উজান বাওয়ার গান গো এবার

বাণী

উজান বাওয়ার গান গো এবার, গাস্‌নে ভাটিয়ালি
		আর গাস্‌নে ভাটিয়ালি।
নূতন আশার চাঁদ উঠেছে কুম্‌ড়ো জালির ফালি
		যেন কুম্‌ড়ো জালির ফালি।।
বান এসেছে, বাঁধ ভেঙেচে, নায়ে দোলা লাগে
আড়-বাঁশিতে তান ছেড়ে তুই দাঁড়্‌ বেয়ে চল্‌ আগে
দেখ্‌ জোয়ার-জলে ডু’বে গেছে চরের চোরাবালি।।
কালো বউ-এর চোখ যেন, দেখ্‌ মৌরলা মাছ ভাসে
গাঙ্‌চিল আর জল-পায়রা উড়ছে মুখের পাশে,
শোন্‌ বউ কথা কও পাখি, মোদের করছে দূতিয়ালি।।
জল নিয়ে বৌ দাঁড়িয়ে আছে, গাছে কচি ডাব
লোক্‌সানেরই হিসাব দেখিস, লাভের কথা ভাব্‌,
সাজ্‌ রে তামুক, নামুক দেয়া, দুক্ষু ত ইজমালি।।

গাহ নাম অবিরাম কৃষ্ণনাম

বাণী

গাহ নাম অবিরাম কৃষ্ণনাম কৃষ্ণনাম।
মহাকাল যে নামের করে প্রাণায়াম।।
যে নামের গুণে কংস কারার খোলে দ্বার।
বসুদেব যে নামে যমুনা হ’ল পার।
যে নাম মায়ায় হল তীর্থ ব্রজধাম।।
দেবকীর বুকের পাষাণ গলে,
যে নাম দোলে যশোদার কোলে।
যে নাম লয়ে কাঁদে রাই রসময়ী,
কুরুক্ষেত্রে যে নামে হল পান্ডব জয়ী।
গোলকে নারায়ণ, ভূলোকে রাধাশ্যাম।।

রংমহলের রংমশাল মোরা

বাণী

রংমহলের রংমশাল মোরা আমরা রূপের দীপালি।
রূপের কাননে আমরা ফুলদল কুন্দ মল্লিকা শেফালি।।
	রূপের দেউলে আমি পূজারিণী
	রূপের হাটে মোর নিতি বিকিকিনি,
	নৌবতে আমি প্রাতে আশাবরি,
			আমি সাঁঝে কাঁদি ভূপালী।।
	আমি শরম-রাঙা চোখের নেশা,
	লাল শারাব আমি আঙুর-পেষা,
	আঁখিজলে গাঁথা আমি মোতি-মালা,
			দীপাধারে মোরা প্রাণ জ্বালি।।

পিও শরাব পিও

বাণী

		পিও শরাব পিও!
তোরে	দীর্ঘ সে কাল গোরে হবে ঘুমাতে
সে		তিমির-পুরে
তোর		বন্ধু স্বজন প্রিয়া রবে না সাথে।।
পিও		নিমেষ-মধু!
পুন		গাহিব না কা’ল আজি যে গীত গাহি।
শোনো	শোনো মোর গান —
‘রাতে	শুকাল যে গুল্ হাসিবে না সে প্রাতে’।।
ওরা		কহিছে সদাই —
		‘পাবি মোহিনী হুরী’, শোনো আমার বাণী —
‘ওরে		মধুরতর
		এই আঙুর-পানি এই পান্‌শালাতে।।
ধর্ 		নগ্‌দা যা পাস্,
		মিছে র’স্‌নে ব’সে বাকি পাওনা-আশায়,
দূরে		মৃদঙ বাজে
		শুধু ফাঁকা আওয়াজে তোর মন ভোলাতে।।

তুমি কি নিশীথ-চাঁদ ভাঙাতে ঘুম

বাণী

স্ত্রী	:	তুমি কি নিশীথ-চাঁদ ভাঙাতে ঘুম
		চুপি চুপি আসিলে বাতায়নে।
পুরুষ	:	তুমি কি গো বন-দেবী পুষ্প-শোভিতা
		চেয়ে আছ কোন দূরে আনমনে।।
স্ত্রী	:	তোমারে হেরিয়া ফোটে মালতী হেনা
		হে চির চেনা
পুরুষ	:	সুদুর বনান্তে সমীরণ হেরি' তোমায় হ'লো অধীর
		পাপিয়া ডাকে বকুল বনে।।
স্ত্রী	:	তব কলঙ্ক অধিক মধুর লাগে হে কলঙ্কী চাঁদ,
		তোমারে হেরিয়া যত সাধ জাগে প্রাণে জাগে তত অবসাদ।
পুরুষ	:	তোমার ছায়া প'ড়ে মোর আননে
		কলঙ্কী নাম হলো মোর এই ভুবনে।
উভয়ে	:	আকাশের চাঁদে কুমুদ ফুলে
		মিলন হ'লো ধরার ভুলে
		অশ্রুসায়রে সঙ্গোপনে।।

বনের মনের কথা ফুল হয়ে

বাণী

বনের মনের কথা ফুল হয়ে জাগে।
কয় না সে কথা তবু তারে ভালো লাগে।।
	শ্যাম পল্লবে তনু ছেয়ে যায়,
	ভরে ওঠে সুরভিত সুষমায়।
ফুটে ওঠে তার না বলা বাণী রক্তিম অনুরাগে।।
বন মর্মরে সেই মৌনীর শুনি মৃদু গুঞ্জন
ললিতার মত তার ভালোবাসা, গভীর-চির গোপন।
	যত সে নিজেরে লুকাইতে চায়,
	তত মধু তার উছলিয়া যায়।
কত সে পলাশে, কত সে অশোকে কত কুঙ্কুম ফাগে।।