কুসুম-সুকুমার শ্যামল তনু

বাণী

কুসুম-সুকুমার শ্যামল তনু হে ফুল-দেবতা লহ প্রণাম।
বিটপী লতায় চিকন পাতায় ছিটাও হাসি কিশোর শ্যাম।।
পূজার থালা এ অর্ঘ্য-ডালা এনেছি দিতে তোমার পায়
দেহ শুভ বর কুসুম-সুন্দর হোক নিখিল নয়নাভিরাম
এ বিশ্ব বিপুল কুসুম-দেউল হোক তোমার ফুল কিশোর
মুরলী করে এসো গোলক-বিহারী হোক ভূ-লোক আনন্দ-ধাম।।

নাটকঃ‘সাবিত্রী’

ফিরি ক’রে ফিরি আমি আল্লাহ্ নবীর নাম

বাণী

	ফিরি ক’রে ফিরি আমি আল্লাহ্ নবীর নাম।
	দেশ-বিদেশে পথে ঘাটে হাঁকি সুব্হ-শাম।।
			কলমা শাহাদতের বাণী
		যে	বারেক বলে একটুখানি,
সে	চাওয়ার অধিক দেয় আমারে মোর সওদার দাম।।
	দাম দিয়ে সব দুনিয়াদারীর দামি জিনিস চায়,
	অমূল্য এই আল্লারই নাম কেউ চাহে না হায়।
			আল্লাহ্ নামের ফেরিওয়ালায়
			ডাকে ওরা শেষের বেলায়,
ঐ	নাম দিয়ে সে আখেরে পায় বেহেশ্‌তী আরাম।।

১. দাম দিয়ে সব দুনিয়াদারীর মিটায় দেনা; / অমূল্য এই আল্লাহর নাম কেই চা’বে না?

কেন আসিলে যদি যাবে চলি’

বাণী

কেন আসিলে যদি যাবে চলি’।
গাঁথিলে না মালা ছিঁড়ে ফুল-কলি।।
কেন বারে বারে আসিয়া দুয়ারে
ফিরে গেলে ‘পারে কথা নাহি বলি’,
কী কথা বলিতে, আসিয়া নিশীথে,
শুধু ব্যথা-গীতে গেলে মোরে ছলি’।।
প্রভাতের বায়ে কুসুম ফুটায়ে,
নিশীথে লুকায়ে উড়ে গেল অলি।।
কবি শুধু জানে, কোন্ অভিমানে,
চাহি যারে গানে কেন তা’রে দলি।।

তব গানের ভাষায় সুরে

বাণী

তব গানের ভাষায় সুরে বুঝেছি বুঝেছি বুঝেছি
এত দিনে পেয়েছি তারে আমি যারে খুঁজেছি।।
ছিল পাষাণ হয়ে গভীর অভিমান
সহসা, এলো সহসা আনন্দ-অশ্রুর বান।
বিরহ-সুন্দর হয়ে সেই এলো
দেবতা বলে যাঁরে পুজেছি
			বুঝেছি বুঝেছি বুঝেছি।।
তোমার দেওয়া বিদায়ের মালা পুন প্রাণ পেল প্রিয়
হ’য়ে শুভদৃষ্টি মিলন-মালিকা বুকে ফিরে এলো — এলো প্রিয়।
	যাহারে নিষ্ঠুর বলেছি
	নিশীথে গোপনে কেঁদেছি
নয়নের বারি হাসি দিয়ে মুছেছি
			বুঝেছি বুঝেছি বুঝেছি।।

সকল জাতির সব মানুষের বন্ধু হে মোহসীন

বাণী

সকল জাতির সব মানুষের বন্ধু, হে মোহসীন।
এ যুগে তুমিই শোধ করিয়াছ এক আল্লার ঋণ।।
ভোগ করনি ক’ বিপুল বিত্ত পেয়ে
ভিখারি হইলে শুধু আল্লারে চেয়ে,
মহাধনী হ’লে আল্লার কৃপা পেয়ে —
দুনিয়ায় তাই রহিলে কাঙাল দীন।।
মানুষের ভালোবাসায় দেখিলে আল্লার ভালোবাসা,
সৃষ্টির তরে কাঁদিয়া পুরালে তব স্রষ্টার আশা।
তব দান তাই ফুরায়ে নাহি ফুরায়
বিত্ত হইলে নিত্য এ দুনিয়ায়,
শিখাইয়া গেলে, মুসলিম তারে কয় —
অর্থ যাহারে কিনিতে পারে না যে নহে লোভ-মলিন।।

থির হয়ে তুই ব’স দেখি মা

বাণী

থির হয়ে তুই ব’স দেখি মা খানিক আমার আঁখির আগে
দেখব নিত্য লীলাময়ী থির হলে তুই কেমন লাগে।।
	শান্ত হ’লে ডাকাত মেয়ে
	কেমন দেখায় দেখব চেয়ে (মা গো)
চিন্ময় শিব শম্ভু কেন চরণ-তলে শরণ মাগে।।
দেখব চেয়ে জননী তুই সাকারা না নিরাকারা
কেমন করে কালি হয়ে নামে ব্রক্ষ্মজ্যোতিধারা।
	কোলে নিতে কোলের ছেলে
	শ্মশান জাগিস বাহু মেলে
কেমন ক’রে মহামায়া তোর বুকে মায়া জাগে।।