ফুল-ফাগুনের এলো মরশুম

বাণী

ফুল-ফাগুনের এলো মরশুম বনে বনে লাগল দোল্।
কুসুম-সৌখিন দখিন হাওয়ার চিত্ত গীত-উতরোল।।
অতনুর ঐ বিষ-মাখা শর নয় ও-দোয়েল শ্যামার শিস্,
ফোটা ফুলে উঠ্‌ল ভ’রে কিশোরী বনের নিচোল।।
গুল্‌বাহারের উত্তরী কার জড়াল তরু-লতায়,
মুহু মুহু ডাকে কুহু তন্দ্রা-অলস, দ্বার খোল।
রাঙা ফুলে ফুল্ল-আনন দোলে কানন-সুন্দরী,
বসন্ত তার এসেছে আজ বরষ পরে পথ-বিভোল্।

সো’জা সো’জা সো’জা জগ নরনারী

বাণী

সো’জা সো’জা সো’জা জগ নরনারী
বাদল গ্যর‍্যজো বিজলি চ্যম্যকে
র‍্যজ্যনী হো রহ্ আঁধিয়ারী।।

নাটিকাঃ ‘জন্মষ্টমী’

সখি সাপের মণি বুকে করে কেঁদে নিশি যায়

বাণী

সখি সাপের মণি বুকে করে কেঁদে নিশি যায়
কাল-নাগিনী ননদিনী দেখতে পাছে পায় (লো সখি)।।
	সই প্রানের গোপন কথা মম
	পিঞ্জরেরি পাখির সম
পাখা ঝাপটিয়া কাঁদে বাহির হতে চায়।।
পাড়ার বৌ-ঝি যদি জলের ঘাটে কানে কথা কয়
আমার কথাই কইলো বুঝি মনে জাগে ভয় (সখি)
আমি চাইতে নারি চোখে চোখে
পাছে মনের কথা জানে লোকে।
	আমার একি হলো দায়
	সখি লুকানো না যায়
সখি কাঙাল যেমন পেয়ে রতন থুইতে ঠাঁই না পায়।।

ঝর্ঝর নির্ঝর ধারা বহে

বাণী

	ঝর্ঝর নির্ঝর ধারা বহে, পাহাড়ি পথে।
যেন	বন-দেবীর বীণা বাজে ভোর আলোতে।।
	ঝিকিমিকি ঝিকিমিকি প্রভাতী তারা
	শোনে সেই জল-ছলছল সুর তন্দ্রাহারা,
	গ’লে পড়ে আনন্দে তুষার ধারা গিরি-শিখর হ’তে।।
	রঙিন প্রজাপতি অলস মনে,
	হাল্‌কা, পাখায় ফেরে দোপাটি-বনে।
	শোনে মঞ্জীর বনলক্ষ্মীর, কঙ্কণ চুড়ি বাজে নুড়ির তালে,
	পাষাণ-জাগানো ঝরনা-স্রোতে।।

বন্ধু তোমার দুয়ার বন্ধ

বাণী

বন্ধু তোমার দুয়ার বন্ধ।
তবু তোমার গৃহের পথে ছুটে কমল-গন্ধ॥
বন্ধু তোমার অলক-উড়া মনে পড়ে মনে পড়ে,
বন্ধু তোমার পুলক ঝরা আজও আছে বক্ষে ঝ’রে।
প্রথম যেদিন দুয়ার খোলা
দেখি তোমায় আপন ভোলা;
রাজপথেতে লোকের মেলা
	তুমি আপন সুরে অন্ধ॥
বন্ধু তুমি ভুলে যাওয়া গানের বুঝি সুর
হারিয়ে পাওয়া আলোকপুরের স্বপ্ন সুমধুর,
বন্ধু তোমার হাতের বীণা
তোমার মতই লজ্জাহীনা
তোমার মতই ছিন্ন ভিনা
	তোমার মতই হত-ছন্দ॥

[অগ্রন্থিত নজরুল, সংকলন ও সম্পাদনাঃ ব্রহ্মমোহন ঠাকুর, ডি. এম. লাইব্রেরি, কলকাতা, ২০০৩]

ছি ছি ছি কিশোর হরি

বাণী

ছি ছি ছি কিশোর হরি, হেরিয়া লাজে মরি
সেজেছ এ কোন রাজ সাজে
যেন সঙ্ সেজেছ, হরি হে যেন সঙ্‌ সেজেছ —
ফাগ মুছে তুমি পাপ বেঁধেছ হরি হে যেন সঙ্ সেজেছ;
সংসারে তুমি সঙ্ সাজায়ে নিজেই এবার সঙ্ সেজেছ।
বামে শোভিত তব মধুরা গোপিনী নব
সেথা মথুরার কুবুজা বিরাজে।
মিলেছে ভাল, বাঁকায় বাঁকায় মিলেছে ভাল,
ত্রিভঙ্গ অঙ্গে কুবুজা সঙ্গে বাঁকায় বাঁকায় মিলেছে ভাল।
হরি ভাল লাগিল না বুঝি হৃদয়-আসন
তাই সিংহাসনে তব মজিয়াছে মন
প্রেম ব্রজধাম ছেড়ে নেমে এলে কামরূপ
হরি, এতদিনে বুঝিলাম তোমার স্বরূপ
তব স্বরূপ বুঝি না হে
গোপাল রূপ ফেলে ভূপাল রূপ নিলে স্বরূপ বুঝি না হে।
হরি মোহন মুরলী কে হরি’ নিল
কুসুম কোমল হাতে এমন নিঠুর রাজদন্ড দিল
মোহন মুরলী কে হরি।
দন্ড দিল কে, রাধারে কাঁদালে বলে দন্ড দিল কে
দন্ডবৎ করি শুধাই শ্রীহরি দন্ড দিল কে
রাঙা চরণ মুড়েছে কে সোনার জরিতে 
খুলে রেখে মধুর নূপুর, হরি হে খুলে রেখে মধুর নূপুর।
হেথা সবাই কি কালা গো ?
কারুর কি কান নাই নূপুর কি শোনে নাই, সবাই কাল গো
কালায় পেয়ে হল হেথায় সবাই কি কালা গো।
তব এ রূপ দেখিতে নারি, হরি আমি ব্রজনারী,
ফিরে চল তব মধুপুর
সেথা সকলি যে মধুময়, অন্তরে মধু বাহিরে মধু
সেথা সকলি যে মধুময় — ফিরে চল হরি মধুপুর।