ধানের ক্ষেতের ঢেউ লেগে আজ

বাণী

ধানের ক্ষেতের ঢেউ লেগে আজ প্রাণের বাঁধন ভাঙল রে!
আমার মনের পুঞ্জিত মেঘ অরুণ-রঙে রাঙল রে।।
	নাচ ভুলেছে বনের কেকা
	দ্বন্দ ভুলে’ হলাম একা,
ময়ূরকণ্ঠী শুভ্র-হংস-মালার পরশ লাগল রে।।
মেহেদি ফুলের মঞ্জরি মোর মন কেবলি রঙ লুকায়,
শিলায় দলি’ রূপের কলি, আল্‌তা হবো তাহার পায়।
	জ্বাল দীপালি খোল রে দুয়ার
	আসে শারদ-জ্যোতির জোয়ার,
আবার আনন্দিনীর আগমনের কৃপার আশা জাগল রে।।

বিষ্ণুসহ ভৈরব অপরূপ মধুর

বাণী

বিষ্ণুসহ ভৈরব
অপরূপ মধুর মিলন শম্ভু মাধব।
দক্ষিণে শঙ্কর শ্রীহরি বামে,
মিলিয়াছে যেন রে কানু বলরামে
দেখি এক সাথে যেন দেখি রে
		স্বয়ম্ভু কেশব।।
বিমল চেতনা আনন্দ মদন
শিব-নারায়ণের যুগল মিলন,
এক সাথে ব্রজধাম শিবলোকে
অরূপ স্বরূপ নেহারি চোখে —  
শোন্ রে একসাথে বেণূকার প্রণব।।

উত্তরীয় লুটায় আমার ধানের ক্ষেতে

বাণী

		উত্তরীয় লুটায় আমার
		ধানের ক্ষেতে, হিমেল্ হাওয়ায়।
আমার চাওয়া জড়িয়ে আছে নীল আকাশের সুনীল চাওয়ায়॥
		ভাটির শীর্ণা নদীর কূলে
		আমার রবি-ফসল দুলে,
নবান্নেরই সুঘ্রাণে মোর চাষির মুখে টপ্পা গাওয়ায়॥

হৈমন্তী

পরাজিত হ’ল অপরাজিতার কাছে

বাণী

পরাজিত হ’ল অপরাজিতার কাছে গোলাপের রূপ হায়।
পথের ধূলিতে ঢেকে দে গোলাপ-বন, আয় ঝোড়ো হাওয়া আয়।।
বসিল না মোর ময়ূর-সিংহাসনে বনের সে প্রজাপতি,
কোহিনূর ফেলে দেখিল পথের ফুলে সে-কোন্ প্রেমের জ্যোতি।
	হে প্রেম-ভিখারি! তোমার ধূলির পথে
	ডাক দিলে যদি চির-ভিখারিনী হ’তে,
মরণের ক্ষণে দুটি ফোঁটা আঁখি-জল সে যেন ভিক্ষা পায়।।

শ্যামা নামের লাগলো আগুন

বাণী

শ্যামা নামের লাগলো আগুন আমার দেহ ধূপ–কাঠিতে।
যত জ্বলি সুবাস তত ছড়িয়ে পড়ে চারিভিতে।।
		ভক্তি আমার ধূমের মত
		উর্দ্ধে ওঠে অবিরত,
শিব–লোকের দেব–দেউলে মা’র শ্রীচরণ পরশিতে।।
ওগো অন্তর–লোক শুদ্ধ হল পবিত্র সেই ধূপ–সুবাসে,
মা’র হাসিমুখ চিত্তে ভাসে চন্দ্রসম নীল আকাশে।
		যা কিছু মোর পুড়ে কবে
		চিরতরে ভস্ম হবে
মা’র ললাটে আঁকব তিলক সেই ভস্ম–বিভূতিতে।।

কত আর এ মন্দির দ্বার হে প্রিয় রাখিব খুলি

বাণী

	কত আর এ মন্দির দ্বার, হে প্রিয়, রাখিব খুলি'
	বয়ে যায় যে লগ্নের ক্ষণ, জীবনে ঘনায় গোধূলি।।
	নিয়ে যাও বিদায়-আরতি, হ'ল ম্লান আঁখির জ্যোতি;
	ঝরে যায় শুষ্ক স্মৃতির মালিকা-কুসুমগুলি।।
	কত চন্দন ক্ষয় হ'ল হায়, কত ধূপ পুড়িল বৃথায়;
	নিরাশায় সে পুষ্প কত ও পায়ে হইল ধূলি।।
ও	বেদী-তলে কত প্রাণ — হে পাষাণ নিলে বলিদান;
	তবু হায় দিলে না দেখা — দেবতা, রহিলে ভুলি'।।