ঘুম আয় ঘুম ঘুম

বাণী

ঘুম আয় ঘুম, ঘুম ঘুম ঘুম।
আকাশ-বাতাস জল থল উপবন সব হোক নিঝ্ঝুম।।
শান্ত হোক সব অশান্ত কলরোল
রে পথিক! জীবন-পথের ক্লান্তি ভোল্
নয়নে লাগুক সুখ-স্বপনের কুঙ্কুম।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (ঘুমপরী স্বপনপরীর গান)

হৃদয় কেন চাহে হৃদয় আমি জানি মন জানে

বাণী

হৃদয় কেন চাহে হৃদয়, আমি জানি মন জানে
জানে নদী কেন যে সে, যায় ছুটে সাগর পানে।।
কেহ বারি কেন চাহে, জানে চাতক, জানে মেঘ,
জানে চকোর সুদূর নভে, চাঁদ কেন তারে টানে।।
কুসুম কেন চাহে শিশির, জানে শিশির, জানে ফুল,
জানে বুলবুল আছে কাঁটা, তবু যায় গুল-বাগানে।
আঁখি চাহে আঁখি-বারি , মন চাহে মনোব্যথা
প্রাণ আছে যার সেই জানে, কেন চাহে প্রাণে প্রাণে।।

ওগো তারি তরে মন কাঁদে হায়

বাণী

ওগো	তারি তরে মন কাঁদে হায়, যায় না যারে পাওয়া
	ফুল ফোটে না যে কাননে, কাদেঁ দখিন হাওয়া।।
যে	মায়া-মৃগ পালিয়ে বেড়ায়   
	কেন এ মন তার পিছে ধায়
যে	দ'লে গেল পায়ে আমায় কেন তাহারি পথ চাওয়া।।
যে	আমারে ভুলে হলো সুখি যায় না তারে ভোলা,
যে	ফিরিবে না আর, তারি তরে রাখি দুয়ার খোলা।
	মৌন পাষাণ যে দেবতা
	হেরার ছলে কয় না কথা
	তারি দেউল দ্বারে কেন বন্দনা গান গাওয়া।।

বৃন্দাবনে এ কি বাঁশরি বাজে

বাণী

বৃন্দাবনে এ কি বাঁশরি বাজে।
গোপিনী উন্মনা, মন নাহি কাজে।।
কুলবধূ-ঘটে-ঘটে সে-বাঁশি স্বনে
উছলি’ উছলি’ উঠে নীর ক্ষণে ক্ষণে,
নয়ন-সলিল ঝরে গাগরি-মাঝে।।

দোহাই তোদের এবার তোরা

বাণী

দোহাই তোদের! এবার তোরা সত্যি করে সত্য বল্।
ঢের দেখালি ঢাক ঢাক গুড় গুড় ঢের মিথ্যা ছল।।
পেটে এক আর মুখে আরেক — এই যে তোদের ভন্ডামি,
এতেই তোরা লোক হাসালি, বিশ্বে হলি কম্‌-দামি।
নিজের কাছেও ক্ষুদ্র হলি আপন ফাঁকির আফসোসে,
বাইরে ফাঁকা পাঁয়তারা তাই, নাই তলোয়ার খাপ-কোষে।
তাই হলি সব সেরেফ আজ কাপুরুষ আর ফেরেব-বাজ
সত্য কথা বলতে ডরাস তোরাই আবার করবি কাজ —
				ফোঁপরা ঢেঁকির নেইক লাজ।
ইলশেগুড়ি বৃষ্টি দেখেই ঘর ছুটিস্‌ সব রাম-ছাগল!
যুক্তি তোদের খুব বুঝেছি, দুধকে দুধ আর জলকে জল।।

মৃত্যু নাই নাই দুঃখ আছে শুধু প্রাণ

বাণী

মৃত্যু নাই, নাই দুঃখ, আছে শুধু প্রাণ।
আনন্ত আনন্দ হাসি অফুরান।।
	নিরাশার বিবর হ’তে
	আয় রে বাহির পথে,
দেখ্ নিত্য সেথায় — আলোকের অভিযান।।
ভিতর হ’তে দ্বার বন্ধ ক’রে
জীবন থাকিতে কে আছিস্‌ ম’রে।
	ঘুমে যারা অচেতন
	দেখে রাতে কু-স্বপন,
প্রভাতে ভয়ের নিশি হয় অবসান।।