সই নদীর পারে বকুল তলায় সুবাস শীতল ছায়

বাণী

		সই নদীর পারে বকুল তলায় সুবাস শীতল ছায়
(সখি)	আকুল তাহার আঁখি দুটি কাহার পানে চায়॥
		সই যা না লো দাঁড়ায়ে, কাঁটা বিঁধেছে মোর পায়ে
		তোরা দাঁড়া সখি ক্ষণেক, (সখি) ওকি হাসিস্ কেন হায়॥
		আমার কলসিটি যে ভারি, ডালে বেঁধেছে মোর শাড়ি
		তোরা বলিস ছলে হেরি ওরে (ওলো) ছি ছি একি দায়!
		যদি হেরেই থাকি ওরে, তোরা দুষিস্ কেন মোরে
ওলো		আমার আমি বশে নাই মোর (পাগল) আঁখির নেশায়॥

রাখাল রাজ কি সাজে সাজালে

বাণী

রাখাল রাজ! কি সাজে সাজালে আমায় আজ!
আমার ঘরের ভূষণ কেড়ে নিয়ে দিলে চির-পথিক সাজ।।
তোমার পায়ের নূপুর আমায় দিয়ে ঘোরাও পথে-ঘাটে নিয়ে,
বেড়াই বাউল একতারা বাজিয়ে হে, (ও মরি হায় রে)
এই ভুবন-নাটে বেড়াই ভুলে শরম-ভরম-লাজ।।
তোমার নৃত্য-খেলার নিত্য-সাথি আনন্দেরি গোঠে হে,
জীবন-মরণ আমার সহজ চরণ-তলে লোটে হে।
আমার হাতে দিলে সর্বনাশী ঘর-ভোলানো তোমার বাঁশি,
কাজ ভুলাতে যখন তখন আসি হে’ (ও মরি হায় রে)
আমার ভবন কেড়ে — দিলে ছেড়ে বিশ্বভুবন-মাঝ।।

হায় হায় উঠিল মাতম আকাশ পবন ভুবন ভরি

বাণী

হায় হায় উঠিল মাতম আকাশ পবন ভুবন ভরি’।
আখেরি নবী দ্বীনের রবি বিদায় নিল বিশ্ব-নিখিল আঁধার করি’।।
অসীম তিমিরে পুণ্যের আলো
আনিল যে চাঁদ, সে কোথায় লুকালো
আকাশে ললাট হানি’ কাঁদিছে মরুভূমি
শোকে গ্রহ-তারকা পড়িছে ঝরি’।।
তৃণ নাহি খায় উট, মেষ নাহি মাঠে যায়;
বিহগ-শাবক কাঁদে জননীরে ভুলি হায়!
বন্ধুর বিরহ কি সহিল না আল্লার,
তাই তারে ডাকিয়া নিল কাছে আপনার’;
হায় কান্ডারি গেল চ’লে রাখিয়া পারের তরী।।

বৈতালিক

ভক্তি ভরে পড় রে তোরা কলমা শাহাদাত

বাণী

ভক্তি ভরে পড় রে তোরা কলমা শাহাদাত।
আরশ হতে আনলেন নবী বেহেশ্‌তী দাওয়াত
			এই কল্‌মা শাহাদাত।।
পাপে তাপে আছিস্‌ ডুবে একবার বল ভুলে
কলমা শাহাদাতের বাণী, অমনি উঠবি কূলে,
নিভবে দোজখের আগুন পাবি শাফায়ত।।
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র তাবিজ বেঁধে হাতে
চল রে পথে দেখবি — আছেন নবীজী তোর সাথে,
(তোর) ইহলোকের পরলোকের মিটবে রে হসরত্।।

সাম্যের গান গাই (দ্বিতীয় খন্ড)

বাণী

সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
পুরুষ-হৃদয়হীন,
মানুষ করিতে নারী দিল তারে আধেক হৃদয় ঋণ।
ধরায় যাদের যশ ধরে না ক’ অমর মহামানব,
বরষে বরষে যাদের স্মরণে, করি মোরা উৎসব,
খেয়ালের বশে তাদের জম্ম দিয়াছে বিলাসী পিতা।
লব-কুশে বনে ত্যাজিয়াছে রাম, পালন করেছে সীতা!
নারী সে শিখাল শিশু-পুরুষেরে, স্নেহ প্রেম, দয়া মায়া,
দীপ্ত নয়নে পরল কাজল বেদনার ঘন ছায়া।
সে-যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না ক’, নারীরা আছিল দাসী!
বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যর যুগ আজি,
কেহ রহিবেনা বন্দী কাহারও, উঠিছে ডঙ্কা বাজি’!
নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পর যুগে
আপনারি রচা ঐ কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে।
যুগের ধর্ম এই-
পীড়ন করিলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই!
স্বর্ণ-রৌপ্য অলঙ্কারের যক্ষপুরিতে নারী
করিল তোমায় বন্দিনী, বল, কোন্‌ সে অত্যাচারী?
যে ঘোম্‌টা তোমা করিয়াছে ভীরু, উড়াও সে আবরণ!
দূর ক’রে দাও দাসীর চিহ্ন যেথা যত আভরণ!
কখন আসিল “প্লুটো” যমরাজা নিশিথ পাখায় উড়ে,
ধরিয়া তোমায় পুড়িল তাহার আঁধার বিবর-পুরে!
ভেঙ্গে যম্পুরী নাগিনীর মত আয় মা পাতাল ফুঁড়ি’।
আধাঁরে তোমায় পথ দেখাবে মা তোমারি ভগ্ন চুড়ি!
পুরুষ যমের ক্ষুধার কুকুর মুক্ত ও-পদাঘাতে
লুটায়ে পড়িবে ও-চরণ-তলে দলিত যমের সাথে!
সেদিন সুদূর নয়-
যে দিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়।

কবিতাঃ নারী (দ্বিতীয় খন্ড)

মম আগমনে বাজে আগমনীর সানাই

বাণী

মম আগমনে বাজে আগমনীর সানাই।
সহসা প্রাতে আমি এসেছি, জানাই।।
আমি আনি দেশে দশভূজার পূজা
কোজাগরী নিশি জাগি আমি অনুজা।
	বুকে শাপ্‌লা-কমল
	মালা দোলে টলমল,
আমি পরদেশি বন্ধুরে স্বদেশে আনাই।।