হোরির রঙ লাগে আজি গোপিনীর তনু মনে

বাণী

হোরির রঙ লাগে আজি গোপিনীর তনু মনে।
অনুরাগে-রাঙা গোরীর বিধু-বদনে॥
ফাগের লালী আনিল কে,
কাজল-কালো চোখে
কামনা-আবির ঝরে রাঙা নয়নে॥
অশোক রঙন ফুলের আভা জাগে ডালিম-ফুলী গালে,
নাচিছে হৃদয় আজি রসিয়ার নাচের তালে।
তাম্বুলীরাঙা ঠোঁটে ফাগুনের ভাষা ফোটে,
(তার) প্রাণের খুশির রং লেগেছে রাঙা বসনে॥

তুমি কে গো কে

বাণী

তুমি কে গো (কে কে কে) তুমি মোদের বন-দেবতা।
আমরা বনশ্রী, তোমার পূজারিণী ধ্যান-রতা — হে বন-দেবতা।।
১মা	:	আমি মালতী মুকুল
২য়	:	আমি ব্যাকুলা বকুল
৩য়া, ৪র্থা, ৫মা	:	মোরা গণহীনা অশোক-পলাশ-শিমুল।
৬ষ্ঠা	:	আমি (আঁখি) জলের কমল
৭মা	:	আমি মাধবীলতা।।
৮মা	:	আমি গিরি-মল্লিকা
৯মা	:	আমি হাস্নুহানা
১০মা	:	আমি ছোট ডুমো ফুল, রই চির-অজানা
১১শী	:	আমি ঝর্নাধারা, কেঁদে কেঁদে ব’য়ে যাই।
১২শী	:	আমি দিনের ভাদ্র-বৌ, চাঁদের কুমুদ
১৩শী	:	আমি পাখির গান, বনভূমির কথা।।

নাটক : ‘মধুমালা’

হে অশান্তি মোর এসো এসো

বাণী

	হে অশান্তি মোর এসো এসো —
(তব)	প্রবল প্রেমের লাগি ভবন হ’তে।
	বৈরাগিনী বেশে এসেছি বাহির পথে।।
	কুণ্ঠা ভুলায়ে দাও, খোলো গুণ্ঠন,
	দস্যু-সম মোরে কর লুণ্ঠন,
	তৃণ সম মোরে ভাসাইয়া ল’য়ে যাও —
		কুল-ভাঙা বিপুল বন্যা-স্রোতে।।
	নদীরে যেমন ক’রে টানে পারাবার,
	তেমনি মরণ-টানে আমারে টানো, হে বন্ধু আমার।
	প্রলয়-মেঘের বুকে বিজলি সম
	তোমারে জড়ায়ে রব, হে প্রিয়তম,
	হবে শুভদৃষ্টি তোমায় আমায় —
		মরণ-হানা অশনির আলোতে।।

কিশোর গোপ-বেশ মুরলিধারী

বাণী

কিশোর গোপ-বেশ মুরলিধারী শ্রীকৃষ্ণ গোবিন্দ।
দ্বিভুজ শ্যাম সুন্দর মূরতি অপরূপ অনিন্দ্য।।
	পরমাত্মারূপী পরম মনোহর
	গোলকবিহারী চিন্ময় নটবর,
ময়ূর পাখাধারী চিকুর চাঁচর মণি-মঞ্জীর শোভিত শ্রীচরণারবিন্দ।।
গলে দোলে নব বিকশিত কদম ফুলের মালা
খেলে ঘিরে যাঁরে প্রেমময়ী গোপবালা,
	শোভিত স্বর্ণবর্ণ পীতবাসে
	ওঙ্কার বিজড়িত শ্রীরাধার পাশে,
পদ্মপলাশ আঁখি মৃদু-হাসে — যেরূপ ধেয়ায় মুনি ঋষি দেববৃন্দ।।

বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান

বাণী

বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান।
সুরের সাথে হল আকুল পাষাণ পরান।।
	আজকে ব্যথায় উঠল ভ’রে
	মালার কুসুম পড়ল ঝ’রে,
পরান আমার কেমন করে নেবে তব দান।।
	বৃথায় ফুলে সাজাও মোরে
	ভাসাও যত নয়ন লোরে,
প্রাণের ঠাকুর ডাকেন মোরে কাঁদে মম প্রাণ।।

মাকে আমার দেখেছে যে

বাণী

মাকে আমার দেখেছে যে ভাইকে সে কি ঘৃণা করে।
ত্রিলোক-বাসী প্রিয় তাহার পরান কাঁদে সবার তরে॥
নাই জাতি ভেদ উচ্চ-নীচের জ্ঞান
তাহার কাছে সকলে সমান,
দেখলে গুহক চন্ডালে সে রামের মত বক্ষে ধরে॥
মা আমাদের মহামায়া পরমা প্রকৃতি
পিতা মোদের পরমাত্মা রে তাই সবার সাথে প্রীতি
মোদের সবার সাথে প্রীতি।
সন্তানে তাঁর ঘৃণা করে মাকে করে পূজা
সে পূজা তার নেয় না কভু, নেয় না দশভূজা।১
(মোরা) এই ভেদ-জ্ঞান ভুলব যেদিন
মা সেই দিন আসবে ঘরে॥

১. সে পূজা তার নেয় না চতুর্ভুজা, ওরে নেয় না দশভুজা