বাণী
আমি কালী নামের ফুলের ডালি এনেছি গো মাথায় ক’রে। দুখের সাগর পার হয়ে যায় এ ফুল যে বুকে ধ’রে।। (এই) প্রসাদী ফুল দিবস-যামী ফিরি ক’রে ফিরি আমি, (এই) ফুল নিলে তার ভুলের আড়াল চিরতরে যায় গো স’রে।।
রাগ ও তাল
রাগঃ
তালঃ
আমি কালী নামের ফুলের ডালি এনেছি গো মাথায় ক’রে। দুখের সাগর পার হয়ে যায় এ ফুল যে বুকে ধ’রে।। (এই) প্রসাদী ফুল দিবস-যামী ফিরি ক’রে ফিরি আমি, (এই) ফুল নিলে তার ভুলের আড়াল চিরতরে যায় গো স’রে।।
রাগঃ
তালঃ
দীন দরিদ্র কাঙালের তরে এই দুনিয়ায় আসি’, হে হজরত বাদশাহ হয়েছিলে উপবাসী। (তুমি) চাহ নাই কেহ হইবে আমীর, পথের ফকির কেহ (কেহ) মাথা গুঁজিবার পাইবে না ঠাঁই, কাহারো সোনার গেহ, ক্ষুধার অন্ন পাইবে না কেহ, কারো শত দাস-দাসী।। (আজ) মানুষের ব্যথা অভাবের কথা ভাবিবার কেহ নাই ধনী মুস্লিম ভোগ ও বিলাসে ডুবিয়া আছে সদাই, (তাই) তোমারেই ডাকে যত মুস্লিম গরীব শ্রমিক চাষী।। বঞ্চিত মোরা হইয়াছি আজ তব রহমত হ’তে সাহেবী গিয়াছে, মোসাহেবী করি ফিরি দুনিয়ার পথে, আবার মানুষ হব কবে মোরা মানুষেরে ভালবাসি’।।
রাগঃ
তালঃ
মাতল গগন-অঙ্গনে ঐ আমার রণ-রঙ্গিণী মা। সেই মাতনে উঠল দুলে ভূলোক দ্যুলোক গগন-সীমা।। আঁধার-অসুর-বক্ষপানে অরুণ-আলোর খড়গ হানে, মহাকালের ডম্বরূতে উঠল বেজে মা’র মহিমা।। সৃষ্টি-প্রলয় যুগল নূপুর বাজে শ্যামার যুগল পায়ে, গড়িয়ে পড়ে তারার মালা উল্কা হয়ে গগন-গায়ে। লক্ষ গ্রহের মুন্ডমালা দোলে গলে দোলে ঐ বজ্র-ভেরীর ছন্দ-তালে নাচে শ্যামা তাথৈ থৈ, অগ্নি-শিখায় ঝলকে ওঠে খড়গ-ঝরা লাল শোণিমা।।
রাগঃ মালকোষ
তালঃ রূপক

আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী-নয়নে বহ্ণি, আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি! আমি উন্মন মন উদাসীর, আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর। আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের, আমি অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের! আমি অভিমানী চির-ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়, চিত-চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর! আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল-ক’রে দেখা অনুখন, আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র কাঁকন-চুড়ির কন-কন! আমি চির-শিশু, চির-কিশোর, আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচড় কাঁচলি নিচোর! আমি উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল, উদাস পূরবী হাওয়া, আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া। আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি, আমি মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি! আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ কি উন্মাদ, আমি উন্মাদ! আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ! আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী, মহা-সিন্ধু উতলা ঘুমঘুম ঘুম্ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্ঝুম মম বাঁশরীর তানে পাশরি’। আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী। আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার, নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার! মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না — অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না — বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত। আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন, আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন! আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন! আমি খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন! আমি চির-বিদ্রোহী বীর — বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! বল বীর - বল উন্নত মম শির! বল বীর, বল বীর।
রাগঃ
তালঃ দ্রুত-দাদ্রা

হে প্রবল দর্পহারী কৃষ্ণ-মুরারি। শরণাগত আর্ত-পরিত্রাণ-পরায়ণ — যুগ যুগ সম্ভব নারায়ণ দানবারি।। ভূ-ভার হরণে এসো জনার্দন হৃষিকেশ, কল্কীরূপে অধর্ম নিধনে এসো দনুজারি — কংসারি গিরিধারী ডাকে ভয়ার্ত নরনারী।। দুর্বল দীনের বন্ধু, জন-গণ ত্রাতা নিঃস্বের সহায় পরমেশ বিশ্ব-বিধাতা, তিমির-বিদারি এসো মহা-ভারত-বিহারী।। এসো উৎপীড়িতের নীরব রোদনে এসো এসো বীরের আত্মদানে প্রাণ-উদ্বোধনে এসো, দেশ-দ্রৌপদীর লজ্জাহারী, দৈত্য-গর্ব-খর্ব-কারী — শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম-ধারী।।
রাগঃ রাগেশ্রী
তালঃ সুরফাঁক্তা

ঐ নন্দন নন্দিনী দয়িতা, চির-আনন্দিতা। যেন প্রথম কবির প্রথম লেখা কবিতা ॥ তব চরণের নূপুরধ্বনি মধুকর গুঞ্জর তোলে যে রণি, মন মোর ভোলে হেরি তোমারে যে গো ঐ যে যৌবন-গর্বিতা ॥ দোলায় দোদুল দুল তব নৃত্য আবেশে আকুল হয় মোর চিত্ত, নৃত্যশেষে তব পায়ের নূপুর গ্রহ তারকায় রয় আকাশের সুদূর, সুরলোক উর্বশী তুমি যে আমার রও চির-অনিন্দিতা ॥
রাগঃ বেহাগড়া
তালঃ আদ্ধা
