যাও মেঘদূত দিও প্রিয়ার হাতে

বাণী

যাও মেঘদূত, দিও প্রিয়ার হাতে
আমার বিরহ–লিপি লেখা কেয়া পাতে।।
আমার প্রিয়ার দিরঘ নিশাসে
থির হয়ে আছে মেঘ যে–দেশেরই আকাশে
আমার প্রিয়ার ম্লান মুখ হেরি’
ওঠে না চাঁদ আর যে–দেশে রাতে।।
পাইবে যে–দেশে কুন্তল–সুরভি বকুল ফুলে
আমার প্রিয়া কাঁদে এলায়ে কেশ সেই মেঘনা–কূলে।
স্বর্ণলতার সম যার ক্ষীণ করে
বারে বারে কঙ্কণ চুড়ি খুলে পড়ে
মুকুল’ বয়সে যথা বরষার ফুল–দল
বেদনায় মুরছিয়া আছে আঙিনাতে।।

হের আহিরিণী মানস-গঙ্গা

বাণী

কৃষ্ণ	: হের আহিরিণী মানস-গঙ্গা দুকূল পাথার।
রাধা	: হরি ভয়ে মরি একা নারী কিসে হব পার।।
কৃষ্ণ	: পারের কাণ্ডারি আমি প্যারী এসো আমার নায়।
রাধা	: ওগো একেলা গোপের কুলবধু আমি, তুমিও তরুণ মাঝি তায়।।
কৃষ্ণ	: যৌবন ভার ভারি পসার রাধে! তবু নাহি ভয়।
রাধা	: ওইটুকু তরী, ভয়ে মরি হরি, ভার যদি নাহি সয়।
উভয়ে	: হের মানস-গঙ্গায় উঠিয়াছে ঢেউ ঝড় বহে অনিবার।।
রাধা	: নাই পারের কড়ি পারে যাব কি করি,
কৃষ্ণ	: দিয়ে মন বাঁধা পারে চল কিশোরী।
উভয়ে	: মোরা ভেসেছি অকূলে প্রেমের গোকুলে কুলের ভয় কি আর।।

মদিনা মদিনা মদিনা

বাণী

মদিনা! মদিনা! মদিনা!
তোমায় ছাড়া আর কারেও ভালোবাসি না।।
মদিনা! তব আর একটা নাম কি
কেউ বলে ‘হাস্‌নাহেনা’ আমি তোমায় মদিনা ব’লে ডাকি।
মদিনা! আমি তোমায় ছাড়া আর কারেও জানি না।।
মদিনা! তুমি রইবে চিরদিন মোর ঘরে এসে
তোমায় আমায় মিলন হবে ভালোবেসে,
মদিনা! আমার ছেলে দু’টির ডাক নাম সানি ও নিনি, ওরা দুই ভাই
‘সানি’ ও ‘নিনি’রে যেন আপন ছেলের মত ভালোবেসো, এই আমি চাই।
আজি নওজোয়ান, আমি কবি সুন্দর, সুন্দরের পূজারি,
আমায় ভালোবাসে বাঙলার সব নরনারী।
আমার কথার ফুলে মদিনা তোমার গানের ডালা সাজাই।
মদিনা! মদিনা! মদিনা!
তোমায় ছাড়া আর কারেও ভালোবাসি না।।

নাটক : ‘মদিনা’

কেন উচাটন মন পরান এমন করে

বাণী

কেন উচাটন মন পরান এমন করে।
কেন কাঁদে গো বধূ বঁধুর বুকে বাসরে।।
	কেন মিলন-রাতে
	সলিল আঁখি-পাতে
কেন ফাগুন-প্রাতে সহসা বাদল ঝরে।।
	ডাকিলে অনুরাগে
	কেন বিদায় মাগে,
(কেন) মরিতে সাধ জাগে — পিয়ার বুকের ’পরে।।
	ডাকিয়া ফুলবনে
	থাকে সে আন্‌মনে,
কাঁদায়ে নিরজনে — কাঁদে সে নিজের১ তরে।।
	কবি, তোরে কে কবে
	সাধিল বেণুর রবে,
ধরিতে গেলি যবে — বিঁধিল কুসুম-শরে।।

১. কিসের

এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায়

বাণী

এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে ঝলমল করে লাবনি॥
রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল,
আম কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।
ঝঞ্ঝার সাথে প্রান্তরে মাঠে কভু খেল ল’য়ে অশনি॥
কেতকী-কদম-যূথিকা কুসুমে বর্ষায় গাঁথ মালিকা,
পথে অবিরল ছিটাইয়া জল খেল চঞ্চলা বালিকা।
তড়াগে পুকুরে থই থই করে শ্যামল শোভার নবনী॥
শাপলা শালুক সাজাইয়া সাজি শরতে শিশির নাহিয়া,
শিউলি-ছোপানো শাড়ি পরে ফের আগামনী-গীত গাহিয়া।
অঘ্রাণে মা গো আমন ধানের সুঘ্রাণে ভরে অবনি॥
শীতের শূন্য মাঠে তুমি ফের উদাসী বাউল সাথে মা,
ভাটিয়ালি গাও মাঝিদের সাথে গো, কীর্তন শোনো রাতে মা।
ফাল্গুনে রাঙা ফুলের আবিরে রাঙাও নিখিল ধরণী॥

আমি নহি বিদেশিনী

বাণী

	আমি নহি বিদেশিনী।
(ঐ)	ঝিলের ঝিনুক, বিলের শালুক ছিল মোর সঙ্গিনী।।
		ঐ বাঁধা-ঘাট, ঐ বালুচর
		মাটির প্রদীপ, ঐ মেটে ঘর,
	চেনে মোরে ঐ তুলসীতলার নববধূ ননদিনী।।
	‘বৌ কথা কও’ পাখি,
	বাদ্‌লা নিশীথে মনের নিভৃতে আজও যায় মোরে ডাকি’।
		এত কালো চোখ এলোকেশ-ভার
		এত শ্যাম-মেঘ আছে কোথা আর,
(ঐ)	পদ্ম-পুকুরে মোরে স্মরি’ ঝুরে সখি মোর কমলিনী।।

পাশ্চাত্য সুর