চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়

বাণী

চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়
আজিকে যে রাজাধিরাজ কা'ল সে ভিক্ষা চায়।।
অবতার শ্রীরামচন্দ্র যে জানকীর পতি
তারও হলো বনবাস রাবণ করে দুর্গতি।
আগুনেও পুড়িল না ললাটের লেখা হায়।।
স্বামী পঞ্চ পাণ্ডব, সখা কৃষ্ণ ভগবান
দুঃশাসন করে তবু দ্রৌপদীর অপমান
পুত্র তার হলো হত যদুপতি যার সহায়।।
মহারাজ হরিশচন্দ্র, রাজ্য দান ক'রে শেষ
শ্মশান-রক্ষী হয়ে লভিল চণ্ডাল-বেশ
বিষ্ণু-বুকে চরণ-চিহ্ন, ললাট-লেখা কে খণ্ডায়।।

ওগো তারি তরে মন কাঁদে হায়

বাণী

ওগো	তারি তরে মন কাঁদে হায়, যায় না যারে পাওয়া
	ফুল ফোটে না যে কাননে, কাদেঁ দখিন হাওয়া।।
যে	মায়া-মৃগ পালিয়ে বেড়ায়   
	কেন এ মন তার পিছে ধায়
যে	দ'লে গেল পায়ে আমায় কেন তাহারি পথ চাওয়া।।
যে	আমারে ভুলে হলো সুখি যায় না তারে ভোলা,
যে	ফিরিবে না আর, তারি তরে রাখি দুয়ার খোলা।
	মৌন পাষাণ যে দেবতা
	হেরার ছলে কয় না কথা
	তারি দেউল দ্বারে কেন বন্দনা গান গাওয়া।।

আজি নাহি কিছু মোর মান-অপমান ব’লে

বাণী

আজি নাহি কিছু মোর মান-অপমান ব’লে।
সকলি দিয়াছি মোর ঠাকুরের রাঙা চরণের তলে॥
		মোর দেহ-প্রাণ, জাতি কুল মান,
		লজ্জা ও গ্লানি আর অভিমান;
(আমি) দিছি চিরতরে জলাঞ্জলি গো কালো যমুনার জলে॥
মোরে যদি কেহ ভালোবাসে আজ জল আসে আঁখি ভ’রে।
মোর ছল ক’রে সে যে ভালোবাসে মোর শ্যামসুন্দরে।
মোরে		না বুঝিয়া কেহ করিলে আঘাত
		কেঁদে বলি, ওরে ক্ষমা করো নাথ্
বৃন্দাবনে যে প্রেম মধুর হয় আঘাত নিন্দাছলে॥

উচ্ছে নহে ঝিঙে নহে নহে সে পটল

বাণী

		উচ্ছে নহে, ঝিঙে নহে, নহে সে পটল ব্রজের আলু
		পিয়া হতে জনম তাই পি’য়াজ সুডোল ব্রজের আলু।।
		রসঘন রসুনের সে গন্ধতুত দাদা, ও দাদা
		রস কিছু কম হলে হতো আম আদা, ও দাদা
সে		আরো খানিক ডাগর হলে ঐ হতো ওল, ব্রজের আলু।।
		পরম বৈষ্ণব সে যে ফল-দল মাঝে — ও দাদা
		হের তার শিরে চৈতন-চুট্‌কী বিরাজে — ও দাদা
আবার	মাথাটি বাবাজীর মতো চাঁচাছোলা গোল
তার		মাথাটি বাবাজীর মতো চাঁচা ছোলা গোল, ব্রজের আলু।।
কাঁদে		ছল ক’রে সব বিরহিণী ইহাকে থ্যাত্‌লাতে — ও দাদা
		চক্ষু বুজে পন্ডিতে খান, বলেন ‘আলুভাতে’ — ও দাদা
ওরে		পাতে তুলেছি তুলব জাতে ব’দলে এবার ভোল, ব্রজের আলু।।

মধুর নূপুর রুমুঝুমু বাজে

বাণী

মধুর নূপুর রুমুঝুমু বাজে।
কে এলে মনোহর নটবর-সাজে।।
নিশীথের ফুল ঝরে রাঙা পায়ে
মাধবী রাতের চাঁদ এলে কি লুকায়ে,
'পিয়া পিয়া' ব'লে পাখি ডাকে বন-মাঝে।।

ঝুলে কদমকে ডারকে ঝুলনা পে

বাণী

ঝুলে কদমকে ডারকে ঝুলনা পে কিশোরী কিশোর।
দেখে দোউ এক এককে মুখকো চন্দ্রমা চকোর,
য্যায়সে চন্দ্রমা চকোর হোকে প্রেম নেশা বিভোর।।
মেঘ মৃদং বাজে ওহি ঝুলনাকে ছন্দ্‌ মে
রিম্‌ঝিম্‌ বাদর বরসে আনন্দ্‌ মে,
দেখনে যুগল শ্রীমুখ চন্দকো গগন ঘেরি ঘনঘটা ঘোর।।
নব নীর বরসনে কো চাতকিনী চায়
ওয়সে গোপী ঘনশ্যাম দেখ তৃষ্ণা মিটায়,
সব দেবদেবী বন্দনা গীত গায় — 
ঝরে বরসামে ত্রিভুবনকি প্রেমাশ্রুলোর।।