বন তমালের শ্যামল ডালে দোলে ঝুলন

বাণী

বন তমালের শ্যামল ডালে দোলে ঝুলন দোলায় যুগল রাধা শ্যাম।
কিশোরী পাশে কিশোর হাসে ভাসে আনন্দ সাগরে আজ ব্রজধাম।।
	তড়িত লতায় যেন জড়িত জলধরে
	ওগো যুগল রূপ হেরি মুনির মনোহরে
পুলকে গগন ছাপিয়া বারি করে বাজে যমুনা তরঙ্গে শ্যাম শ্যাম নাম।।
	বন ময়ুর নাচে ঘন দেয়ার তালে
	দোলা লাগে কেতকী কদম ডালে।
আকাশে অনুরাগে ইন্দ্রধনু জাগে হেরে ত্রিলোক থির হয়ে রূপ অভিরাম।।

নিশীথ-স্বপন তোর ভু’লে যা

বাণী

নিশীথ-স্বপন তোর ভু’লে যা নিশি-শেষে।
বাদল-অবসানে আকাশ উঠেছে হেসে।।
চখার পাশে আসে বিরহ-রাতের চখি
আঁধার লুকাল ঐ দূর বনে এলোকেশে।।
শরম-রাঙা গালে জাগিল কুমারী ঊষা,
তরুণ অরুণ ঐ এসো রাঙা বর-বেশে।।

নিশি না পোহাতে যেয়ো না যেয়ো না

বাণী

নিশি না পোহাতে যেয়ো না যেয়ো না দীপ নিভিতে দাও।
নিবু-নিবু প্রদীপ নিবুক হে পথিক ক্ষণিক থাকিয়া যাও॥
ঢুলিয়া পড়িতে দাও ঘুমে অলস আঁখি ক্লান্ত করুণ কায়,
সুদূর নহবতে বাঁশরি বাজিতে দাও উদাস যোগিয়ায়।
	হে প্রিয় প্রভাতে ও-রাঙা পায়
	বকুল ঝরিয়া মরিতে চায়,
তব হাসির আভায় তরুণ অরুণ প্রায় দিক রাঙিয়ে যাও॥

আবার কেন বাতায়নে দীপ জ্বালিলে

বাণী

মজনু		:	আবার কেন বাতায়নে দীপ জ্বালিলে, হায়!
			আমার যে প্রাণ-পতঙ্গ ওই প্রদীপ পানেই ধায়॥
লায়লী	:	আমার প্রেম যে অনল শিখা জ্বলে তিমির রাতে
			পতঙ্গরে পোড়াই আমি নিজেও পুড়ি সাথে।
মজনু		:	একি ব্যথা একি নেশা 
			এই কি গো প্রেম গরল-মেশা!
লায়লী	:	তত আলো দান করে সে যত সে জ্বালায়॥

রেকর্ড-নাটিকাঃ ‘লায়লী মজনু’

নাচে নাচে রে মোর কালো মেয়ে নৃত্যকালী

বাণী

নাচে	নাচে রে মোর কালো মেয়ে নৃত্যকালী শ্যামা নাচে।
	নাচ হেরে তার নটরাজও প'ড়ে আছে পায়ের কাছে।।
		মুক্তকেশী আদুল গায়ে
		নেচে বেড়ায় চপল পায়ে
	মা'র চরণে গ্রহতারা নূপুর হয়ে জড়িয়ে আছে।।
	ছন্দ-সরস্বতী দোলে পুতুল হয়ে মায়ের কোলে রে
	সৃষ্টি নাচে, নাচে প্রলয় মায়ের আমার পায়ের তলে রে।
		আকাশ কাঁপে নাচের ঘোরে
		ঢেউ খেলে যায় সাত সাগরে
	সেই নাচনের পুলক জাগে ফুল হয়ে রে লতায় গাছে।।

বসন্ত আজ আসল ধরায়

বাণী

বসন্ত আজ আসল ধরায় ফুল ফুটেছে বনে বনে।
শীতের হাওয়া পালিয়ে বেড়ায় ফাল্গুনী মোর মন-বনে।।
ফুলগুলি হায় ঝরেছিল হিমেল হাওয়ার পরশনে,
দখিন হাওয়ার হিল্লোলে আজ প্রিয়তমের স্পর্শ নে’।
	উদাসী এই মাতাল বাতাস
	জাগায় ধরায়, মাতায় আকাশ,
হাসিতে তার কিসের আভাস মন জানে, মনে মনে।।