দে দোল্ দে দোল্‌ ওরে দে দোল্‌

বাণী

দে দোল্‌ দে দোল্‌ ওরে দে দোল্‌ দে দোল্‌
জাগিয়াছে ভারত সিন্ধু তরঙ্গে কল-কল্লোল।।
পাষাণ গলেছে রে অটল টলেছে রে
জেগেছে পাগল রে ভেঙেছে আগল।।
বন্ধন ছিল যত হল খানখান রে
পাষাণ পুরীতে ডাকে জীবনেরি বান রে
মৃত্যু ক্লান্ত আজি কুড়াইয়া প্রাণ রে
দুর্মদ যৌবন আজি উতরোল।।
অভিশাপ রাত্রির আয়ু হল ক্ষয় রে
আর নাহি অচেতন আর নাহি ভয় রে
আজও যাহা আসেনি আসিবে সে জয় রে
আনন্দ ডাকে দ্বারে খোল দ্বার খোল।।

জাগো বনলক্ষ্মী জোছনা বিগলিত

বাণী

জাগো বনলক্ষ্মী! জোছনা বিগলিত চৈতালি নিশীথে।
রাঙাও দশদিশি লজ্জা-অরুণ রূপ-সজ্জায় বনশ্রীতে।।
	তব আলোছায়ার ডুরে শাড়ির আঁচল
	লুটাক বকুল তলে সুখ-বিহ্বল,
তব লতা কবরী হের পুষ্প ভারে হ’ল —
	অবনমিতা অগ্নি অসম্বৃতে।।
পর গিরি-ঝর্নার শতনরী হার হে বনলক্ষ্মী!
বিহর-শীর্ণা দেহে (নব যৌবনের) জাগুক জোয়ার হে বনলক্ষ্মী!
	ঝংকৃত হোক বনভূমি নিঝ্ঝুম
	পুষ্পিত মাধবীর পর কঙ্কণ,
আলতা পর কলি পলাশ রঙ্গন — ভ্রমর-গুঞ্জন-নূপুর-গীতে।।

১. বিহগিত

নাটক : ‘মধুমালা’ (বন-বালিকাদের গান)

এলো ঐ পূর্ণ শশী ফুল-জাগানো

বাণী

এলো ঐ		পূর্ণ শশী		ফুল-জাগানো
বহে বায়		বকুল-বনে		ঘুম-ভাঙানো।।
লাগিল		জাফরানি-রঙ	শিউলি-ফুলে
ফুটিল			প্রেমের কুঁড়ি		পাপড়ি খুলে,
খুশির আজ		আমেজ জাগে	মন-রাঙানো।।
চাঁদিনী		ঝিলমিলায়		ঝিলের জলে,
আবেশে		শাপলা ফুলের	মৃণাল টলে,
জাগে ঢেউ		দীঘির বুকে		দোল-লাগানো।।
এসো আজ		স্বপন-কুমার		নিরিবিলি
খুলিয়া		গোপন প্রাণের	ঝিলিমিলি,
এসো মোর		হতাশ প্রাণে		ভুল-ভাঙানো।।

শ্রান্ত হৃদয় অনেক দিনের

বাণী

শ্রান্ত হৃদয় অনেক দিনের অনেক কথার ভারে।
হে বিরহী, গেলে চ’লে, শুনলে নাকো তারে।।
	আমার মুখের সে-কথা, হায়!
	শুনতে এলে অনেক আশায়,
ফুটেছে সেই কথার মুকুল বিজন অন্ধকারে।।
যে কথা, হায়! বলতে এলে, গেলে নাকো ব’লে,
মালা গাঁথার ফুলগুলিরে গেলে পায়ে দ’লে।
	সেই ফুলে আজ মালা গাঁথি’
	তোমার আশায় জাগি রাতি,
তোমার চ’লে যাওয়ার পথ ধুয়ে দিই আকুল নয়ন-ধারে।।

যুঁই-কুঞ্জে বন-ভোমরা কেন গুঞ্জে গুন্‌গুন্

বাণী

যুঁই-কুঞ্জে বন-ভোমরা কেন গুঞ্জে গুন্‌গুন্।
প্রেম-ঝর্নার মধু-মঞ্জরি বাজে বক্ষে রুনুঝুন্।।
মন-গোলাপের পাপড়ি কাঁপে কেন গো
স্বপন দেখে পালিয়ে যাওয়া বুল্‌বুলি যেন গো,
চুড়ি কঙ্কণে কোন্ আন্‌মনা সাকি পেয়ালা বাজায় রিনিঠিনি ঠুনঠুন।।
ছল ছল চোখে চাঁদ আসমানে জলসায়
সঙ্গিনী তারাদের ভুলে ধরার কুমুদীর পানে কেন চায়,
হৃদয়ের এই নির্দয় খেলা দেখে হাস্নুহানা হেসে খুন।।

ভুল করে আসিয়াছি অপরাধ যেয়ো ভুলে

বাণী

ভুল করে আসিয়াছি অপরাধ যেয়ো ভুলে’।
দেবতা চাহে কি ফুল মরে যবে পদমূলে।।
	ভুলে গেছি স্বপন-ঘোরে
	তুমি যে ভুলেছ মোরে,
তবু খুঁজি স্মৃতির রেখা ভাঙন-ধরা মনের কূলে।।
নাহি মনে — ব্যথা দিয়ে কবে কথা কয়েছিলে
বিশ্ব আমার শূন্য ক’রে কবে বঁধু বিদায় নিলে,
হাসি-মুখখানি শুধু মনে ওঠে দুলে’ দুলে’।।
আমার স্মৃতির চিতা পুড়িয়ে সে-কত বাকি
দেখিয়া চলিয়া যাব যে দেশে নাই তোমার আঁখি,
তুমি থাক হাসির দেশে, আমি হতাশার কূলে।।