দিতে এলে ফুল হে প্রিয়

বাণী

দিতে এলে ফুল,হে প্রিয়,কে আজি সমাধিতে মোর?
এতদিনে কি আমারে পড়িল মনে মনচোর।।
জীবনে যারে চাহনি তাহারে ঘুমাইতে দাও।
মরণ-পারে ভেঙো না,ভেঙো না তাহার ঘুম-ঘোর।।
দিতে এসে ফুল কেঁদো না প্রিয় মোর,সমাধি-পাশে
ঝরিল যে ফুল অনাদরে হায়,নয়ন-জলে বাঁচিবে না সে!
সামাধি-পাষাণ নহে গো তোমার সমান কঠোর।।
কত আশা,সাধ মিশে যায় মাটির সনে
মুকুলে ঝরে কত ফুল কীটেরি দহনে।
কেন অসময়ে আসিলে,ফিরে যাও,মোছ আঁখি -লোর।।

সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায়

বাণী

সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায় তুমি ফিরিলে না ঘরে,
আঁধার ভবন জ্বলেনি প্রদীপ মন যে কেমন করে।।
	উঠানে শূন্য কলসির কাছে
	সারাদিন ধরে ঝ’রে প’ড়ে আছে
তোমার দোপাটি গাঁদা ফুলগুলি যেন অভিমান ভরে।।
বাসন্তী রাঙা শাড়িখানি তব ধূলায় লুটায় কেঁদে,
তোমার কেশের কাঁটাগুলি বুকে স্মৃতির সমান বেঁধে।
	যাইনি বাহিরে আজ সারাদিন
	ঝরিছে বাদল শ্রান্তিবিহীন
পিয়া পিয়া ব’লে ডাকিছে পাপিয়া এ বুকের পিঞ্জরে।।

কুমকুম আবির ফাগের ল’য়ে কালিকা

বাণী

কুমকুম আবির ফাগের ল’য়ে কালিকা।
খেলিছে ‘রসিয়া’ হোরি ব্রজ-বালিকা।।
	হোরির অনুরাগে
	যমুনায় দোলা লাগে,
মাধব সনে ঐ খেলে মাধবিকা।।
	রঙের গাগরিতে
	রঙিলা ঘাগরিতে,
রঙের মাতন লাগায় নাগর-নাগরিকা।।
	জেগেছে রঙের নেশা
	মাধবী মধু-মেশা,
মনের বনে দোলে রাঙা ফুল-মালিকা।।

হে মদিনাবাসী প্রেমিক ধর

বাণী

হে মদিনাবাসী প্রেমিক ধর হাত মম।।
জ্বলওয়া দেখালে দিল হরিলে বন্ধু হলো বেগানা
হেসে হেসে সংসার কহে দীওয়ানা এ দীওয়ানা।।
বিরহের এ রাত একেলা কেঁদে হলো ভোর
হৃদয়ে মোর শান্তি নাহি কাঁদে পরান মোর।।
দুখের দোসর কেউ নাহি মোর নাই ব্যথী ব্যথার
তোমায় ভুলে ভাসি অকূলে পার করো সরকার।।

তব চঞ্চল আঁখি কেন ছলছল হে

বাণী

তব	চঞ্চল আঁখি কেন ছলছল হে।
	হেরি মোরা অবিরল জলে ভাসে কমল
	হেরি আজি কমলে উথলে জল হে।।
	চিরদিন কাঁদায়েছে যে জল নিঠুর
আজি	অশ্রু করেছে তারে একি সুমধুর
বঁধু	সাধ যায় ধরি তব সমুখে মুকুর
যেন	বরষিছে চাঁদ মুকুতাদল হে।
কোন	অকরুণা ভাঙিল হে পাষাণের বাঁধ
তব	কলঙ্ক লেখা গেল ধুয়ে যে হে চাঁদ।
	কাঁদ কাঁদ হে বঁধু তবে বুঝিবে মনে
কত	বেদনা পেলে জল ঝরে নয়নে
আজি	কাঁদিয়া শ্যামল হ'লে নির্মল হে।।

যেদিন রোজ হাশরে করতে বিচার

বাণী

যেদিন		রোজ হাশরে করতে বিচার তুমি হবে কাজী
		সেদিন তোমার দিদার আমি পাব কি আল্লাজী।।
		সেদিন নাকি তোমার ভীষণ কাহ্‌হার রূপ দেখে
		পীর পয়গম্বর কাঁদবে ভয়ে ‘ইয়া নফসী’ ডেকে;
		সেই সুদিনের আশায় আমি নাচি এখন থেকে।
আমি		তোমায় দেখে হাজারো বার দোজখ যেতে রাজী।
আল্লাহ 		তোমায় দেখে হাজারো বার দোজখ যেতে রাজি।।
		যেরূপে হোক বারেক যদি দেখে তোমায় কেহ
		দোজখ্‌ কি আর ছুঁতে পারে পবিত্র তাঁর দেহ।
সে 		হোক না কেন হাজার পাপী হোক না বে-নামাজী।।
		ইয়া আল্লাহ, তোমার দয়া কত তাই দেখাবে ব’লে
		রোজ-হাশরে দেখা দেবে বিচার করার ছলে, —
		প্রেমিক বিনে কে বুঝিবে তোমার এ কারসাজি।।