বেলা শেষে গিরি-পথের ছায়ে

বাণী

	বেলা শেষে গিরি-পথের ছায়ে।
	কলস ভরে কুঁড়েয় ফেরে
	সার বেঁধে ঐ বনের কালো মেয়ে।।
	তাদের পায়ে বাজে মল
	চলন-দোলায় নয়ন ভোলায় উছ্‌লে পড়ে জল,
তারা	আপন মনে পথের টানে চলে রে গান গেয়ে।।
	গাইল যে রে উদাস-করা গান,
	বিভোর ক’রে বনের মন-প্রাণ,
	সুরে ভুবন হ’ল মগন, আকাশ গেল ছেয়ে।।
	তাদের ফুলে বাঁধা কেশ
	কাজল-নয়ন, হৃদয়-হরণ বন-দেবীর বেশ,
তাদের	কালো রূপের ধারায় নেয়ে পাষাণ রহে চেয়ে।।

পূবালী পবনে বাঁশি বাজে রহি' রহি'

বাণী

পূবালী পবনে বাঁশি বাজে রহি' রহি'।
ভবনের বধূরে ডাকে বনের বিরহী।।
রতন হিন্দোলা নীপ ডালে বাঁধা',
দোলে দোলে, বলে যেন 'রাধা রাধা',
দুরু দুরু বুকে বাজে গুরু গুরু দেয়া
কেয়া ফুল আনে সোম-সুগন্ধ বহি'।।
চোখে মাখি সজল কাজলের ছলনা
অভিসারিকার সাজে সাজে গোপ-ললনা।
বৃষ্টির টিপ ফেলে ননদীর নয়নে
কদম-কুঞ্জে চলে গোপন চরণে,
মিলন বিরহ শোক তার বুকে
কাঁদে 'রাধা-শ্যাম রাধা-শ্যাম' কহি।।

আশা-নিরাশায় দিন কেটে যায় হে প্রিয় কবে আসিবে

বাণী

আশা-নিরাশায় দিন কেটে যায় হে প্রিয় কবে আসিবে?
প্রতি নিঃশ্বাসে নয়ন প্রদীপ মোর আসিছে নিভে।।
		ফুল ঝরে যায় হায়, পুন ফুল ফোটে
		কৃষ্ণা তিথির শেষে চাঁদ হেসে ওঠে
আমারি নিশীথের অসীম আঁধার ওগো চাঁদ কবে নাসিবে।।
শীত যায় মনোবনে ফাল্গুন আসে গো আসিল না আমারই ফাল্গুন
চাঁদের কিরণে পৃথিবী শীতল হায় মোর বুকে জ্বালে সে আগুন।
		নিশীথে বকুল শাখে
		পিয়া পিয়া পাপিয়া ডাকে
আমারই প্রিয়তম ‘জাগো পিয়া’ বলে কবে ডাকিবে।।

শোনো লো বাঁশিতে ডাকে

বাণী

শোনো লো বাঁশিতে ডাকে আমারে শ্যাম।
গুমরিয়া কাঁদে বাঁশি ল’য়ে ‘রাধা রাধা’ নাম।।
	পিঞ্জরে পাখি যেন
	লুটাইয়া কাঁদে মন,
আশে পাশে গুরুজন বাম।।

বাদ্‌লা-কালো স্নিগ্ধা আমার

বাণী

বাদ্‌লা-কালো স্নিগ্ধা আমার কান্তা এলো রিম্‌ঝিমিয়ে
বৃষ্টিতে তার বাজ্‌লো নুপূর পায়জোরেরই শিঞ্জিনী যে।
ভিজ্‌লো কুঁড়ির বক্ষ-পরাগ হিম্‌-শিশিরের আমেজ পেয়ে
হর্‌দম! হর্‌দম দাও মদ, মস্ত্ করো গজল গেয়ে!
ফেরদৌসের ঝরকা বেয়ে গুল-বাগিচায় বইছে হাওয়া,
এই তো রে ভাই ওক্ত খুশির, দ্রাক্ষারসে দিল্‌কে নাওয়া।
কুঞ্জে জরিন ফারসি ফরাস্‌ বিছিয়েছে আজ ফুলবালারা,
আজ চাই-ই চাই লাল-শিরাজি স্বচ্ছ-সরস খোর্মা-পারা!
খাম্‌খা তুমি মরছ কাজী শুষ্ক তোমার শাস্ত্র ঘেঁটে,
মুক্তি পাবে হারামখোরের আল-কিমিয়ার পাত্র চেটে!

টারালা টারালা টারালা টা টারালা

বাণী

	টারালা টারালা টারালা টা টারালা টারালোল্লা
নাচে	শুটকী শুকনো সাহেবকে ধ'রে মুটকি মিস আরসোল্লা।
		হা-হা- হা-হা- হা।।
	খুরওয়ালা জুতা পরে খটখট ঠেংরী নাড়ে
	চাবুক খেয়ে জোড়া ঘোড়ায় যেন পেছলি ঝাড়ে!
দেখে	পাদ্রি, পুরুত, মোল্লা বাবাজী কাছা খোল্লা।
		আর বাবাজী কাছা খোল্লা।।
দেখে	আণ্ডাওয়ালা ভাবে বুঝি খেল ডাণ্ডাগুলি
হা	গণ্ডার মার্কা ষণ্ডা বিবি খেল ডাণ্ডাগুলি
হা	ভাব-আবেশের নয়ন তাহার হলো নয়ান ঝুলি;
	নেকু বাবুর ঢেকুর ওঠে পেটে মেকুর আচড়ায়!
	কাল্লু ভাবে মেম পালোয়ান সাহেবকে বুঝি পাছড়ায়। ( হায় হায় হায়)
	যতো কাবলিওয়ালা মাউড়া সব হো গিয়া ভাই বাউড়া
	মোষের গাড়োয়ান প্রেম-রসে হলো রসগোল্লা।।