যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে

বাণী

যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে'।
তারি ঢেউ এ সঙ্গীতে মোর মুরছায় সুরের কূলে।।
	ভালোবাসা তোমরা যারে
	দু'দিনেই ভোলো গো তারে (হায়)
শরতের সজল মেঘ-প্রায় কেঁদে যাও নিমেষে ভুলে।।
	কঠিন পুরুষেরি মন
	গলিয়া বহে গো যখন
বহে সে নদীর মতন চিরদিন পাষাণ-মূলে।।
আলোর লাগি' জাগে ফুল, নদী ধায় সাগরে যেমন,
চকোর চায় চাঁদ, চাতক মেঘ, যারে চায় তায় চাহে এই রে মন।
নিয়ে যায় সুদূর অমরায় পূজে তায় বাণী-দেউলে।।

ডাল মেল পত্র মেল ওরে তরুলতা

বাণী

ডাল মেল, পত্র মেল, ওরে তরুলতা!
কইতে পার, কইতে পার আমার প্রাণের বন্ধু গেল কোথা (রে)।।
	ও তরু, তোর পাতার কোলে
	ফোটা ফুলের হাসি দোলে (রে)।
সে কি তোর কুসুমের মালা গলে বসেছিল হোথা (রে)।।
	তোর ফুল ঝরে যে যথা
	তোর ছায়া থাকে যথা।
ঢেউ-এর মালা গলায় পরে নাচিস নদী জল,
তরী বেয়ে বন্ধু আমার কোথায় গেল বল।
	চাঁদের তিলক প’রে আকাশ
	হেসে হেসে কেন তাকাস্?
তোর চাঁদ কি জানে, মোর আকাশের চাঁদেরই বারতা।।

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে

বাণী

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে
শ্রাবণ রজনী আঁধার।
বেদনা-বিজুরি-শিখা রহি’ রহি’ চমকে
মন চাহে প্রেম অভিসার॥
কোথা তুমি মাধব কোথা তুমি শ্যামরায়?
ঝরিছে নয়ন-বারি অঝোর ধারায়,
কদম-কেয়া-বনে
ডাহুকী আনমনে —
সাথি বিনা কাঁদে অনিবার॥

ঝরঝর অঝোর ধারায় ঝুরছে

বাণী

ঝরঝর অঝোর ধারায় ঝুরছে মনে রঙের ঝুরি।
দোলন-খোঁপায় দোল্ দিয়ে যায় দুলাল-চাঁপার তরুণ কুঁড়ি।।
চঞ্চলতার আবেশ লেগে আঁচল আমার রয় না গায়ে,
জরীন্ ফিতার বাঁধন টু’টে ব্যাকুল বেণী লুটায় পায়ে।
খেল্‌ছে চোখে মন্মথ আজ রতির সাথে লুকোচুরি,
নাচের তালে আপনি বাজে চপল হাতে কাঁকন চুড়ি।।

আমি নূতন ক’রে গড়ব ঠাকুর

বাণী

আমি নূতন ক’রে গড়ব ঠাকুর কষ্টি পাথর দে মা এনে।
দিব হাতে বাঁশি মুখে হাসি ডাগর চোখে কাজল টেনে।।
মথুরাতে আর যাবে না, মা যশোদায় কাঁদাবে না,
রইবে ব্রজগোপীর কেনা, চলবে রাধার আদেশ মেনে।।
শ্রীচরণ তার গড়ব না মা, গড়লে চরণ পালিয়ে যাবে
নাইবা শুনলে নূপুর-ধ্বনি, ঠাকুরকে তো কাছে পাবে।
চরণ পেলে দেশে দেশে, কুরুক্ষেত্র বাঁধাবে সে —
গন্ধমালা দিসনে মাগো, ভক্ত ভ্রমর ফেলবে জেনে।।
	দেখে কখন করবে চুরি
	একলা ঘরে মরব ঝুরি,
গন্ধমালা দিসনে মাগো, ভক্ত ভ্রমর ফেলবে জেনে।।

পিও শরাব পিও

বাণী

		পিও শরাব পিও!
তোরে	দীর্ঘ সে কাল গোরে হবে ঘুমাতে
সে		তিমির-পুরে
তোর		বন্ধু স্বজন প্রিয়া রবে না সাথে।।
পিও		নিমেষ-মধু!
পুন		গাহিব না কা’ল আজি যে গীত গাহি।
শোনো	শোনো মোর গান —
‘রাতে	শুকাল যে গুল্ হাসিবে না সে প্রাতে’।।
ওরা		কহিছে সদাই —
		‘পাবি মোহিনী হুরী’, শোনো আমার বাণী —
‘ওরে		মধুরতর
		এই আঙুর-পানি এই পান্‌শালাতে।।
ধর্ 		নগ্‌দা যা পাস্,
		মিছে র’স্‌নে ব’সে বাকি পাওনা-আশায়,
দূরে		মৃদঙ বাজে
		শুধু ফাঁকা আওয়াজে তোর মন ভোলাতে।।