ভাল লাগার স্মৃতি ভোলা নাহি যায়

বাণী

	ভাল লাগার স্মৃতি ভোলা নাহি যায়।
তাই	বারে বারে আসি ফিরে তব আঙিনায়।।
	আজো ওঠে বাঁকা চাঁদ নীল গগনে
	আজো ফোটে রাঙা ফুল মম কাননে,
	‘পিয়া পিয়া’ গাহে পাখি পিয়াল শাখায়।।
	যে আলো বাজালে বেণু রঙীন ঊষায়,
	তাহারি পুলকে আজি পরান মাতায়।
	মরুর কামনা আজো দীপ-শিখা সম
	পরানে লাগে জাগিয়া আছে ওগো প্রিয়তম,
	অনুরাগে লাগে দোল, দোল দেহ-যমুনায়।।

আঁধার রাতে কে গো একেলা

বাণী

আঁধার রাতে			কে গো একেলা
নয়ন-সলিলে		ভাসালে ভেলা।।
কাঁদিয়া কারে 		খোঁজ ওপারে
আজো যে তোমার		প্রভাত বেলা।।
কি দুখে আজি		যোগিনী সাজি’
আপনারে ল’য়ে		এ হেলা-ফেলা।।
সোনার কাঁকন		ও দুটি করে
হের গো জড়ায়ে		মিনতি করে।
খুলিয়া ধূলায়		ফেলো না গো তায়,
সাধিছে নূপুর		চরণ ধ’রে।
হের গো তীরে		কাঁদিয়া ফিরে
আজি ও-রূপের		রঙের মেলা।।

দূর বেণুকুঞ্জে বাজে মুরলী মুহু মুহু

বাণী

দূর বেণুকুঞ্জে বাজে মুরলী মুহু মুহু
	যেন বারে বারে
	ডাকে আমারে
বাঁশুরিয়ার মধুর সুরের কুহু।।

মা এসেছে মা এসেছে মা এসেছে রে

বাণী

মা এসেছে, মা এসেছে, মা এসেছে রে
মা এসেছে, মা এসেছে উঠ্‌ল কলরোল।
(ওরে) দিকে দিকে বেজে ওঠে সানাই কাঁসর ঢোল॥
ভরা নদীর কূলে কূলে, শিউলি শালুক পদ্মফুলে।
মায়ের আসার আভাস দুলে আনন্দ-হিল্লোল,
সেই খুশিতে পড়ল নিটোল নীল আকাশে টোল্॥
বিনা কাজের মাতন রে আজ কাজে দে ভাই ক্ষমা,
বে-হিসাবী করব খরচ সাধ যা আছে জমা।
এক বছরের অতৃপ্তি ভাই, এই ক’দিনে কিসে মিটাই,
কে জানে ভাই ফিরব কিনা আবার মায়ের কোল্ ।
আনন্দে আজ আনন্দকে পাগল ক’রে তোল্॥

আমি শ্রান্ত হয়ে আস্‌ব যখন

বাণী

আমি		শ্রান্ত হয়ে আস্‌ব যখন পড়ব দোরে ট’লে
আমার		লুটিয়ে-পড়া দেহ তখন ধর্‌বে কি ঐ কোলে?
			বাড়িয়ে বাহু আস্‌বে ছুটে?
			ধর্‌বে চেপে পরান-পুটে!
		বুকে রেখে চুম্‌বে কি মুখ নয়ন-জলে গ’লে?
তুমি		এতদিন যা দুখ দিয়েছ হেনে অবহেলা,
তা		ভুলবে না কি যুগের পরে ঘরে-ফেরার বেলা?
			বল বল জীবন-স্বামী,
			সেদিনও কি ফিরব আমি?
		অন্তকালেও ঠাঁই পাব না ঐ চরণের তলে?

দিনের সকল কাজের মাঝে তোমায় মনে পড়ে

বাণী

দিনের সকল কাজের মাঝে
		তোমায় মনে পড়ে।
কাজ ভুলে যাই (আমি), মন চ’লে যায়
		সুদূর দেশান্তরে।।
	তুলসী তলায় দীপ জ্বালিয়ে
	দূর আকাশে রই তাকিয়ে,
সাঁঝের ঝরা ফুলের মতো অশ্রু বারি ঝরে।।
আঁধার রাতে বাতায়নে একলা ব’সে থাকি,
চাঁদকে শুধায় তোমার কথা ঘুমহারা মোর আঁখি।
	প্রভাত বেলায় গভীর ব‍্যথায়
	মন কেঁদে কয় তুমি কোথায়,
শূন্য লাগে এ তিন ভুবন প্রিয় তোমার তরে।।