ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি

বাণী

ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি?
ভোরের হাওয়ায় কান্না পাওয়ায় তব ম্লান ছবি
		নীরব কেন কবি।।
যে বীণা তোমার কোলের কাছে
বুক-ভরা সুর ল’য়ে জাগিয়া আছে,
তোমার পরশে ছড়াক্‌ হরষে
আকাশে-বাতাসে তা’র সুরের সুরভি
		নীরব কেন কবি।।
তোমার যে প্রিয়া গেল বিদায় নিয়া অভিমানে রাতে —
গোলাপ হয়ে কাঁদে তাহারই কামনা উদাস-প্রাতে।
ফিরে যে আসিবে না ভোলো তাহারে
চাহ তাহার পানে দাঁড়ায়ে যে দ্বারে,
অস্ত-চাঁদের বাসনা ভুলাতে
অরুণ-অনুরাগে উদিল রবি
		নীরব কেন কবি।।

শিব-অনুরাগিণী গৌরী জাগে

বাণী

শিব-অনুরাগিণী গৌরী জাগে।
আঁখি অনুরঞ্জিত প্রেমানুরাগে।।
	স্বপনে কি শিব এসে
	বর দিল বর-বেশে,
বালিকা বলিতে নারে, শরম লাগে।।
‘কি হয়েছে উমা তোর’ — গিরিরানী সাধে,
কে মাখালো কুম্‌কুম্‌ ভোরের চাঁদে?
	লুকায় মায়ের বুকে
	বলিতে বাধে মুখে,
পাগল শিব ঐ রূপ-ভিক্ষা মাগে।।

মোর বুক ভরা ছিল আশা

বাণী

মোর বুক ভরা ছিল আশা প্রাণ ভরা ভালোবাসা।
হায় আসিল সে যবে কাছে মুখে সরিল না ভাষা।।
	আমি পেয়েছিলাম তায় একা
	ছিল চোখে তাহার প্রেম-লেখা,
তবু বলিতে পারিনি তারে কাঁদে প্রাণে কি দুরাশা।।
	এসে ভরা নদীর তীরে
	পান না করিয়া বারি
	আমি আসিলাম ফিরে — 
ছিল তৃষ্ণা-কাতর এ প্রাণে মরুভূমির পিয়াসা।।

কি হবে জানিয়া বল

বাণী

কি হবে জানিয়া বল কেন জল নয়নে
তুমি তো ঘুমায়ে আছ সুখে ফুল-শয়নে।।
তুমি কি বুঝিবে বালা কুসুমে কীটের জ্বালা,
কারো গলে দোলে মালা কেহ ঝরে পবনে।।
আকাশের আঁখি ভরি’ কে জানে কেমন করি’
শিশির পড়ে গো ঝরি’, ঝরে বারি শাওনে।
নিশীথে পাপিয়া পাখি এমনি তো ওঠে ডাকি’
তেমনি ঝুরিছে আঁখি বুঝি বা অকারণে।।
কে শুধায়, আঁধার চরে চখা কেন কেঁদে মরে,
এমনি চাতক-তরে মেঘ ঝুরে গগনে।।
কারে মন দিলি কবি, এ যে রে পাষাণ-ছবি
এ শুধু রূপের রবি নিশীথের স্বপনে।।

আজি আকাশ মধুর বাতাস মধুর

বাণী

আজি আকাশ মধুর বাতাস মধুর, মধুর গানের সুর
			আজি ভুবন লাগে মধুর।
পরানের কাছে যেন আসিয়াছে হারানো প্রিয়া সুদূর।।
	একি মাধুরী জড়িত লতায় পাতায়,
	যাহা হেরি তাই পরান মাতায়,
অবনি ভরিয়া ঝরিছে লাবনি মাধুরীতে ভরপুর।।
আগেও ফুটেছে এ গাঁয়ের মাঠে পথপাশে ভাঁটফুল,
এই পথ বেয়ে জলে যেত বধূ পিঠভরা এলোচুল।
	আজ মনে হয় নতুন সকলি
	মধুময় লাগে বিহগ কাকলি
আজি অকারণ নেচে ফেরে মন যেন বনের ময়ূর।।

শোনো লো বাঁশিতে ডাকে

বাণী

শোনো লো বাঁশিতে ডাকে আমারে শ্যাম।
গুমরিয়া কাঁদে বাঁশি ল’য়ে ‘রাধা রাধা’ নাম।।
	পিঞ্জরে পাখি যেন
	লুটাইয়া কাঁদে মন,
আশে পাশে গুরুজন বাম।।