এসো ফিরে প্রিয়তম এসো ফিরে

বাণী

এসো ফিরে’ প্রিয়তম, এসো ফিরে’।
আঁখির আলোক হায় জীবনের সন্ধ্যায়
ডুবে যায় নিরাশা-তিমিরে।।
আসে যে-পথে প্রভাতী আলোর ধারা
যে-পথে আসে চাঁদ, রাতের তারা,
নিতি সেই পথে চাই
যদি তব দেখা পাই —
শুধাই তোমার কথা দক্ষিণ সমীরে।।
খুঁজে’ ফিরি ঝরা ফুলে নদীর স্রোতে
ঘর-ছাড়া পথিক ধায় যে-পথে,
তব পথ, হে সুদূর
কত দূর, কত দূর —
কোথা পাব তব দেখা (কোন্) কালের তীরে।।

এ বাসি বাসরে আসিলে কে গো

বাণী

এ বাসি বাসরে আসিলে কে গো ছলিতে।
কেন পুন বাঁশি বাজালে কাফি ললিতে।। 
নিশীথ গভীরে কেন আঁখি-নীরে এলে ফিরে ফিরে
			গোপন কথা বলিতে।।
দলিত কুসুম-দলে রচিয়াছি শয়ন,
অন্ধ তিমির রাতি, নিভু নিভু নয়ন;
মরণ বেলায় প্রিয় আনিলে কি অমিয়,
এলে কি গো নিঠুর ঝরা ফুল দলিতে।।

আমি ছন্দ ভুল চির-সুন্দরের

বাণী

আমি	ছন্দ ভুল চির-সুন্দরের নট-নৃত্যে গো।
আমি	অপ্সরা-মায়া ধ্যানভঙ্গের
		যোগী মহেন্দ্রের চিত্তে গো।।
আমি	পঞ্চশর-তৃণে রক্তমাখা শর,
	অমৃত-পাত্রে গো স্মর-গরল খর
আমি	উর্বশীর খল-চরণ-নূপুর
		উদাসিনী দেব-চিত্তে গো।।

সই পলাশ-বনে রঙ ছড়ালো কে

বাণী

সই,পলাশ-বনে রঙ ছড়ালো কে?
সেই রঙে রঙিন মানুষটিরে কাছে ডেকে দে,লো।
	সে ফাগুন জাগায় আগুন লাগায়,
	স্বপন ভাঙায় হৃদয় রাঙায় রে,
তা'রে ধরতে গেলে পালিয়ে সে যায় রঙ ছুঁড়ে চোখে।।
সে ভোরের বেলায় ভ্রমর হয়ে পদ্মবনে কাঁদে
তারা বাঁকা ধনুক যায় দেখা ঐ সাঁঝ-আকাশের চাঁদে।
	সেই গভীর রাতে আবির হাতে
	রঙ খেলে ফুল-পরীর সাথে লো
তার রঙিন সিঁথি দেখি প্রজাপতির পালকে।।

বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান

বাণী

বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান।
সুরের সাথে হল আকুল পাষাণ পরান।।
	আজকে ব্যথায় উঠল ভ’রে
	মালার কুসুম পড়ল ঝ’রে,
পরান আমার কেমন করে নেবে তব দান।।
	বৃথায় ফুলে সাজাও মোরে
	ভাসাও যত নয়ন লোরে,
প্রাণের ঠাকুর ডাকেন মোরে কাঁদে মম প্রাণ।।

এক্‌লা ভাসাই গানের কমল

বাণী

	এক্‌লা ভাসাই গানের কমল সুরের স্রোতে।
	খেলার ছলে ওপার পানে এপার হ’তে।।
	আসবে গো এই গাঙের কূলে হয়ত ভুলে আমার প্রিয়া
	খোঁপায় নেবে আমার গানের কমল তুলে তামার প্রিয়া
	খুঁজতে আমায় আসবে সুরের নদী-পথে।।
	নাম-হারা কোন্ গাঁয়ে থাকে অচেনা সে,
তারে	না-ই জানিলাম, গান ভেসে যাক্ তাহার আশে।
	নদীর জলে আল্‌তা-রাঙা পা ডুবায়ে, রয় সে মেয়ে
	গানের কমল লাগে গো তা’র কমল-পায়ে, উজান বেয়ে,
	সেদিন অমর হয় মোর গান, যায় অমরায় পুষ্প-রথে।।