কানাই রে কই তোর চূড়া বাঁশরি

বাণী

নিত্যানন্দ	:	কানাই রে কই তোর চূড়া বাঁশরি!
			তুই নাকি সেই নন্দদুলাল এলি নদীয়ায় ব্রজ পাশরি’।।
নিমাই		:	কি পুছসি আমারে ভাই
			এবার চূড়া বাঁশরি নাই,
			ব্রজের খেলা বাঁশির তান
			ন’দের খেলা হরি-গান।
			ব্রজের বেশ ধড়াচূড়া
			ন’দের বেশ কৌপীন পরা,	
			ব্রজের খেলা রাখাল হয়ে,
			ন’দের খেলা ধূলি ল’য়ে।
নিত্যানন্দ	:	নদীয়াতে বিষ্ণুপ্রিয়া, ব্রজের রাইকিশোরী।।

নাটক : ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’ (নিত্যানন্দ ও নিমাইয়ের গান)

মোরে ভালোবাসায় ভুলিয়ো না

বাণী

মোরে	ভালোবাসায় ভুলিয়ো না
			পাওয়ার আশায় ভুলিয়ো
মোরে	আদর দিয়ে দুলিয়ো না
			আঘাত দিয়ে দুলিয়ো।।
		হে প্রিয় মোর একি মোহ
		এ প্রাণ শুধু চায় বিরহ
তুমি	কঠিন সুরে বেঁধে আমায়
			সুরের লহর তুলিয়ো।।
প্রভু	শান্তি চাহে জুড়াতে সব
			আমি চাহি পুড়িতে
		সুখের ঘরে আগুন জ্বেলে’
		পথে পথে ঝুরিতে;
		বঁধু	পথে পথে ঝুরিতে।
			নগ্ন দিনের আলোকেতে
			চাহি না তোমায় ব’ক্ষে পেতে
তুমি	ঘুমের মাঝে স্বপনেতে
			হৃদয়–দুয়ার খুলিয়ো।।

গম্ভীর আরতি নৃত্যের ছন্দে

বাণী

গম্ভীর আরতি নৃত্যের ছন্দে।
হে প্রভু! তোমারে প্রকৃতি বন্দে।।
	চন্দ্র সূর্য কত শত গ্রহ তারা
	তোমারে ঘিরি’ নাচে প্রেমে মাতোয়ারা,
অনন্ত কাল ঘোরে ধূমকেতু উল্কা আগুন জ্বালায়ে বুকে উগ্র আনন্দে
লীলায়িত সিন্ধু অবোধ উল্লাসে,
মেঘ হ’য়ে উড়ে যেতে চায় তব পাশে।
	নব নব সৃষ্টি বৃষ্টিধারার প্রায়
	সেই ছন্দের তালে অবিরাম ঝ’রে যায়,
ধরণীর গোপন অনুরাগ ভক্তি ফুটে ওঠে নীরব পুষ্প-সুগন্ধে।।

১. প্রেম ২. ভাব উল্লাসে

চাঁদের কন্যা চাঁদ সুলতানা

বাণী

চাঁদের কন্যা চাঁদ সুলতানা, চাঁদের চেয়েও জ্যোতি।
তুমি দেখাইলে মহিমান্বিতা নারী কী শক্তিমতী।।
শিখালে কাঁকন চুড়ি পরিয়াও নারী,
ধরিতে পারে যে উদ্ধত তরবারি,
না রহিত অবরোধের দুর্গ, হতো না এ দুর্গতি।।
তুমি দেখালে নারীর শক্তি স্বরূপ – চিন্ময়ী কল্যাণী,
ভারত জয়ীর দর্প নাশিয়া মুছালে নারীর গ্লানি।
তুমি গোলকুন্ডার কোহিনূর হীরা সম
আজো ইতিহাসে জ্বলিতেছে নিরুপম,
রণরঙ্গিণী ফিরে এসো,
তুমি ফিরিয়া আসিলে, ফিরিয়া আসিবে লক্ষী ও সরস্বতী।।

তুমি অনেক দিলে খোদা

বাণী

তুমি অনেক দিলে খোদা, দিলে অশেষ নিয়ামত —
আমি লোভী, তাইতো আমার মেটে না হসরত।।
কেবলই পাপ করি আমি — মাফ করিতে তাই, হে স্বামী,
দয়া করে শ্রেষ্ঠ নবীর করিলে উম্মত।
তুমি নানান ছলে করছ পূরণ ক্ষতির খেসারত।।
মায়ের বুকে স্তন্য দিলে, পিতার বুকে স্মেহ;
মাঠে শস্য ফসল দিলে আরাম লাগি' গেহ।  
ঈদের চাঁদের রং মশালে রঙীন বেহেশ্‌ত পথ দেখালে
আখেরেরই সহায় দিলে আখেরী হজরত।
তুমি আজান দিলে না ভুলিতে মসজিদেরই পথ।।

বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি

বাণী

বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি
	সেই চির-চেনা সুরে।
যে সুরে বিরহী প্রাণ আজও ঝুরে।।
যে সুরে হৃদয়ে হোরির রং লাগে
ভুলে যাওয়া যৌবন-স্মৃতি মনে জাগে,
আকাশ কাঁদে যে সকরুণ রাগে —
যে সুর ঘুমায়ে আছে প্রিয়ার নূপুরে।।
যে সুর শুনি আজো পল্লীর প্রান্তে
মল্লিকা-কুঞ্জে শ্রান্ত দিনান্তে,
বিরহ বিধূর দূর হারানো দিনের —
ছায়া ফেলে যে-সুর মনের মুকুরে।।