তুমি বর্ষার ঝরা চম্পা

বাণী

তুমি	বর্ষার ঝরা চম্পা, তুমি যূথিকা-অশ্রুমতী।
তুমি	কুহেলি-মলিন ঊষা, তুমি বেদনা-সরস্বতী।।
	কদম-কেশর-কীর্ণা
তুমি	পুষ্প-বীথিকা শীর্ণা,
হ’লে	ধরণীতে অবতীর্ণা —
	ক্ষীণ তারকা স্নিগ্ধ জ্যোতি।।
	মন্দ-স্রোতা মন্দাকিনী তুমি কি অলকানন্দা,
	আঁধারের কালো-কুন্তল-ঢাকা তুমি কি ধূসর সন্ধ্যা?
			পাষাণ-দেবতা-চরণে
			তুমি মরেছ অমর মরণে,
তুমি	অঞ্জলি ঝরা কুসুমের, তুমি ব্যর্থ ব্যথা-আরতি।।

এলো এলো রে ঐ সুদূর বন্ধু এলো

বাণী

এলো এলো রে ঐ সুদূর বন্ধু এলো।
এলো পথ চাওয়া এলো হারিয়ে পাওয়া
মনের আঁধার দূরে গেল, ঐ বন্ধু এলো।।
এলো চঞ্চল বন্যার ঢল মন্থর স্রোত-নীড়ে,
এলো শ্যামল মেঘ-মায়া তৃষিত গগন ঘিরে;
তার পলাতকা মৃগে বন ফিরে পেল।।
এলো পবনে বিহ্‌বল চঞ্চলতা
যেন শান্ত ভবনে এলো সারা ভুবনের কল-কথা।
অলি গুঞ্জরি’ কয় জাগো বনবীথি;
ডাকে দখিনা মলয় — এলো এলো অতিথি;
বাজে তোরণ দ্বারে বাঁশরি গীতি,
দুখ নিশি পোহাল, আঁখি মেল।।

নাটিকা: ‌‘বাসন্তিকা’

এ কি অপরূপ রূপের কুমার

বাণী

এ কি অপরূপ রূপের কুমার হেরিলাম সখি যমুনা কূলে,
তার	এ সুনীল লাবনি গলিয়া গলিয়া ঢলিয়া পড়িছে গগন-মূলে।।
যেন	কমল ফুটেছে সখি, সহস্র-দল রূপে-কমল ফুটেছে,
	রূপের সাগর মন্থন করি’ সখি চাঁদ যেন উঠছে। সখি গো —
	কালো সে রূপের মাঝে হয়ে যায় হারা
	কোটি আলো-রাধিকা-রবি, শশী, তারা,
	প্রেম-যমুনার তীরে সই আমি রিবধি দেখি তারে,
		দেখি আর চেয়ে রই।
	আমি এই রূপ চেয়ে থাকি
সখি	জনমে জনমে জীবনে মরণে এই রূপ চেয়ে থাকি।
ঐ	মোহন কালোর গহন কাননে হারাইয়া যাক আঁখি।।

যেন দুধ-সাগরের ননী দিয়ে তৈরী

বাণী

যেন দুধ-সাগরের ননী দিয়ে তৈরী লো এর গা।
পৃথিবী কি শিউরে ওঠে, এ রাখে যখন পা।।

নাটক : ‘মধুমালা’

পর হবে তোর আপন জনে

বাণী

পর হবে তোর আপন জনে (তুই) ভাবনা তবু করিস্‌ নে।
হয়ত তরী ডুববে জলে (তবু) তুফান দেখে ডরিস্‌ নে।।
ছেড়ে যাবে বন্ধু জ্ঞাতি
আসবে ঘিরে আঁধার রাতি,
জ্বালিয়ে পাঁজর জ্বালবে বাতি —
	মরবি তবু টলিস্‌ নে।।
তোর বেদনায় গলবে সবে
তোর আপন জনই আপন রবে,
তুই আপন পথে চল নীরবে —
	কারুর চরণ ধরিস্‌ নে।।

আকুল ব্যাকুল ঢুঁড়ত ফিঁরু

বাণী

আকুল ব্যাকুল ঢুঁড়ত ফিঁরু শ্যাম তুম বিনা রহন না জায়।
তুম হারে কারণ সব কুছ ছোড়ি প্রীতি ছোড়ন না যায়॥
	ক্যিউ তরসাও অন্তরযামী
	আওয়ো মিলো কির্‌পা কর স্বামী
নিঁদ নাহি র‍্যয় না দিন নাহি চ্যয় না, বিরহ কী আগ জ্বালায়॥