হে পাষাণ দেবতা

বাণী

হে পাষাণ দেবতা!
মন্দির দুয়ার খোল কও কথা।।
দুয়ারে দাঁড়ায়ে শ্রান্তি-হীন দীর্ঘ দিন,
অঞ্চলের পূষ্পাঞ্জলি শুকায়ে যায় উষ্ণ বায়;
আঁখি দীপ নিভিছে হায়, কাঁপিছে তনুলতা।
শুভ্রবাসে পূজারিণী, দিন শেষে —
গোধুলির গেরুয়া রঙ হের প্রিয় লাগে এসে;
খোল দ্বার শরণ দাও, সহে না আর নীরবতা।।

নবনীত সুকোমল লাবনি তব শ্যাম

বাণী

নবনীত সুকোমল লাবনি তব শ্যাম
অবনীতে টলে টলমল।
পত্রে পুষ্পে বনে সুনীল গগন কোণে
সেই লাবনির মায়া ঝরে ঝলমল।।
বিল ঝিল, তড়াগ, পুকুর
সাগর, নদীতে তব শ্যামলিমা হেরি ভরপুর।
শিশির-মুকুরে তব করুণ ছায়া, শ্যাম, করে ছলছল।
নীলের সাগরে তব যেন বিন্দু প্রায়
কোটি গ্রহ তারকা ভাসিয়া ভাসিয়া যায়;
বিশ্ব ব্রহ্মলোক অহরহ করে ধ্যান
শ্যামসুন্দর তব রূপ ঢল ঢল।।

কলঙ্কে মোর সকল দেহ হলো কৃষ্ণময়

বাণী

	কলঙ্কে মোর সকল দেহ হলো কৃষ্ণময়
	শ্যামের নামে হউক এবার আমার পরিচয়।।
		কলঙ্কিনীর তিলক এঁকে
		কলঙ্ক-চন্দন মেখে'
আমি	শোনাব গো ডেকে ডেকে কলঙ্কেরি জয়, কৃষ্ণ-কলঙ্কেরি জয়।।
	ভুবনে মোর ঠাঁই পেয়েছি ভবন হতে নেমে'
হয়ে	বৈরাগিনী আমার কৃষ্ণ-প্রিয়তমের প্রেমে।
	যারে কৃষ্ণ টানে বিপুল টানে
	সে কি কুলের বাধা মানে
এই	বিশ্ববৃজে ভাগ্যবতী সেই শ্রীমতী হয়।।

মোর নিশীথের চাঁদ ঘন মেঘে ঢাকিয়াছে

বাণী

মোর নিশীথের চাঁদ ঘন মেঘে ঢাকিয়াছে।
আর দূরে থাকিও না এসো এসো আরো কাছে।।
মোর ভবন-কপোতগুলি উড়িয়া গিয়াছে ভয়ে
কাঁপিছে মালতী-লতা মুকুল-বক্ষে ল’য়ে,
মোর আশার প্রদীপ-শিখা হের ঝড়ে নিভিয়াছে।।
হের ঘোর ঘন ঘটা সব লাজ দিল ঢেকে,
বিজলি তোমারে হেরি’ চমকায় থেকে থেকে।
বাহিরে আলেয়া ডাকে ধর হাত ধর মম
আঁধারে দেখাও পথ তুমি ধ্রুবতারা সম,
ঐ শোনো গো ফটিক জল তৃষ্ণার বারি যাচে।।

১. আজ

তুমি আশা পুরাও খোদা

বাণী

তুমি আশা পুরাও খোদা, সবাই যখন নিরাশ করে।
সবাই যখন পায়ে ঠেলে, সান্ত্বনা পাই তোমায় ধ'রে।।
দ্বারে দ্বারে হাত পাতিয়া ফিরি যখন শূন্য হাতে,
তোমার দানের শির্‌নি তখন আসে আমায় পথ দেখাতে,
দেখি হঠাৎ শূন্য তোমার দানে গেছে ভ'রে।।
খোদা, তোমায় ভরসা করি' নামি যখন কোন কাজে,
সে কাজ হাসিল হয় সহজে শত বিপদ বাধার মাঝে
(খোদা) তোমায় ছেড়ে অন্য জনে শরণ নিলে যায় সে সরে।।
মাঝ দরিয়ায় ডুবলে জাহাজ তোমায় যদি ডাকি
তোমার রহম কোলে করি তীরেতে যায় রাখি
দুখের অনল কুসুম হয়ে ফুটে ওঠে থরে থরে।।

লাল টুক্‌টুক্‌ মুখে হাসি মুখখানি টুলটুল

বাণী

লাল টুক্‌টুক্‌ মুখে হাসি মুখখানি টুলটুল।
বিনি পানে রঙ দেখে যায় লাল-ঝুঁটি বুলবুল।।
দেখতে আমার, খুকুর বিয়ে
সূয্যি ওঠেন উদয় দিয়ে,
চাঁদ ওঠে ঐ প্রদীপ নিয়ে গায় নদী কুল্‌কুল্‌।।

নাটিকাঃ ‘পুতুলের বিয়ে’