সোনার আলোর ঢেউ খেলে যায়

বাণী

সোনার আলোর ঢেউ খেলে যায় মাঠের ঘাসে ঘাসে।
বাউল হাওয়ায় কানাকানি মা বুঝি ঐ আসে॥
	কাশের চামর নদীর চরে
	প্রণাম হয়ে লুটিয়ে পড়ে
আনন্দেরি জোয়ার এলো ভোরের নীলাকাশে।
		মোদের মা জননী আসে॥
বেণু বনের মর্মরে আজ বাজে ছুটির বাঁশি
বরষ পরে ঘরে ফিরে এলো পরবাসী।
	দুঃখী ছেলেমেয়ের মুখে
	হাসির আলো ফুটল সুখে
আগমনীর আনন্দে আজ কুসুম হয়ে হাসে॥

বলেছিলে ভুলিবে না মোরে

বাণী

বলেছিলে ভুলিবে না মোরে।
ভুলে গেলে হায়, কেমন ক’রে।।
নিশীথের স্বপনে কে যেন কহে
ধরণীর প্রেম সে কি স্মরণে রহে,
ফুলের মতন ফুটে যায় রে ঝ’রে।।
বোঝে না বিরহী মন অসহায়,
যত নাহি পায় তত জড়াইতে চায়।
যত দূরে যাও তত, তব গাওয়া গান
কেন স্মৃতিপথে এসে কাঁদায় এ প্রাণ,
আঁখিতে দেখি না দেখি আঁখির লোরে।।

কালো পাহাড় আলো করে কে

বাণী

কালো পাহাড় আলো করে কে ও কে কালো শশী,
নিতুই এসে লো বাজায় বাঁশি কদম তলায় বসি।।
	সই লো মানা কর্‌ না ওকে,
	ও চায় না যেন অমন চোখে,
ওর চাউনি দেখে অলপ বয়সে হলাম দোষী।।
গুরুজনের সে ভয় করে না,
বাঁকিয়ে ভুরু ডাকে — সে ডাকে, আমারে সে ডাকে।
রাতের বেলায় চোরের মত চাহে বেড়ার ফাঁকে।
	আমি না চাহিলে নূপুর ছুঁড়ে
	কলসি ভেঙে পালায় দূরে,
আমি মরেছি সই প'রে তাহার বনমালার রশি।।

আমার খোকার মাসি শ্রীঅমুকবালা দাসী

বাণী

(ওগো)আমার খোকার মাসি শ্রীঅমুকবালা দাসী,
মোরে দেখেই সর্বনাশী ফেলে ফিক্ করে সে হাসি।।
	তার চোখ প্রায় পুটী মৎসই
	তার চেহারাও নয় জুৎসই
আবার(তার) আছে তিনটি বৎসই কিন্তু সে স্বাস্থ্যে খোদার খাসি।।
	সে খায় বটে পান-জর্দা
	তার চেহারাও মর্দ্দা-মর্দা
তবু বুঝলে কি না বড়দা আমি তারেই ভালোবাসি।।
শালী অর্থাৎ কি না বউ সে পনর আনাই,
তারে দিয়ে একটা ‌‘আনি’ দাদা ঘরে যদি আনি
সে বউ হয় ষোল আনাই।কি বল দাদা এ্যা?
আমি তারই লাগি জেলে, মরবো ঘানি ঠেলে,
তারে নিয়ে ভাগ্‌বো রেলে, না হয় পর্‌বো গলায় ফাঁসি।।

কে বলে মোর মাকে কালো

বাণী

কে বলে মোর মাকে কালো, মা যে আমার জ্যোতির্মতী।
কোটি চন্দ্র সূর্য তারা নিত্য করে যার আরতি।।
	কালো রূপের মায়া দিয়ে
	মহামায়া রয় লুকিয়ে,
মায়ের শুভ্ররূপ দেখেছে শুভ্র শুচি যার ভকতি।।
যোগীন্দ্র যাঁর চরণ-তলে ধ্যান করে রে যাঁর মহিমা,
দু’টি নয়ন-প্রদীপ জ্বেলে খুঁজি সেই অসীমার সীমা।
	সাজিয়ে কালী গৌরী মাকে
	পূজা করি তমসাকে,
মায়ের শুভ্ররূপ দেখেছে শুভ্র শুচি যার ভকতি।।

ভবনে আসিল অতিথি সুদূর

বাণী

ভবনে আসিল অতিথি সুদূর।
সহসা উঠিল বাজি রুমু রুমু ঝুম
	নীরব অঙ্গনে চঞ্চল নূপুর।।
মুহু-মুহু বন-কুহু বোলে
দোয়েল ধ্যান ভুলি চমকি আঁখি খোলে
	কে গো কে বলে বন-ময়ূর।।
দগ্ধ হিয়ার জ্বালা জুড়ায়ে
সজল মেঘের শীতল চন্দন কে দিল বুলায়ে?
বকুল কেয়া বীথি হ'তে
ছুটে এলো সমীরণ চঞ্চল স্রোতে
চাঁদিনী নিশীথের আবেশ আনে
	মিলন তন্দ্রাতুর অলস-দুপুর।।