দীনের হতে দীন দুঃখী অধম যেথা থাকে

বাণী

দীনের হতে দীন দুঃখী অধম যেথা থাকে
ভিখারিনী বেশে সেথা দেখেছি মোর মাকে
		মোর অন্নপূর্ণা মাকে॥
অহংকারের প্রদীপ নিয়ে স্বর্গে মাকে খুঁজি
মা ফেরেন ধূলি পথে যখন ঘটা করে পূজি
ঘুরে ঘুরে দূর আকাশে প্রণাম আমার ফিরে আসে
যথায় আতুর সন্তানে মা কোল বাড়ায়ে ডাকে॥
নামতে নারি তাদের কাছে সবার নীচে যারা
তাদের তরে আমার জগন্মাতা সর্বহারা।
অপমানের পাতাল তলে লুকিয়ে যারা আছে
তোর শ্রীচরণ রাজে সেথা নে মা তাদের কাছে
আনন্দময় তোর ভুবনে আনব কবে বিশ্বজনে
আমি দেখব জ্যোতির্ময়ী রূপে সেদিন তমসাকে
		আমার অন্নপূর্ণা মাকে॥

‘কালী কালী’ মন্ত্র জপি

বাণী

‘কালী কালী’ মন্ত্র জপি ব’সে শোকের ঘোর শ্মশানে।
মা অভয়ার নাম গুণে শান্তি যদি পাই এ প্রাণে।।
	এই শ্মশানে ঘুমিয়ে আছে
	যে ছিল মোর বুকের কাছে,
সে হয়ত আবার উঠবে জেগে মা ভবানীর নাম-গানে।।
সকল সুখ শান্তি আমার নিল হ’রে যে-পাষাণী,
শূন্য বুকে বন্দী ক’রে রাখব আমি তারেই আনি’।
	মোর, যাহা প্রিয় মাকে দিয়ে
	জাগি আশার দীপ জ্বালিয়ে,
মা’র সেই চরণের নিলাম শরণ, যে-চরণে মা আঘাত হানে।।

১. বুকে চিতা, ২. যে চরণে প্রলয় আনে

কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে

বাণী

কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে দেখি নাই কতদিন।
তুমি যে জীবন, তোমারে না হেরি’, হয়েছিনু প্রাণহীন।।
তুমি যেন বায়ু, বায়ু যবে নাহি বয়
আমি ঢুলে পড়ি আয়ু মোর নাহি রয়,
তুমি যেন জল, বাঁচিতে পারিনা জল বিনা আমি মীন।।
তুমি জানো নাগো তব আশ্রয় বিনা আমি কত অসহায়,
তুমি না ধরিলে আমার এ তনু বাতাসে মিশায়ে যায়।
তাই মোর দেহ পাগলের প্রায়
তোমার অঙ্গ জড়াইতে চায়,
তাই উপবাসী তনু মোর হের দিনে দিনে হয় ক্ষীণ।।

নিশি জেগে আমি গান শোনাবো

বাণী

নিশি জেগে আমি গান শোনাবো
বন বিহগ যদি মাগে বিদায়
আমার অন্তর মধু পিয়াবো
পিয়াল ফুলের পিয়ালায়।।
বেল ফুল যদি যায় ঝরে
প্রেম ফুল দেব ডালি ভ’রে
মাধবী কুঞ্জ রচিব হিয়ায়
ফাল্গুন যদি ফিরে যায়।।
যদি নাহি বয় দখিনা বাতাস
আমার আছে অঞ্চল আছে কেশ পাশ।
যায় ডুবে যাক আকাশে চাঁদ
মোর চাঁদ যেন নাহি ডুবে যায়।।

বনমালার ফুল জোগালি বৃথাই বন-লতা

বাণী

বনমালার ফুল জোগালি বৃথাই বন-লতা
বনের ডালায় কুসুম শুকায়, বনমালি কোথা।।
	শুকনো পাতার গুনে নূপুর
	চমকে ওঠে বনে ময়ূর,
রাস নাই আজ নিরাশ ব্রজে গভীর নীরবতা।।
যমুনা-জল উজান বেয়ে কদম-তলে আসি’
ভাটিতে যায় ফিরে, নাহি শু’নে শ্যামের বাঁশি।
	তমাল-ডালে ঝুলনা আর
	গোপীরা বাঁধেনি এবার,
শ্রাবণ এসে কেঁদে শুধায় ঘনশ্যামের কথা।।

শোনালো শ্রবণে শ্যাম শ্যাম নাম

বাণী

শোনালো শ্রবণে শ্যাম শ্যাম নাম
যে নাম শুনি পবনে, যে নাম হৃদি-ভবনে
(সখি) যে নাম ত্রিভুবনে বাজে অবিরাম।।
নাম শোনা লো, শোনা লো
যে নাম শুনে কুলনারী হয় আনমনা লো।
সখি, ধেয়ায় যে নাম প্রতি ঘরে প্রতি জনা লো।
সখি ভোলায় যে গৃহকাজ, ভোলায় যে কুললাজ
যে নাম শুনিতে লো কান পেতে রই
সাধ যায় যে নাম-নামাবলী গায়ে দিয়ে যোগিনী হই।
নহে শুধু রাধিকার, সাধকের সাধিকার, যে নাম জপমালা সই,
তোরা শোনা সেই নাম লো,
তোরা বাহিরে শোনা, তোরা গাহিয়া শোনা
যে নাম অন্তরে জপি অবিরাম লো।।