বেলা গেল সন্ধ্যা হ’ল

বাণী

বেলা গেল সন্ধ্যা হ’ল, (ওরে) এখন খোল আঁখি।
তুই সোনার খনির কাছে এসে ফিরলি ধূলা-মাখি।।
	এ সংসারের সার ছেড়ে তুই
	সং সেজে হায়, বেড়াস নিতুই,
যে তোরে ধন-রত্ন দিলো তারেই দিলি ফাঁকি।।
ভুলে রইলি যাদের নিয়ে, তাদের পেলি কোথা হতে,
তোর যাবার বেলায় কেউ কি সাথি হবে রে তোর পথে।
	এখনো তুই ডাক একবার
	নাইরে সীমা তাহার দয়ার,
সে-ই করবে ক্ষমা, ঘুম পাড়াবে শীতল বুকে রাখি।।

নাহি ভয় নাহি ভয়

বাণী

নাহি ভয় নাহি ভয়।
মৃত্যু সাগর মন্থন শেষ আসে মৃত্যুঞ্জয়।।
কৃষ্ণাতিথির তিমির হরণ
আসিল কৃষ্ণ তিমির বরণ,
দিকে দিকে ঐ গাহে জনগণ —
জয় হে জ্যোতির্ময়।।
দলিত হৃদয়-শতদলে তাঁর
আঁখি-জল-ঘেরা আসন বিথার,
ব্যথা-বিহারীরে দেখিবি কে আয়।
ধ্বংসের মাঝে বংশী বাজায়,
নিখিলের হৃদি বেদনা-আভায় —
নবীন অভ্যুদয়।।

জাগো জাগো রে মুসাফির

বাণী

জাগো জাগো, রে মুসাফির হ’য়ে আসে নিশিভোর।
ডাকে সুদূর পথের বাঁশি ছাড় মুসাফির-খানা তোর।।
অস্ত-আকাশ-অলিন্দে ঐ পান্ডুর কপোল রাখি’
কাঁদে মলিন ভোরের শশী, বিদায় দাও বন্ধু চকোর।।
মরুচারী খুঁজিস সলিল অগ্নিগিরির কাছে, হায়!
খুঁজিস অমর ভালোবাসা এই ধরণীর এই ধূলায়।
দারুণ রোদের দাহে খুঁজিস কুঞ্জ-ছায়া স্বপ্ন-ঘোর।।

কালো পাহাড় আলো করে কে

বাণী

কালো পাহাড় আলো করে কে ও কে কালো শশী,
নিতুই এসে লো বাজায় বাঁশি কদম তলায় বসি।।
	সই লো মানা কর্‌ না ওকে,
	ও চায় না যেন অমন চোখে,
ওর চাউনি দেখে অলপ বয়সে হলাম দোষী।।
গুরুজনের সে ভয় করে না,
বাঁকিয়ে ভুরু ডাকে — সে ডাকে, আমারে সে ডাকে।
রাতের বেলায় চোরের মত চাহে বেড়ার ফাঁকে।
	আমি না চাহিলে নূপুর ছুঁড়ে
	কলসি ভেঙে পালায় দূরে,
আমি মরেছি সই প'রে তাহার বনমালার রশি।।

দেবযানীর মনে প্রথম প্রীতির কলি জাগে

বাণী

দেবযানীর মনে প্রথম প্রীতির কলি জাগে।
কাঁপে অধর-আঁখি অরুণ অনুরাগে।।
	নব-ঘন-পরশে
	কদম শিহরে যেন হরষে,
ভীরু বুকে তা’র তেমনি শিহরণ লাগে।।
দেব-গুরু-কুমার ভোলে সঞ্জীবনী-মন্ত্র,
তপোবনে তার জাগে ব্যাকুল বসন্ত।
	নব-সুর-ছন্দ
	আনিল অজানা আনন্দ,
পূজা-বেদী তার রাঙিল চন্দন-ফাগে।।

১. হরষণ

সেদিন ছিল কি গোধূলি

বাণী

সেদিন ছিল কি গোধূলি–লগন শুভদৃষ্টি ক্ষণ।
চেয়েছিল মোর নয়নের পানে যেদিন তব নয়ন।।
সেদিন বকুল শাখে কি গো আঙিনাতে
ডেকে উঠেছিল কুহু–কেকা এক সাথে,
অধীর নেশায় দুলে উঠেছিল মনের মহুয়া বন।।
হে প্রিয়, সেদিন আকাশ হতে কি তারা পড়েছিল ঝ’রে,
যেদিন প্রথম ডেকেছিলে তুমি মোর ডাকনাম ধ’রে।
(প্রিয়) যেদিন প্রথম ছুঁয়েছিলে ভালবেসে
আকাশে কি বাঁকা চাদ উঠেছিল হেসে,
শঙ্খ সেদিন বাজায়েছিল কি পাষাণের নারায়ণ।।