ওরে হুলো রে তুই রাত বিরেতে

বাণী

ওরে		হুলো রে তুই রাত বিরেতে ঢুকিস্‌নে হেঁসেল্।
তুই		কবে বেঘোরে প্রাণ হারাবি বুঝিস্‌নে রাস্কেল্।।
আমি		স্বীকার করি শিকারি তুই তোর গোঁফ দেখেই চিনি,
		গাছে কাঁঠাল ঝুলতে দেখে দিস্ গোঁফে তুই তেল।।
		ওরে ছোঁচা ওরে ওঁছা বাড়ি বাড়ি তুই হাঁড়ি খাস,
		নাদ্‌নার বাড়ি খেয়ে কোন্‌দিন ধনে প্রাণে বা মারা যাস্‌,
কেঁদে		মিয়াঁও মিয়াঁও ব’লে বিবি বেরালি করবে রে হার্টফেল।।
		তানপুরারই সুরে যখন তখন গলা সাধিস্,
শুনে		ভুলো তোরে তেড়ে আসে, ন্যাজ তুলে ছুটিস্,
তোরে	বস্তা পু’রে কবে কে চালান দিবে ধাপা-মেল।।
		বৌঝি যখন মাছ কোটে রে, তুমি খোঁজ দাঁও,
		বিড়াল-তপস্বী আড়নয়নে থালার পানে চাও,
তুই		উত্তম মধ্যম খা’স এত তবু হ’ল না আক্কেল।।

ব্যথা দিয়ে প্রাণ ব্যথা না পায়

বাণী

ব্যথা দিয়ে প্রাণ ব্যথা না পায় — 
ওগো, অকরুণ, লহ বিদায়।।
এ পথে যায় না পথিক, ভুল করে রূপ-সন্ধানে,
এ মেঘে নাই বরিষণ, চম্‌কে চিকুর বাজ হানে।
কাঁটা-নিকুঞ্জে এ মোর আর না মুকুল মুঞ্জরে,
উদাসীর মন বেঁধে না আর নয়নের ফুল-শরে।
ভুলে গেছে পাখি তার সুর-সাধায়।।
আমারে চাও না যদি চাও মালিকার বন্ধনে,
পূজারীর প্রাণ না চাও খালি ধূপ-চন্দনে।
ফিরে যাও যাও মধুকর, আর নিলাজের গুঞ্জনে,
ছলনার জাল বুনো না এই বেদনার-ফুল-বনে।
মিছে চেয়ে থাকা মোর মন কাঁদায়।।

দূর আজানের মধুর ধ্বনি বাজে বাজে

বাণী

দূর আজানের মধুর ধ্বনি বাজে বাজে মসজিদেরই মিনারে।
এ কী খুশির অধীর তরঙ্গ উঠলো জেগে’ প্রাণের কিনারে।।
মনে জাগে হাজার বছর আগে
	ডাকিত বেলাল এমনি অনুরাগে,
তাঁর খোশ এলেহান, মাতাইত প্রাণ গলাইত পাষাণ ভাসাইত মদিনারে
		প্রেমে ভাসাইত মদিনারে।।
তোরা ভোল গৃহকাজ, ওরে মুসলিম থাম
চল খোদার রাহে, শোন, ডাকিছে ইমাম।
মেখে’ দুনিয়ারই খা, বৃথা রহিলি না-পাক,
চল মসজিদে তুই, শোন মোয়াজ্জিনের ডাক,
তোর জনম যাবে বিফলে যে ভাই এই ইবাদতে বিনা রে।।

আয় আয় যুবতী তম্বী

বাণী

আয় আয় যুবতী তম্বী।
জ্বালো জ্বালো লালসার বহ্নি।।
হান হান হান নয়ন-বাণ
তনুর পেয়ালা ভরি মদিরা আন।।

নাটক : ‘হরপার্বতী’

কালো জল ঢালিতে সই

বাণী

		কালো জল ঢালিতে সই চিকন কালারে পড়ে মনে।
		কালো মেঘ দেখে শাওনে সই পড়্ল মনে কালো বরণে॥
			কালো জলে দীঘির বুকে
			কালায় দেখি নীল-শালুকে
(আমি)	চম্‌কে উঠি, ডাকে যখন কালো কোকিল বনে॥
		কল্‌মিলতার চিকন পাতায় দেখি আমার শ্যামে লো
		পিয়া ভেবে দাঁড়াই গিয়ে পিয়াল গাছের বামে লো।
			উড়ে গেলে দোয়েল পাখি
			ভাবি কালার কালো আঁখি
		আমি নীল শাড়ি পরিতে নারি কালারি কারণে লো কালারি কারণে॥

সেদিন নিশীথে মোর কানে কানে

বাণী

সেদিন নিশীথে মোর কানে কানে যে কথাটি গেছ বলে
প্রথম মুকুল হয়ে সেই বাণী মালতী লতায় দোলে।।
	সে-কথাটি আবার শুনিবে বলিয়া
	আড়ি পাতে চাঁদ মেঘে লুকাইয়া
চাহে চুপি চুপি পিয়াসি পাপিয়া ঘন পল্লব তলে।।
বসে আছি সেই মালতী বিতানে আজ তুমি নাই কাছে —
ম্লান মুখে পথ চাহে ফুলগুলি আঁধার বকুল গাছে।
	দখিনা বাতাস করে হায় হায়
	ঝরিছে কুসুম শুকনো পাতায়
নিবু নিবু হল তোমার আশায় চাঁদের প্রদীপ জ্বলে।।