তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি

বাণী

তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি',
তুমি চাও আমি নিশি-দিন যেন তব নাম ধরে ডাকি।।
হে লীলা-বিলাসী অন্তরতম, অন্তর-মধু চাও বুঝি মম
গোপনে করিতে পান, ওগো বঁধু, অন্তরালে সে থাকি।।
বিরহ তোমার ছল, কেন নাহি বুঝি!
আমাতে রহিয়া কাঁদাও আমারে তবু কেন মরি খুঁজি'।
ভুলিয়া থাকি সুখের মোহে তাই বুঝি প্রিয় কাঁদাও বিরহে —
বন্ধু, ওগো বন্ধু;
তুমি অন্তরে এলে রাজ-সমারোহে নয়নেরে দিয়ে ফাঁকি।।

বিদায়ের বেলা মোর ঘনায়ে আসে

বাণী

বিদায়ের বেলা মোর ঘনায়ে আসে।
দিনের চিতা জ্বলে অস্ত আকাশে।।
দিন শেষে শুভদিন এলো বুঝি মম
মরণের রূপে এলে মোর প্রিয়তম,
গোধূলির রঙে তাই দশ দিশি হাসে।।
দিন গুণে নিরাশার পথ-চাওয়া ফুরালো,
শ্রান্ত এ জীবনের জ্বালা আজ জুড়ালো।
ওপার হ’তে কে এলো তরী বাহি’
হেরিলাম সুন্দরে, আর ভয় নাহি,
আঁধারের ’পারে তার চাঁদ-মুখ ভাসে।।

অমর কানন মোদের অমর-কানন

বাণী

	অমর কানন মোদের অমর-কানন।
	বন কে বলে রে ভাই, আমাদের তপোবন
			আমাদের তপোবন।।
এর	দক্ষিণে ‘শালী’ নদী কুলুকুলু বয়,
তার	কূলে কূলে শাল-বীথি ফুলে ফুল-ময়,
হেথা	ভেসে আসে জলে-ভেজা দখিনা মলয়,
হেথা	মহুয়ার মউ খেয়ে মন উচাটন।।
	দূর প্রান্তর-ঘেরা আমাদের বাস,
	দুধ-হাসি হাসে হেথা কচি দুব-ঘাস,
	উপরে মায়ের মতো চাহিয়া আকাশ,
	বেণু-বাজা মাঠে হেথা চরে ধেনুগণ।।
মোরা	নিজ হাতে মাটি কাটি নিজে ধরি হাল,
সদা	খুশি-ভরা বুক হেথা হাসি-ভরা গাল,
মোরা	বাতাস করি ভেঙে হরিতকী-ডাল,
হেথা	শাখায় শাখায় পাখি, গানের মাতন।।
	প্রহরী মোদের ভাই ‘পূরবী’ পাহাড়,
	‘শুশুনিয়া’ আগুলিয়া পশ্চিম দ্বার,
ওরে	উত্তরে উত্তরী কানন বিথার,
দূরে	ক্ষণে ক্ষণে হাতছানি দেয় তালি-বন।।
হেথা	ক্ষেত-ভরা ধান নিয়ে আসে অঘ্রাণ,
হেথা	প্রাণে ফোটে ফুল, হেথা ফুলে ফোটে প্রাণ,
ওরে	রাখাল সাজিয়া হেথা আসে ভগবান,
মোরা	নারায়ণ-সাথে খেলা খেলি অনুখন।।
মোরা	বটের ছায়ায় বসি করি গীতা পাঠ,
	আমাদের পাঠশালা চাষী-ভরা মাঠ,
	গাঁয়ে গাঁয়ে আমাদের মায়েদের হাট,
	ঘরে ঘরে ভাই বোন বন্ধু স্বজন।।

সৈয়দে মক্কী মদনী আমার নবী মোহাম্মদ

বাণী

সৈয়দে মক্কী মদনী আমার নবী মোহাম্মদ
করুণা-সিন্ধু খোদার বন্ধু নিখিল মানব-প্রেমাস্পদ।।
আদম নূহ, ইব্রাহিম দাউদ সোলেয়মান মুসা আর ঈসা,
সাক্ষ্য দিল আমার নবীর, সবার কালাম হ'ল রদ।
যাঁহার মাঝে দেখল জগৎ ইশারা খোদার নূরের,
পাপ-দুনিয়ায় আনলো যে রে, পুণ্য বেহেশতী সনদ।।
হায় সিকান্দর খুঁজল বৃথাই আব-হায়াত এই দুনিয়ায়
বিলিয়ে দিল আমার নবী, সে সুধা মানব সবায়।
হায় জুলেখা মজল ঐ ইউসুফেরই রূপ দেখে,
দেখলে মোদের নবীর সুরত, যোগীন হত ভসম মেখে'।
শুনলে নবীর শিঁরিন জবান, দাউদ মাগিত মদদ।।
ছিল নবীর নূর পেশানিতে, তাই ডুবল না কিস্তি নূহের
পুড়ল না আগুনে হযরত ইব্রাহিম সে নমরুদের
হায়, দোজখ আমার হারাম হ'ল পিয়ে কোরানের শিঁরিন শ্যহদ।।

আমি অগ্নি-শিখা মোরে

বাণী

আমি অগ্নি-শিখা, মোরে বাসিয়া ভালো।
যদি চাও, তব অন্তরে প্রদীপ জ্বালো।।
মোর দহন-জ্বালা র’বে আমারি বুকে,
তব তিমির রাতে হ’ব রঙিন আলো।।
হ’ব তোমার প্রেমে নব উদয়-রবি,
আমি মুছাব প্রাণের তব বিষাদ-কালো।।
ল’য়ে বহ্নি-দাহ, প্রিয়! করো না খেলা,
কবে লাগিবে আগুন, হায়! ভাঙিবে মেলা।
শেষে আমার মতো কেন মরিবে জ্ব’লে,
তুমি মেঘের মায়া, শুধু সলিল ঢালো।।
মোরে আঁচলে ঢেকে’ তুমি বাঁচালে ঝড়ে,
আজ তুমিই আবার তা’রে নিভায়ো না লো।।

মধুর ছন্দে নাচে আনন্দে নওল কিশোর মদনমোহন

বাণী

মধুর ছন্দে নাচে আনন্দে নওল কিশোর মদনমোহন!
চারু ত্রিভঙ্গিম ঠাম বঙ্কিম, বন্দে পদ কোটি চন্দ্র তপন॥
	বৃষ্টিধারা সম নব নবতম,
	সৃষ্টি পড়ে ঝরি সে নাচে নিরূপম
রতন মঞ্জির বাজে রমঝম, ঘোরে গ্রহতারা ঘিরি শ্রীচরণ॥

চলচ্চিত্রঃ ‘ধ্রুব’