সঙ্ঘ শরণ তীর্থযাত্রা পথে এসো

বাণী

সঙ্ঘ শরণ তীর্থযাত্রা-পথে এসো মোরা যাই।
সঙ্ঘ বাঁধিয়া চলিলে অভয় সে পথে মৃত্যু নাই।।
সঙ্ঘবদ্ধ হইলে তাদের সাথে,
ঐশী শক্তি সহায় হইয়া চলে হাত রেখে হাতে
সঙ্ঘবদ্ধ হইলে সারথি ভগবানে মোরা পাই।।
সঙ্ঘ শক্তি আসিলে সর্ব ক্লৈব্য হইবে লীন,
চল্লিশ কোটি মানুষ এই ভারতে
ভিন্ন হইয়া ডাকি ঠাঁই ঠাঁই, তাই মোরা পরাধীন।
মোরা সঙ্ঘবদ্ধ হই যদি একবার
জাতি ও ধর্ম ভেদ রবে নাকো আর
পাব সাম্য, শান্তি, অন্ন, বস্ত্র পুনঃ সবাই।।

ওরে কে বলে আরবে নদী নাই

বাণী

ওরে	কে বলে আরবে নদী নাই
যথা	রহমতের ঢল বহে অবিরল
দেখি	প্রেমে-দরিয়ার পানি
		যেদিকে চাই।।
যাঁর	ক্বাবা ঘরের পাশে আব-এ-জমজম
যথা	আল্লা-নামের বাদল ঝরে হরদম,
		যথা ঝরে হরদম-
যার	জোয়ার এসে দুনিয়ার দেশে দেশে
(ওরে)	পুণ্যের গুলিস্তান রচিল দেখিতে পাই।।
যার	ফোরাতের পানি আজো ধরার ‘পরে
	নিখিল নর-নারীর চোখে ঝরে
(ওরে)	শুকায় না যে নদী দুনিয়ায়,
যার	শক্তি বন্যার তরঙ্গ-বেগে
যত	বিষণ্ন-প্রাণ ওরে আনন্দে উঠল জেগে
যাঁর	প্রেম-নদীতে,যাঁর পুণ্য-তরীতে
		মোরা ত'রে যাই।।

চাঁদের পিয়ালাতে আজি

বাণী

চাঁদের পিয়ালাতে আজি জোছনা-শিরাজি ঝরে।
ঝিমায় নেশায় নিশীথিনী সে-শরাব পান ক’রে।।
	সবুজ বনের জল্‌সাতে
	তৃণের গালিচা পাতে,
উতল হাওয়া বিলায় আতর চাঁপার আতরদানি ভ’রে।।
সাদা মেঘের গোলাব-পাশে ঝরিছে গোলাব-পানি,
রজনীগন্ধার গেলাসে রজনী দেয় সুরা আনি’।
	কোয়েলিয়া কুহু কুহু
	গাহে গজল মুহু মুহু,
সুরের নেশা সুরার নেশা লাগে আজি চরাচরে।।

মোর প্রিয়া হবে এসো রানী

বাণী

মোর প্রিয়া 	হবে এসো রানী দেব খোঁপায় তারার ফুল
	কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির চৈতী চাঁদের দুল।।
		কণ্ঠে তোমার পরাবো বালিকা
		হংস –সারির দুলানো মালিকা
	বিজলী জরীণ ফিতায় বাঁধিব মেঘ রঙ এলো চুল।।
	জোছনার সাথে চন্দন দিয়ে মাখাব তোমার গায়
	রামধনু হতে লাল রঙ ছানি’ আলতা পরাবো পায়।
		আমার গানের সাত সুর দিয়া
		তোমার বাসর রচিব প্রিয়া।
	তোমারে ঘিরিয়া গাহিবে আমার কবিতার বুলবুল।।

ফোরাতের পানিতে নেমে

বাণী

ফোরাতের পানিতে নেমে 
ফাতেমা দুলাল কাঁদে অঝোর নয়নে রে।।
দু'হাতে তুলিয়া পানি 
ফেলিয়া দিলেন অমনি — পড়িল কি মনে রে।।
দুধের ছাওয়াল আসগর এই পানি চাহিয়ে রে,
দুশ্‌মনের তীর খেয়ে বুকে ঘুমাল খুন পিয়ে রে;
শাদীর নওশা কাশেম শহীদ এই পানি বিহনে রে।।
এই পানিতে মুছিল রে হাতের মেহেদী সকিনার,
এই পানিরই ঢেউয়ে ওঠে, তারি মাতম্‌ হাহাকার;
শহীদানের খুন মিশে আছে, এই পানিরই সনে রে।।
বীর আব্বাসের বাজু শহীদ হ'ল এরি তরে রে,
এই পানির বিহনে জয়নাল খিয়াম তৃষ্ণায় মরে রে;
শোকে শহীদ হ'লেন হোসেন জয়ী হয়েও রণে রে।। 

জাগো দুস্তর পথের নব যাত্রী

বাণী

জাগো	দুস্তর পথের নব যাত্রী
		জাগো জাগো!
ঐ	পোহাল তিমির রাত্রি।।
	দ্রীম দ্রীম দ্রীম রণ-ডঙ্কা
	শোন বোলে নাহি শঙ্কা!
	আমাদের সঙ্গে নাচে রণ-রঙ্গে
	দনুজ-দলনী বরাভয়-দাত্রী।।
	অসম্ভবের পথে আমাদের অভিযান
	যুগে যুগে করি মোরা মানুষেরে মহীয়ান।
	আমরা সৃজিয়া যাই নতুন যুগভাই
	মোরা নবতম ভারত-বিধাত্রী।।
	সাগরের শঙ্খ ঘন ঘন বাজে,
	রণ-অঙ্গনে চল কুচকাওয়াজে।
	বজ্রের আলোকে মৃত্যুর মুখে
	দাঁড়াব নির্ভীক উগ্র সুখে
	ভারত-রক্ষী মোরা নব শাস্ত্রী।।