এলো ঈদল-ফেতর এলো

বাণী

	এলো ঈদল-ফেতর এলো ঈদ ঈদ ঈদ।
	সারা বছর যে ঈদের আশায় ছিল নাক’ নিদ।।
	রোজা রাখার ফল ফ’লেছে দেখ রে ঈদের চাঁদ,
	সেহরী খেয়ে কাটল রোজা, আজ সেহেরা বাঁধ,
			ওরে বাঁধ আমামা বাঁধ।
	প্রেমাশ্রুতে ওজু ক’রে চল্ ঈদগাহ মসজিদ।।
(আজ)	ছিটায় মনের গোলাব-পাশে খুশির গোলাব-পানি
(আজ)	খোদার ইস্কের খুশবু-ভরা প্রাণের আতরদানি,
	ভরল হৃদয়-তশ্‌তরিতে শিরনি তৌহিদ।।
(দেখ্)	হজরতের হাসির ছটা ঈদের চাঁদে জাগে
	সেই চাঁদেরই রং যেন আজ সবার বুকে লাগে,
(এই)	দুনিয়াতেই মিটল ঈদে বেহেশ্‌তী উমিদ।।

নাটিকা : ‘ঈদ’ (বিদৌরার গান)

আমি সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায়

বাণী

আমি		সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে
		দলগুলি মোর রেঙে ওঠে তোমার হাসির কিরণ মেখে’।।
			নিত্য জানাই পেম-আরতি
			যে পথে, নাথ, তোমার গতি
		ওগো আমার ধ্রুব-জ্যোতি সাধ মেটে না তোমায় দেখে’।।
		জানি, তুমি আমার পাওয়ার বহু দূরে, হে দেবতা!
		আমি মাটির পূজারিণী, কেমন ক’রে জানাই ব্যথা।
			সারা জীবন তবু, স্বামী,
			তোমার ধ্যানেই কাঁদি আমি
		সন্ধ্যাবেলায় ঝরি যেন তোমার পানে নয়ন রেখে’।।

এসেছে রে অধর্মের আজ

বাণী

এসেছে রে অধর্মের আজ শেষ বিচারের দিন।
	কাপুরুষ মোরা মোদেরি দোষে
	অধর্ম আজ রক্ত শোষে,
আজ সে ক্ষুদ্রে রুদ্র রোষে — করব চরণ-লীন।।

গিরিধারী গোপাল ব্রজ গোপ দুলাল

বাণী

গিরিধারী গোপাল ব্রজ গোপ দুলাল
অপরূপ ঘনশ্যাম নব তরুণ তমাল॥
বিশাখার পটে আঁকা মধুর নিরুপম
কান্ত ললিতার শ্রীরাধা প্রীতম
রুক্মিণী-পতি হরি যাদব ভূপাল॥
যশোদার স্নেহডোরে বাঁধা ননীচোর
নন্দের নয়ন-আনন্দ-কিশোর
শ্রীদাম-সুদাম-সখা গোঠের রাখাল॥
কংস-নিসূদন কৃষ্ণ মথুরাপতি
গীতা উদ্‌গাতা পার্থসারথি
পূর্ণ ভগবান বিরাট বিশাল॥

আজ্‌কা হইবো মোর বিয়া কাল্‌কা আইমু বউ লইয়া

বাণী

আজ্‌কা হইবো মোর বিয়া কাল্‌কা আইমু বউ লইয়া,
থাইগ্‌বা তোমরা ফ্যাল-ফ্যালাইয়া বুঝ্‌ল্যা গোপ্‌লা মুকুন্দ্যা।।
তাইরে নাইরে নাইরে না, রইমু ঘরে বাইরে না
হকাল হইন্ধ্যা দুপইত্‌ত্যা চইল্যা যাইবো কোহান্ দ্যা।।

