বহিছে সাহারায় শোকেরই 'লু' হাওয়া

বাণী

বহিছে সাহারায় শোকেরই 'লু' হাওয়া
দোলে অসীম আকাশ আকুল রোদনে।
নূহের প্লাবন আসিল ফিরে যেন,
ঘোর অশ্রু-শ্রাবণ ধারা ঝরে সঘনে।।
'হায় হোসেনা' 'হায় হোসেনা' বলি'
কাঁদে গিরি নদী, কাঁদে বনস্থলী
কাঁদে পশু ও পাখী তরুলতার সনে।।
ফকির বাদশাহ গরীব ওমরাহে
কাঁদে তেমনি আজো তাঁরি মর্সিয়া গাহে,
বিশ্বে যাবে মুছে মুছিবে না এ আঁসু,
চিরকাল ঝরিবে কালের নয়নে।।
সেই সে কারবালা সেই ফোরাত নদী
কুল-মুসলিম-হৃদে গাহিছে নিরবধি,
আসমান জমীন রহিবে যতদিন
সবে কাঁদিবে এমনি আকুল কাঁদনে।।

সখি লো তায় আন ডেকে

বাণী

সখি লো তায় আন ডেকে যে গান গেয়ে যায় পথ দিয়ে।
সই দিব তারে কণ্ঠহার, তার কণ্ঠেরি ঐ সুর নিয়ে॥
		কারুর পানে নাহি চায়
	সে 	আপন মনে গেয়ে যায়
প্রাণ কাঁপে সুরের নেশায় নয়ন আসে ঝিমিয়ে॥
		সখি লো শুধিয়ে আয়
		সে শিখিল এ গান কোথায়
এত মধু তার গলায় কার অধর-সুধা পিয়ে॥
		যার গানে এত প্রাণ মাতায়
		না জানি কি হয় দেখ্‌লে তায়
তার সুর শুনে কেউ প্রাণ পায় কেউ ফেলে প্রাণ হারিয়ে॥

দক্ষিণ সমীরণ সাথে বাজো বেণুকা

বাণী

দক্ষিণ সমীরণ সাথে বাজো বেণুকা।
মধু-মাধবী সুরে চৈত্র-পূর্ণিমা রাতে, বাজো বেণুকা।।
বাজো		শীর্ণা-স্রোত নদী-তীরে
		ঘুম যবে নামে বন ঘিরে’
যবে		ঝরে এলোমেলো বায়ে ধীরে ফুল-রেণুকা।।
		মধু মালতী-বেলা-বনে ঘনাও নেশা
		স্বপন আনো জাগরণে মদিরা মেশা।
			মন যবে রহে না ঘরে
			বিরহ-লোকে সে বিহরে
		যবে নিরাশার বালুচরে ওড়ে বালুকা।।

কেমনে রাখি আঁখি–বারি চাপিয়া

বাণী

কেমনে রাখি আঁখি–বারি চাপিয়া
প্রাতে কোকিল কাঁদে নিশীথে পাপিয়া।।
এ ভরা ভাদরে আমার মরা নদী
উথলি’ উথলি’ উঠিছে নিরবধি
আমার এ ভাঙা ঘটে, আমার এ হৃদিতটে
চাপিতে গেলে ওঠে দু’কূল ছাপিয়া।।
নিষেধ নাহি মানে আমার এ পোড়া আঁখি
জল লুকাবো কত কাজল মাখি’ মাখি’
ছলনা ক’রে হাসি, অমনি জলে ভাসি
ছলিতে গিয়া আসি ভয়েতে কাঁপিয়া।।

তোমার আমার এই বিরহ সইব কত আর

বাণী

তোমার আমার এই বিরহ সইব কত আর
রইবে কত আড়াল টেনে গ্রহ-তারকার।।
	তৃষিত মোর হৃদয় যাচে
	এসো আমার বুকের কাছে
যেমন দূরের চাঁদকে ডাকে ব্যাকুল পারাবার।।
হাত চাহে মোর ব'সো কাছে করবো সেবা তব,
নয়ন বলে নয়ন পাতায় রাখবো হে বল্লভ।
	হে নাথ তোমার তীর্থ পথে
	এ প্রাণ চাহে ধূলি হ'তে
ঘুচবে কবে মোদের মাঝে অসীম অন্ধকার।।

ধীরে চল চরণ টলমল

বাণী

ধীরে চল চরণ টলমল
সখি নতুন মদের নেশা
পিয়েছে বিষ-মেশা,
	চল্‌তে পথে উঠি চ’ম্‌কে।
এক খাওয়ালো মুখপোড়া কালো ছোঁড়া
	ওঠে অঙ্গ ক্ষণে ক্ষণে ছ’ম্‌কে।।
গুরুজনের কাছে ঢ’লে ঢ’লে পড়ি,
গেল কুলমান আমি লাজে মরি।
ও সে কদম-তলায়, বাঁশি বাজায়, আড় চোখে চায়,
পেলে একলা পথে আগ্‌লে দাঁড়ায় সে থ’ম্‌কে।।

চলচ্চিত্র : ‘পাতালপুরী’