বহু পথে বৃথা ফিরিয়াছি প্রভু

বাণী

বহু পথে বৃথা ফিরিয়াছি প্রভু হইব না আর পথহারা
বন্ধু স্বজন সব ছেড়ে যায় তুমি একা জাগো ধ্রুবতারা।।
	মায়ারূপী হায় কত স্নেহ-নদী,
	জড়াইয়া মোরে ছিল নিরবধি,
সব ছেড়ে গেল, হারাইনু যদি তুমি এসো প্রাণে প্রেমধারা।।
ভ্রান্ত পথের শ্রান্ত পথিক লুটায় তোমার মন্দিরে,
প্রভু আরো যদি কিছু আছে মোর প্রিয় লও বাঁচায়ে বন্দীরে।
	ডাকি' লও মোরে মুক্ত আলোকে
	তব আনন্দ-নন্দন-লোকে,
শান্ত হোক এ ক্রন্দন, আর সহে না এ বন্ধন-কারা।।

দুলে চরাচর হিন্দোল-দোলে

বাণী

দুলে চরাচর হিন্দোল-দোলে
বিশ্বরমা দোলে বিশ্বপতি-কোলে।।
গগনে রবি-শশী গ্রহ-তারা দুলে,
তড়িত-দোলনাতে মেঘ ঝুলন ঝুলে।
	বরিষা-শত-নরী
	দুলিছে মরি মরি,
	দুলে বাদল-পরী
		কেতকী-বেণী খোলে।।
নদী-মেঘলা দোলে, দোলে নটিনী ধরা,
দুলে আলোক নভ-চন্দ্রাতপ ভরা।
করিয়া জড়াজড়ি দোলে দিবস-নিশা,
দোলে বিরহ-বারি, দোলে মিলন-তৃষা।
	উমারে লয়ে বু’কে
	শিব দুলিছে সুখে,
	দোলে অপরূপ
		রূপ-লহর তোলে।।

আল্লাজী গো আমি বুঝি না রে তোমার খেলা

বাণী

আল্লাজী গো, আমি বুঝি না রে তোমার খেলা।
তাই দুঃখ পেলে ভাবি — বুঝি হানিলে হেলা।। 
কুমার যখন হাঁড়ি গড়ে, কাঁদে মাটি —
ভাবে, কেন পোড়ায় আমায় চড়িয়ে ভাটি;
ফুলদানি হয় পোড় খেয়ে সেই মাটির ঢেলা।। 
মা শিশুরে ধোয়ায় মোছায়, শিশু ভাবে —
ছাড়া পেলে, মা ফেলে সে পালিয়ে যাবে।
মোরা, দোষ করে তাই দুষি তোমায় সারা বেলা।।
আমরা তোমার বান্দা, খোদা তুমি জানো —
কেন হাসাও, কেন কাঁদাও, আঘাত হানো।
যে গড়তে জানে তাঁরই সাজে ভেঙে ফেলা।।

মহুল গাছে ফুল ফুটেছে নেশার ঝোঁকে ঝিমায়

বাণী

মহুল গাছে ফুল ফুটেছে নেশার ঝোঁকে ঝিমায় পবন
গুনগুনিয়ে ভ্রমর এলো, (ওলো) ভুল করে তোর ভোলালো মন।।
	আঁউরে গেছে মুখখানি ওর
	কর লো বাতাস খুলে আঁচর
চাঁদের লোভে এলো চকোর (ও তুই) মেঘে ঢাকিসনে লো নয়ন।।
	কেশের কাঁটা বিধে পাখায়
	রাখলো ওরে বেঁধে শাখায়
মৌটুসি মৌ মদের মিঠায় (ও তুই) কপটে কর নিকট আপন।।

নাটকঃ ‌‘মহুয়া’

আমার যখন পথ ফুরাবে

বাণী

আমার যখন পথ ফুরাবে, আসবে গহীন রাতি (খোদা) —
তখন তুমি হাত ধ'রো মোর হয়ো পথের সাথী (খোদা)।। 
অনেক কথা হয়নি বলা, বলার সময় দিও, খোদা —
আমার তিমির অন্ধ চোখে দৃষ্টি দিও প্রিয়, খোদা
বিরাজ করো বুকে তোমার আরশটিকে পাতি'।।
সারা জীবন কাটলো আমার বিরহে বঁধু,
পিপাসিত কন্ঠে এসে দিও মিলন-মধু।
তুমি যথায় থাকো প্রিয় সেথায় যেন যাই, খোদা
সখা ব'লে ডেকো আমায়, দীদার যেন পাই, খোদা।
সারা জনম দুঃখ পেলাম, যেন এবার সুখে মাতি।।

এলো এলো রে ঐ সুদূর বন্ধু এলো

বাণী

এলো এলো রে ঐ সুদূর বন্ধু এলো।
এলো পথ চাওয়া এলো হারিয়ে পাওয়া
মনের আঁধার দূরে গেল, ঐ বন্ধু এলো।।
এলো চঞ্চল বন্যার ঢল মন্থর স্রোত-নীড়ে,
এলো শ্যামল মেঘ-মায়া তৃষিত গগন ঘিরে;
তার পলাতকা মৃগে বন ফিরে পেল।।
এলো পবনে বিহ্‌বল চঞ্চলতা
যেন শান্ত ভবনে এলো সারা ভুবনের কল-কথা।
অলি গুঞ্জরি’ কয় জাগো বনবীথি;
ডাকে দখিনা মলয় — এলো এলো অতিথি;
বাজে তোরণ দ্বারে বাঁশরি গীতি,
দুখ নিশি পোহাল, আঁখি মেল।।

নাটিকা: ‌‘বাসন্তিকা’