প্রিয়তম হে বিদায়

বাণী

	প্রিয়তম হে, বিদায়
আর	রাখিতে নারি, আশা-দীপ নিভে যায় দুরন্ত বায়।।
	কত ছিল বলিবার, হায় হ’লো না বলা
	ঝুঁরিতেছে চামেলির বন উতলা
যেন	অনন্ত দিনের দিকে হায় হায়।।
কে	কাঁদে দিকে দিকে হায় হায়।।
	রহিল ছড়ানো মোর প্রাণের তিয়াস হুতাস পবনে;
	জড়ানো রহিল মোর করুণ প্রীতি ধূসর গগনে।
	তুমি মোরে স্মরিও
যদি	এই পথে কোনদিন চলিতে প্রিয়
	নিশিভোরে ঝরা ফুল দ’লে যাও পায়।।

মানবতাহীন ভারত শ্মশানে

বাণী

মানবতাহীন ভারত শ্মশানে দাও মানবতা হে পরমেশ।
কি হবে লইয়া মানবতাহীন ত্রিশ কোটি মানুষ মেষ।।
		কলের পুতুল এরা প্রাণহীন
		পাষাণ আত্মা বিশ্বাসহীন,
নিজেরে ইহারা চিনে না জানে না, কেমনে চিনিবে নিজের দেশ।।
		ভারত শ্মশানে ফেরে প্রেতপাল,
		নর নাই, শুধু নর-কঙ্কাল;
এই চির অভিশপ্তের মাঝে জাগাও হে প্রভু প্রাণের রেশ।।
		ভায়ে ভায়ে হেথা নাহি প্রেমবোধ,
		কেবলি কলহ, কেবলি বিরোধ;
হে দেশ-বিধাতা, দূর কর এই লজ্জা ও গ্লানি, এ দীন বেশ।।

চঞ্চল ঝর্না সম হে প্রিয়তম

বাণী

চঞ্চল ঝর্না সম হে প্রিয়তম আসিলে মোর জীবনে।
নীরব মনের উপবন মর্মরি’ উঠিল অধীর হরষণে।।
	যে মুকুল ঘুমায়ে ছিল পত্রপুটে
	অনুরাগে ফুল হয়ে উঠিল ফুটে,
তনুর কূলে কূলে ছন্দ উঠিল দুলে আকুল শিহরণে।।
অলকানন্দা হ’তে রসের ধারা তুমি আনিলে বহি’,
অশান্ত সুরে একি গাহিলে গান, হে দূর বিরহী।
	মায়ামৃগ তুমি হেসে চ’লে যাও
	তব কূলে যে কাঁদে তারে ফিরে নাহি চাও,
কত বন ভূমিরে আঁখি-নীরে ভাসাও —
			হে উদাসীন আনমনে।।

বল ভাই মাভৈঃ মাভৈঃ নবযুগ ঐ এলো ঐ

বাণী

বল ভাই মাভৈঃ মাভৈঃ, নবযুগ ঐ এলো ঐ
		এলো ঐ রক্ত যুগান্তর রে।
বল জয় সত্যের জয় আসে ভৈরব বরাভয়,
		শোন অভয় ঐ রথ-ঘর্ঘর রে।।
রে বধির! শোন পেতে কান ওঠে ঐ কোন মহাগান,
হাঁকছে বিষাণ ডাকছে ভগবান রে।
জগতে জাগলো সাড়া জেগে ওঠ উঠে দাঁড়া,
ভাঙ্‌ পাহারা মায়ার কারা-ঘর রে।
যা আছে যাক্‌ না চুলায় নেমে পড় পথের ধূলায়,
নিশান দুলায় ঐ প্রলয়ের ঝড় রে।।
সে ঝড়ের ঝাপটা লেগে ভীম আবেগে উঠনু জেগে
পাষাণ ভেঙে প্রাণ-ঝরা নির্ঝর রে।
ভুলেছি পর ও আপন ছিঁড়েছি ঘরের বাঁধন,
স্বদেশ স্বজন স্বদেশ মোদের ঘর রে।
যারা ভাই বদ্ধ কুয়ায় খেয়ে মার জীবন গোঁয়ায়
তাদের শোনাই প্রাণ-জাগা মন্তর রে।।
ঝড়ের ঝাঁটার ঝাণ্ডা নেড়ে মাভৈঃ বানীর ডঙ্কা মেরে
শঙ্কা ছেড়ে হাঁক প্রলয়ঙ্কর রে।
তোদের ঐ চরণ-চাপে যেন ভাই মরণ কাঁপে
মিথ্যা পাপের কণ্ঠ চেপে ধর্‌ রে।
শোনা তোর বুক-ভরা গান জাগা তোর দেশ-জোড়া প্রাণ,
দে বলিদান প্রাণ ও আত্মপর রে।।
মোরা ভাই বাউল চারণ মানি না শাসন বারণ,
জীবন মরণ মোদের অনুচর রে।
দেখে ঐ ভয়ের ফাঁসি হাসি জোর জয়ের হাসি,
অ-বিনাশী নাইকো মোদের ডর রে,
গেয়ে যাই গান গেয়ে যাই মরা প্রাণ উট্‌কে দেখাই,
ছাই-চাপা ভাই অগ্নি ভয়ঙ্কর রে।।
খুঁড়ব কবর তুড়ব শ্মশান মড়ার হাড়ে নাচাব প্রাণ,
আনব বিধান নিদান কালের বর রে
শুধু এই ভরসা রাখিস মরিস্‌নি ভির্মি গেছিস
ঐ শুনেছিস ভারত বিধির স্বর রে।
ধর্‌ হাত ওঠ্‌ রে আবার দুর্যোগের রাত্রি কাবার,
ঐ হাসে মা'র মূর্তি মনোহর রে।।

ধীরে চল চরণ টলমল

বাণী

ধীরে চল চরণ টলমল
সখি নতুন মদের নেশা
পিয়েছে বিষ-মেশা,
	চল্‌তে পথে উঠি চ’ম্‌কে।
এক খাওয়ালো মুখপোড়া কালো ছোঁড়া
	ওঠে অঙ্গ ক্ষণে ক্ষণে ছ’ম্‌কে।।
গুরুজনের কাছে ঢ’লে ঢ’লে পড়ি,
গেল কুলমান আমি লাজে মরি।
ও সে কদম-তলায়, বাঁশি বাজায়, আড় চোখে চায়,
পেলে একলা পথে আগ্‌লে দাঁড়ায় সে থ’ম্‌কে।।

চলচ্চিত্র : ‘পাতালপুরী’

কাজরি গাহিয়া এসো গোপ-ললনা

বাণী

কাজরি গাহিয়া এসো গোপ-ললনা।
শ্রাবণ-গগনে দোলে মেঘ-দোলনা।।
পর সবুজ-ঘাগরি চোলি নীল ওড়না,
মাখো অধরে মধুর হাসি, চোখে ছলনা।।
কদম-চন্দ্রহার প’রে এসো চন্দ্রাবলী
তমাল-শাখা-বরণা এসো বিশাখা-শ্যামলী,
বাজায় করতাল দূরে তাল-বনা।।
লাবনি-বিগলিতা এসো সকরুণ ললিতা
যমুনা-কূলে এসো ব্রজবধূ কুল-ভীতা,
অলকে মাখিয়া নব জল-কণা।।