বুকে তোমায় নাই বা পেলাম

বাণী

বুকে তোমায় নাই বা পেলাম রইবে আমার চোখের জলে।
ওগো বঁধু! তোমার আসন গভীর ব্যথায় হিয়ার তলে।।
	আসবে যখন তিমির রাতি
	রইবে না কেউ জাগার সাথী,
আসবে সে-দিন জ্বালব বাতি — মুছব নয়ণ-জল আঁচলে।।
নাইবা হলাম প্রিয় তোমার, বন্ধু হ’তে দোষ কি বঁধু?
মুখের ‘মধু’র তৃষ্ণা শেষে আমি দিব বুকের মধু।
আমি ভালোবাসিনি ত’, ভালোবাসা পাবার ছলে।।
	বাহুর পাশে প্রিয়ায় বেঁধে’
	আমার তরে উঠ্‌বে কেঁদে,
সেই তো আমার জয় গো, প্রিয়, অন্তরে রই, রই না গলে।।

আবার কেন আগের মত

বাণী

আবার কেন আগের মত অমন চোখে চাও
যে বিরহ গেছি ভুলে’, ভুলতে তারে দাও।।
	শান্ত উদাস আমার আকাশ
	নাই সেথা আর মেঘের আভাস,
নির্মল সে-আকাশ কেন বাদল-মেঘে ছাও।।
	বিপুল ধরার দূর নিরালায়
	একটুখানি পেয়েছি ঠাঁই,
নিঠুর, তুমি আবার আগুন জ্বেলো না সেথাও।।

ওহে রসিক রসাল কদলী

বাণী

ওহে রসিক রসাল কদলী।
ভাবুকের তুমি ভাবের আধার পেটুকের প্রাণ-পুতলী।।
আহা, তুমি যুগে যুগে বর্তমান
বৃন্দাবনে মোহন বাঁশি বাঙলায় মর্তমান।
বহুরূপী তুমি বহুনামধারী চম্প বীচে কাঁঠালি।।
তোমার কাঁচকলা রূপের উপাসক পেট-রোগা যত ভক্ত,
ঝোলে কি ভাজায় তোমারে সাজায় (তুমি) মজাও পলতা শুক্ত।
নৈবেদ্যে ও আদ্য শ্রাদ্ধে দয়াময়, জগতের যত নর-বানর
তোমার কৃপার কাঙালি।।

কৌতুক নাটিকা : ‘পণ্ডিত মশায়ের ব্যাঘ্র শিকার’

কেন মনোবনে মালতী-বল্লরি দোলে

বাণী

কেন	মনোবনে মালতী-বল্লরি দোলে - জানি না।
কেন	মুকুলিকা ফুটে ওঠে পল্লব-তলে - জানি না।।
কেন	ঊর্মিলা-ঝরনার পাশে
সে	আপন মঞ্জরি-ছায়া দেখে' হাসে,
কেন	পাপিয়া কুহু মুহু মুহু বোলে, জানি না।।
চৈতালি-চাঁপা কয়, মালতী শোন
শুনেছিস বুঝি মধুকর গুঞ্জন,
তাই বুঝি এত মধু সুরভি উথলে —
মধু-মালতী বলে, জানি না, জানি না।।

বিদায় বেলায় সালাম লহ

বাণী

		বিদায় বেলায় সালাম লহ মাহে রমজান রোজা।
(তোমার)		ফজিলতে হালকা হ’ল গুনাহের বোঝা।।
		ক্ষুধার বদলে বেহেশ্‌তী ঈদের সুধা তুমি দিলে
		খোদার সাধনার দুঃখে কি সুখ তুমি শিখাইলে,
(তুমি)		ইশারাতে খোদায় পাওয়ার পথ দেখালে সোজা।।
		ভোগ-বিলাসী মনকে আনলে পরহেজগারীর পথে
		দুনিয়াদারী করেও মানুষ যেতে পারে জান্নাতে,
		কিয়ামতে তোমার গুণে ত্রাণ করবেন বদরুদ্দোজা।।

নাটিকা : ‘ঈদ’ (মাহ্তাবের গান)

পলাশ ফুলের মউ পিয়ে ঐ

বাণী

পলাশ ফুলের মউ পিয়ে ঐ বউ-কথা-কও উঠ্ল ডেকে।
শিশ্ দিয়ে যায় উদাস হাওয়া নেবু-ফুলের আতর মেখে।।
	এমন পূর্ণ চাঁদের রাতি
	নেই গো আমার জাগার সাথী,
ফুল-হারা মোর কুঞ্জ-বীথি — কাঁটার স্মৃতি গেছে রেখে।।
	শূন্য মনে এক্‌লা গুণি
	কান্না-হাসির পান্না-চুণী,
বিদায়-বেলার বাঁশি শুনি — আস্‌ছে ভেসে ওপার থেকে।।

১. শঙ্করা মিশ্র — দাদ্‌রা, ২. সাথে।