[আরে ও পরামানিকের পো, ক্ষুরবার লইয়া যাইতাছো কই?
আমারে বর কামান কামাইয়া দিয়া যাওছ্যান!
আইজগ্যা যে আমার বিয়া হইবো! [হ আরে আহো! আহো]
তাইরে নাইরে নাইরে না, রইমু ঘরে বাইরে না
হকাল হইন্ধ্যা দুপইত্‌ত্যা চইল্যা যাইবো কোহান্ দ্যা।।

[হউর হাউরী পাইমু কাল্‌, হুমুন্দী, আর হালার পাল
কইবো মোরে, হুনত্যাছ? ও-জামাই, কড়াকড়ির কী কাম আছে,
আর দুইডা দিন থাইক্যা যাও না ক্যা? অ্যা!]
আরে আমি উঠ্‌মু কি গাছত্ গিয়া, উৎকা মাইর্যা  ফাল দিয়া,
ভাইরে, হালার পরান ডা, (ভাইরে) নাইচ্যা উঠ্‌ছে এ্যাহন্ থ্যা।
তাইরে নাইরে নাইরে না, রইমু ঘরে বাইরে না
হকাল হইন্ধ্যা দুপইত্‌ত্যা চইল্যা যাইবো কোহান্ দ্যা।।

[আরে ও মুখুজ্যা ভাই, মুখুজ্যা ভাই, আরে যাও কই, হুইনা যাও।
হুইনা যাও। হক্‌কল দিনই তো বলদ লইয়া মাঠে চরাইবার যাও।
আজকা আমারে লইয়া মাইয়ার বাড়ি যাওন লাগ্‌বো,
খাওন-দাওন আছে খাওন-দাওন আছে! ঠইগ্‌বা না, ঠইগ্‌বা না!]
তাইরে নাইরে নাইরে না, রইমু ঘরে বাইরে না
হকাল হইন্ধ্যা দুপইত্‌ত্যা চইল্যা যাইবো কোহান্ দ্যা।।

[খাইমু কি কি আরে হুনছ — গোপ্‌লা, ও মুকুন্দ্যা!
আরে, মুকুন্দ্যা ঐ খানে যাইয়া খারাইয়া আছত্ কিল্ল্যাইগ্যা? আহো, হুনো!
মাংস খাইমু, লুচি খাইমু, পাত্‌ক্ষীর খাইমু, আর দইও খাইমু। আর তোমরা
অভাগ্যা, অভাগ্যার পাল! তোমরা তো খাইবা না, তোমরা চাইটবা! চুকা কাসুন্দ্যা চাইটবা।]
ফুচ্‌কি দিয়া তোমরা চোর, দেখ্‌বার চাইবা বউরে মোর,
রাখুম তারে লুকাইয়া, হোগলার বস্তা চাপুনদ্যা।।
তাইরে নাইরে নাইরে তাই, বউরে ছাইর্যা  যাইরে ভাই
থাক্‌তে পরান অসুম্ না, (ভাই) পইচ্যা হইমু ফাপুন্দ্যা।।

[আরে গোরা-চাঁন যে, অকালের গাড়িতে আইল্যা বুঝি?
তোমরা দুই ভাইয়েই তো কোলকাতায় আষ্ট বছর কাল
ঘরজামাই হইয়া আছো। বউর লগে ভাব ক্যামুন। চালতাছে ক্যামন? অ্যা?]

হে প্রিয় আমারে দিব না ভুলিতে

বাণী

	হে প্রিয় আমারে দিব না ভুলিতে
মোর	স্মৃতি তাই রেখে' যাই শত গীতে।।
	বিষাদিত সন্ধ্যায় শুনিবে দূরে
	বিরহী বাঁশি ঝুরে আমারি সুরে
	আমারি করুণ গাথা গাহিবে কে কোথা
	সজল মেঘ-ঘেরা নিশীথে।।
	গোধূলি-ধূসর ম্লান আকাশে
	হেরিবে আমার মূরতি ভাসে
	তব পদদলিত ফুলের বাসে
	পড়িবে মনে আমারে চকিতে।।