সকাল সাঁঝে প্রভু সকল কাজে

বাণী

সকাল সাঁঝে প্রভু সকল কাজে উঠুক তোমারি নাম —
				বেজে উঠুক তোমারি নাম।
নিশীথ রাতে তারার মত উঠুক তোমারি নাম —
				বেজে উঠুক তোমারি নাম।।
তরুর শাখায় ফুলের সম
বিকশিত হোক (প্রভু) তব নাম নিরুপম,
সাগর মাঝে তরঙ্গ সম বহুক তোমারি নাম।।
পাষাণ শিলায় গিরি নির্ঝর সম বহুক তোমারি নাম
অকুল সমুদ্রে ধ্রুবতারা-সম জাগি’ রহুক তব নাম
				প্রভু জাগি’ রহুক তব নাম।
	শ্রাবণ দিনে বারি ধারার মত
	ঝরুক ও নাম প্রভু অবিরত
মানস কমল বনে মধুকর সম লুটুক তোমারি নাম।।

নাটক: ‌‘রূপকথা’

ভক্ত নরের কাছে হে নারায়ণ

বাণী

ভক্ত নরের কাছে হে নারায়ণ চিরদিন আজ হারি
তাই তো তোমায় নামায়েছি ব্রজে গোলক হইতে কাড়ি।।
চতুর্ভুজের দ্বিভুজ হরিয়া বেঁধেছি যশোদা দুলাল করিয়া
বনমালা পীত বসন পরিয়া হয়েছ ময়ূর মুকুটধারী।।
রাঙা পায়ে তব নূপুর পরায়ে নাচায়েছি পথ মাঝে
হাতে দিয়ে বেণু সাথে দিয়ে ধেণু সাজানু গোপাল সাজে।
ভগবান বলে মোরা না ধেয়াই চোর কপট নিঠুর বলি তাই
সুমধুর গালি দিয়েছি কানাই বামে দিয়ে রাধা প্যারী।।

আল্লাতে যার পূর্ণ ঈমান কোথা সে মুসলমান

বাণী

আল্লাতে যার পূর্ণ ঈমান কোথা সে মুসলমান
কোথা সে আরিফ অভেদ যাহার জীবন মৃত্যু জ্ঞান।।
(যাঁর)	মুখে শুনি তৌহিদের কালাম —
	ভয়ে মৃত্যুও করিত সালাম।
যাঁর দীন দীন রবে কাঁপিত দুনিয়া জীন পরি ইনসান্‌।।
স্ত্রী পুত্রে আল্লারে সঁপি জেহাদে যে নির্ভীক।
হেসে কোরবানি দিত প্রাণ হায় আজ তারা মাগে ভিখ্‌।
	কোথা সে শিক্ষা আল্লাহ্‌ ছাড়া,
	ত্রিভুবনে ভয় করিত না যাঁরা।
আজাদ করিতে এসেছিল যাঁরা সাথে লয়ে কোর্‌আন্‌।।

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি

বাণী

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি আঘাত করেছ, স্বামী,
সে পাষাণ দিয়ে তোমার পূজায় এ মিনতি রাখি আমি।।
	যে আগুন দিলে দহিতে আমারে
	হে নাথ, নিভিতে দিইনি তাহারে;
আরতি প্রদীপ হয়ে তারি বিভা বুকে জ্বলে দিবা-যামী।।
তুমি যাহা দাও প্রিয়তম মোর তাহা কি ফেলিতে পারি,
তাই নিয়ে তব অভিষেক করি নয়নে দিলে যে বারি।
	ভুলিয়াও মনে কর না যাহারে,
	হে নাথ, বেদনা দাও না তাহারে,
ভুলিতে পারো না মোরে, ব্যথা দেওয়া ছলে, তাই নিচে আসো নামি'।।

জানি আমার সাধনা নাই আছে তবু সাধ

বাণী

জানি আমার সাধনা নাই আছে তবু সাধ।
তুমি আপনি এসে দেবে ধরা দূর-আকাশের চাঁদ।।
	চকোর নহি মেঘও নহি
	আপন ঘরে বন্দী রহি’
আমি শুধু মনকে কহি কাঁদ নিশি দিন কাঁদ।।
কূল-ডুবানো জোয়ার কোথা পাব হে সুন্দর?
হে চাঁদ আমি সাগর নহি পল্লী-সরোবর।
	নিশীথ রাতে আমার নীরে,
	প্রেমের কুমুদ ফোটে ধীরে,
মোর ভীরু প্রেম যেতে নারে ছাপিয়ে লাজের বাঁধ।।

বাঁকা শ্যামল এলো বন-ভবনে

বাণী

বাঁকা শ্যামল এলো বন-ভবনে
তার বাঁশির সুর শুনি পবনে॥
	রাঙা সে চরণের নূপুর-রোলে রে
	আকুল এ হৃদয় পুলকে দোলে রে
সে নূপুর শুনি’ নাচে ময়ূর কদম তমাল-বনে॥
	বুঝি সেই শ্যামের পরশ লাগিল
	আমার চরণে তাই নাচন জাগিল —
ঘিরি শ্যামে দখিন-বামে নেচে বেড়াই আপন মনে॥
	এলো মাধবী চাঁদ গগন আঙিনায়
	জোয়ার এসেছে তাই হৃদয় যমুনায়
খুলিয়া গলার মালা পরাব শ্যামেরি বরণে॥