী যেন হারায়ে প্রাণ করে হায় হায় —
কী চেয়েছিলে — কেন কেড়ে নাহি নিলে।।
জড়ায়ে ধরিয়া কেন ফিরে গেলে বল কোন্ অভিমানে,
কেন জাগে নাকো আর সে মাধুরী রস–আনন্দ–প্রাণে।
	তোমারে বুঝি গো বুঝেছিনু আমি ভুল
	এসেছিলে তুমি ফোটাতে প্রেম–মুকুল,
কেন আঘাত করিয়া প্রিয়তম, সেই ভুল নাহি ভাঙাইলে।।