তুমি কি নিশীথ-চাঁদ ভাঙাতে ঘুম

বাণী

স্ত্রী	:	তুমি কি নিশীথ-চাঁদ ভাঙাতে ঘুম
		চুপি চুপি আসিলে বাতায়নে।
পুরুষ	:	তুমি কি গো বন-দেবী পুষ্প-শোভিতা
		চেয়ে আছ কোন দূরে আনমনে।।
স্ত্রী	:	তোমারে হেরিয়া ফোটে মালতী হেনা
		হে চির চেনা
পুরুষ	:	সুদুর বনান্তে সমীরণ হেরি' তোমায় হ'লো অধীর
		পাপিয়া ডাকে বকুল বনে।।
স্ত্রী	:	তব কলঙ্ক অধিক মধুর লাগে হে কলঙ্কী চাঁদ,
		তোমারে হেরিয়া যত সাধ জাগে প্রাণে জাগে তত অবসাদ।
পুরুষ	:	তোমার ছায়া প'ড়ে মোর আননে
		কলঙ্কী নাম হলো মোর এই ভুবনে।
উভয়ে	:	আকাশের চাঁদে কুমুদ ফুলে
		মিলন হ'লো ধরার ভুলে
		অশ্রুসায়রে সঙ্গোপনে।।

যত নাহি পাই দেবতা তোমায়

বাণী

যত নাহি পাই দেবতা তোমায় , তত কাঁদি আর পূঁজি।
ত্ই লুকাও ধরা নাহি দাও, ততই তোমারে খুঁজি
কত সে রূপের রঙের মায়ায়, আড়াল করিয়া রাখ আপনায়
তবু তব পানে অশান্ত মন কেন ধায় নাহি বুঝি।।
কাঁদালে যদি গো এমন করিয়া কেন প্রেম দিলে তবে
অন্তবিহীন এ লুকোচুরির শেষ হবে নাথ কবে?
সহে না হে নাথ বৃথা আসা যাওয়া-
জনমে জনমে এই পথ চাওয়া
কাঁদিয়া কাঁদিয়া ফুরায়ে গেল চোখের জলের পুঁজি।।

রহি' রহি' কেন সে-মুখ পড়ে মনে

বাণী

রহি' রহি' কেন সে-মুখ পড়ে মনে
ফিরায়ে দিয়াছি যারে অনাদরে অকারণে।
উদাসী অলস দুপুরে
মন উড়ে' যেতে চায় সুদূরে
যে বন-পথে সে ভিখারির বেশে
করুণা জাগায়ে ছিল সকরুণ নয়নে।।
তার বুকে ছিল তৃষ্ণা মোর ঘটে ছিল বারি
পিয়াসি ফটিকজল জল পাইল না গো
ঢলিয়া পড়িল হায় জলদ নেহারি।
তার অহ্জলির ফুল পথ-ধূলিতে
ছড়ায়েছি-সেই ব্যথা নারি ভুলিতে
অন্তরালে যারে রাখিনু চিরদিন
অন্তর জুড়িয়া কেন কাঁদে সে গোপনে।।

সন্ধ্যা হল ওগো রাখাল এবার ডাক মোরে

বাণী

সন্ধ্যা হল ওগো রাখাল এবার ডাক মোরে
বেণুর রবে ধেনুগণে ডাক যেমন করে।।
	সংসারেরি গহন বনে
	ঘুরে ফিরি শূন্য মনে
ডাকবে কখন বাঁশির সনে আমায় আপন ঘরে।।
ভেঙেছে মোর প্রাণের মেলা ভাঙলো মায়ার খেলা
মোরে ডাক এবার তোমার পায়ে, আর করো না হেলা।
	মোর জীবনের কিশোর রাখাল,
	বাঁশি শুনে কাটলো সকাল
তন্দ্রা আন ক্লান্ত চোখে, তোমার সুরের ঘোরে।।

ধর্মের পথে শহীদ যাহারা আমরা সেই সে জাতি

বাণী

ধর্মের পথে শহীদ যাহারা আমরা সেই সে জাতি
সাম্য-মৈত্রী এনেছি আমরা বিশ্বে করেছি জ্ঞাতি।।
পাপ-বিদগ্ধ তৃষিত ধরার লাগিয়া আনিল যাঁরা
মরুর তপ্ত বক্ষ নিঙাড়ি শীতল শান্তি-ধারা
উচ্চ-নীচের ভেদ ভাঙি দিল সবারো বক্ষ পাতি’।।
কেবল মুসলমানের লাগিয়া আসেনি’ক ইসলাম
সত্যে যে চায় আল্লায় মানে মুসলিম তারি নাম
আমির ফকিরে ভেদ নাই — সবে ভাই, সব এক সাথি।।
নারীরে প্রথম দিয়াছি মুক্তি, নর্‌ সম অধিকার
মানুষের গড়া প্রাচীর ভাঙিয়া করিয়াছি একাকার।
আধার রাতির বোরখা উতারি এনেছি আশার-ভাতি।।

আমি যদি আরব হতাম মদিনারই পথ

বাণী

আমি যদি আরব হ’তাম — মদিনারই পথ।
এই পথে মোর চ’লে যেতেন নূর নবী হজরত।।
পয়জার তাঁর লাগত এসে আমার কঠিন বুকে,
আমি ঝর্না হয়ে গ’লে যেতাম অম্‌নি পরম সুখে;
সেই চিহ্ন বুকে পুরে পালিয়ে যেতাম কোহ্‌-ই-তুরে,
দিবা নিশি করতাম তাঁর কদম জিয়ারত।।
মা ফাতেমা খেলতো এসে আমার ধূলি ল’য়ে
আমি পড়তাম তাঁর পায়ে লুটিয়ে ফুলের রেণু হয়ে।
হাসান হোসেন হেসে হেসে নাচতো আমার বক্ষে এসে
চক্ষে আমার বইতো নদী পেয়ে সে নেয়ামত।।