দুলে চরাচর হিন্দোল-দোলে

বাণী

দুলে চরাচর হিন্দোল-দোলে
বিশ্বরমা দোলে বিশ্বপতি-কোলে।।
গগনে রবি-শশী গ্রহ-তারা দুলে,
তড়িত-দোলনাতে মেঘ ঝুলন ঝুলে।
	বরিষা-শত-নরী
	দুলিছে মরি মরি,
	দুলে বাদল-পরী
		কেতকী-বেণী খোলে।।
নদী-মেঘলা দোলে, দোলে নটিনী ধরা,
দুলে আলোক নভ-চন্দ্রাতপ ভরা।
করিয়া জড়াজড়ি দোলে দিবস-নিশা,
দোলে বিরহ-বারি, দোলে মিলন-তৃষা।
	উমারে লয়ে বু’কে
	শিব দুলিছে সুখে,
	দোলে অপরূপ
		রূপ-লহর তোলে।।

অমর কানন মোদের অমর-কানন

বাণী

	অমর কানন মোদের অমর-কানন।
	বন কে বলে রে ভাই, আমাদের তপোবন
			আমাদের তপোবন।।
এর	দক্ষিণে ‘শালী’ নদী কুলুকুলু বয়,
তার	কূলে কূলে শাল-বীথি ফুলে ফুল-ময়,
হেথা	ভেসে আসে জলে-ভেজা দখিনা মলয়,
হেথা	মহুয়ার মউ খেয়ে মন উচাটন।।
	দূর প্রান্তর-ঘেরা আমাদের বাস,
	দুধ-হাসি হাসে হেথা কচি দুব-ঘাস,
	উপরে মায়ের মতো চাহিয়া আকাশ,
	বেণু-বাজা মাঠে হেথা চরে ধেনুগণ।।
মোরা	নিজ হাতে মাটি কাটি নিজে ধরি হাল,
সদা	খুশি-ভরা বুক হেথা হাসি-ভরা গাল,
মোরা	বাতাস করি ভেঙে হরিতকী-ডাল,
হেথা	শাখায় শাখায় পাখি, গানের মাতন।।
	প্রহরী মোদের ভাই ‘পূরবী’ পাহাড়,
	‘শুশুনিয়া’ আগুলিয়া পশ্চিম দ্বার,
ওরে	উত্তরে উত্তরী কানন বিথার,
দূরে	ক্ষণে ক্ষণে হাতছানি দেয় তালি-বন।।
হেথা	ক্ষেত-ভরা ধান নিয়ে আসে অঘ্রাণ,
হেথা	প্রাণে ফোটে ফুল, হেথা ফুলে ফোটে প্রাণ,
ওরে	রাখাল সাজিয়া হেথা আসে ভগবান,
মোরা	নারায়ণ-সাথে খেলা খেলি অনুখন।।
মোরা	বটের ছায়ায় বসি করি গীতা পাঠ,
	আমাদের পাঠশালা চাষী-ভরা মাঠ,
	গাঁয়ে গাঁয়ে আমাদের মায়েদের হাট,
	ঘরে ঘরে ভাই বোন বন্ধু স্বজন।।

জয় বিগলিত করূণা রূপিণী গঙ্গে

বাণী

জয় বিগলিত করূণা রূপিণী গঙ্গে
জয় কলুষহারিণী পতিতপাবনী
নিত্যা পবিত্রা যোগী-ঋষি সঙ্গে॥
হরি শ্রীচরণ ছুঁয়ে আপন-হারা,
পরম প্রেমে হ’লে দ্রবীভূত ধারা;
ত্রিলোকের ত্রিতাপ পাপ তুমি নিলে মা,
নির্মলে, তোমার পবিত্র অঙ্গে॥

তুমি ভাগিয়াছ ভাগ্‌লুয়া দলের সাথে

বাণী

তুমি ভাগিয়াছ ভাগ্‌লুয়া দলের সাথে।
(হায় প্রিয়া!) তুমি যে ভেগেছ ভাগ্‌লুয়া দলের সাথে।
নিয়ে গেছ হায় বাক্সের চাবি দিয়েছ দাদার হাতে।।
বোমা না পড়িতে বাপের বাড়িতে ছুট দিলে স্বামীরে ভুলে,
আমি পথে ফিরি হায়, কর্পোরেশনের ষাঁড় যেন কলকাতাতে।
এখন পথে ফিরি হায়, কর্পোরেশনের ষাঁড় যেন কলকাতাতে।।
যখন ভালুক নাচাতে এই স্বামী লয়ে (তখন) ভুলেছিলে বাবা দাদা;
(তখন) তোমার বেণীটি আমার টিকি-টি একদিকে ছিল বাঁধা।
সে-বেণী খুলিল সে-টিকি ছিঁড়িল ঘরের উনুন নিভিল;
আমি আবার প্রেমের হাট বসাব ফিরে এসো হাটখোলাতে।।

যাহা কিছু মম আছে প্রিয়তম

বাণী

যাহা কিছু মম আছে প্রিয়তম সকলি নিয়ো হে স্বামী
যত সাধ আশা প্রীতি ভালোবাসা সঁপিনু চরণে আমি॥
	ধ’রে যা’রে রাখি আমার বলিয়া
	সহসা কাঁদায়ে যায় সে চলিয়া
অনিমেষ, আঁখি তুমি ধ্রুবতারা জাগো দিবসযামী॥
	মায়ারি ছলনায় পুতুল খেলায়
	ভুলাইয়া প্রভু রেখেছিলে আমায়
ভুলেছি সে খেলা আজি অবেলায় তোমারই দুয়ারে থামি॥

তুমি আনন্দ ঘনশ্যাম আমি প্রেম-পাগলিনী রাধা

বাণী

তুমি আনন্দ ঘনশ্যাম আমি প্রেম-পাগলিনী রাধা।
তব ডাক শুনে ছুটে যাই বনে আমি না মানি কুলের বাধা।।
	শূন্য প্রাণের গাগরি ঘিরে
	নিতি আসি রস-যমুনার তীরে
অঙ্গ ভাসায়ে তরঙ্গ-নীরে শুনি তব বাঁশি সাধা।।
যুগ-যুগান্ত অনন্ত কাল হৃদয়-বৃন্দাবনে
তোমাতে আমাতে এই লীলা, নাথ! চলেছে, সঙ্গোপনে।
	মোর সাথে কাঁদে প্রেম-বিগলিতা
	ভক্তি ও প্রীতি বিশাখা-ললিতা।
তোমারে যে চায়, মোর মতো, হায়! সার শুধু তার কাঁদা।।