জাগো কৃষ্ণকলি জাগো কৃষ্ণকলি

বাণী

	জাগো কৃষ্ণকলি, জাগো কৃষ্ণকলি।
	মধুকরের মিনতি মানো, ডাকে জাগো বলি’,
					বিহগ-কাকলি।।
	তব দ্বারে বারে বারে মন-উদাসী
	ভোরের হাওয়া এসে বাজায় বাঁশি,
	ফিরে গেল ভ্রমরা মউ-পিয়াসি — 
	অযথা বিতানে কানে কথা বলি।।
হের	হাতের তার ফুলঝুরি ফেলে’ ধূলায়
	উদাসী বসন্ত মাগে বিদায়,
	দীরঘ-শ্বাস ফেলি’ ঝরা পাতায়।
চাহে	রঙিন ঊষা তব রঙের আভাস
তব	লাল আভায় লজ্জা পায় হিঙুল পলাশ।
এলো	কোকিল তোমার রঙে খেল্‌তে হোলি।।

হে প্রিয়তম অন্তরে মম রোদনের একি ঢেউ

বাণী

হে প্রিয়তম অন্তরে মম রোদনের একি ঢেউ নিশিদিন দুলে।
নদী-স্রোতের মত মোরে টানিয়া আনিলে কোন্ বিরহের সাগর কূলে।।
	আঁধার বনে ছিনু বনলতা একা
	কেন ফুল ফোটালে কেন দিলে দেখা,
অসহ বেদনার এত মধু দিলে যদি বুকে কেন নিলে না তুলে’।।
	বাহির ভুবনে রহ যেন তুমি উদাসী
	অন্তরে বসি’ চোর বাজাও বাঁশি,
এই মন হয়ে ওঠে বিরহ-বৃন্দাবন, লোক লাজ গৃহ কাজ সব যাই ভুলে।।

সঙ্গীতালেখ্য : ‘ঠুংরির জলসা’

কেন মনে জাগে উদাসিনী গৌরী

বাণী

কেন	মনে জাগে উদাসিনী গৌরী উমার স্মৃতি!
আর	কত দূরে কত দেরি আনন্দময়ীর আসার তিথি।।
	কেন	পদ্মদীঘি দুলে ওঠে হৃদয়ে
	মোর	নন্দিনী মা আসে কি রাঙা চরণ ল’য়ে?
কেন	নয়নের বাতায়নে উতলা হ’ল, অশ্রুর ভ্রমর-বীথি।।
	তার মন নাই, উন্মনা চিন্ময়ী সে, তাই ছেলের কথা মনে নাই,
	শারদ-শ্রী এলো, পরমা-শ্রী কই — কাঁদি আর পথ-পানে চাই।
	ওকি	ঘরে এসে, নাম ধরে, ডেকে চ’লে যায়
		শিউলির অঞ্জলি ফেলে আঙিনায়,
	ভোরের ভৈরবী বুকে মোর কাঁদে গো, ওকি তার করুণ-গীতি।।

গীতিচিত্রঃ শারদ-শ্রী

বরের বেশে আসবে জানি

বাণী

বরের বেশে আসবে জানি আজ মম সুন্দর।
পার হ’য়ে দূর বিরহ-লোক বহু যুগের পর।।
	আসে সে ঐ চুপে চুপে
	আমার মধুর মরণ রূপে
আর সে ছেড়ে যাবে না গো আমার-ঘর।।

নাটকঃ ‘লায়লী-মজনু’

বরষা ঐ এলো বরষা

বাণী

বরষা ঐ এলো বরষা
আলোর ধারায় জল ঝরঝরি’ অবিরল
ধূসর নীরস ধরা হলো সরসা।।
ঘন দেয়া দমকে দামিনী চমকে
ঝঞ্ঝার ঝাঁঝর ঝমঝম ঝমকে
মনে পড়ে সুদূর মোর প্রিয়তমকে
মরাল মরালীরে হেরি সহসা।।

আয় মা চঞ্চলা মুক্তকেশী

বাণী

আয় মা চঞ্চলা মুক্তকেশী শ্যামা কালী।
নেচে নেচে আয় বুকে আয়, দিয়ে তাথৈ তাথৈ করতালি।।
		দশদিক আলো ক’রে
		ঝঞ্ঝার নূপুর প’রে,
দুরন্ত রূপ ধ’রে আয় মায়ার সংসারে আগুন জ্বালি’।।
আমার স্নেহের রাঙাজবা পায়ে দ’লে
কালো রূপ-তরঙ্গ তুলে১
গগন-তলে সিন্ধুজলে
আমার কোলে আয় মা আয়।
		তোর চপলতায় মা কবে
		শান্ত ভবন প্রাণ-চঞ্চল হবে,
এলোকেশে এনে ঝড় মায়ার এ খেলাঘর ভেঙে দে মা আনন্দ-দুলালি।।

১. কালোরূপ — তরঙ্গ তুলে সাগর জলে