মেঘের হিন্দোলা দেয় পূব-হাওয়াতে দোলা

বাণী

	মেঘের হিন্দোলা দেয় পূব-হাওয়াতে দোলা।
কে	দুলিবি এ-দোলায় আয় আয় ওরে কাজ-ভোলা॥
		মেঘ-নটীর নূপুর
		ঐ বাজে ঝুমুর ঝুমুর,
	শীর্ণা-তনু ঝর্না তরঙ্গ-উতরোলা॥
	ফুল-পসারিণী ঐ দুলিছে বনানী
	বিনিমূলে বিলায় সে সুরভি, ফুল ছানি।
আজ	ঘরে ঘরে ফুল-দোল্ সব বন্ধ দুয়ার খোলা॥
		জলদ-মৃদঙ বাজে
		গভীর ঘন আওয়াজে,
	বাদলা-নিশীথ দুলে ঐ তিমির-কুন্তলা॥

তোমার কথার পারাবতগুলি

বাণী

তোমার কথার পারাবতগুলি আকাশে উড়িয়া যায়।
অঞ্চল মেলি’ চঞ্চল মন তাহারে ধরিতে চায়।।
	ব্যাকুল বক্ষে কোন্‌ তরুণীর
	উহারা কি কভু বাঁধিবে না নীড়?
(ওরা) শূন্য মনের কথা কি গো তাই শূন্যে মিলায় হায়।।
গানের আড়ালে ওগো ও-সুরের দেবতা কেন এ লুকিয়ে রাখা,
কেন কামনার কপোতগুলি ছড়াও দিগ্বিদিকে পরায়ে সুরের পাখা!
	যে বুকে জাগে এ সুর, এত কথা
	সারা বিশ্বের বিরহের ব্যথা,
বল বল সেথা একটি হৃদয় ঠাঁই কেন নাহি পায়।।

গীতি-আলেখ্য : ‘আকাশবাণী’

১. ভবনে বসিয়া উন্মুখ মন তাহারে ধরিতে চায়, ২. কবি, ৩. থাকা

সৈয়দে মক্কী মদনী আমার নবী মোহাম্মদ

বাণী

সৈয়দে মক্কী মদনী আমার নবী মোহাম্মদ
করুণা-সিন্ধু খোদার বন্ধু নিখিল মানব-প্রেমাস্পদ।।
আদম নূহ, ইব্রাহিম দাউদ সোলেয়মান মুসা আর ঈসা,
সাক্ষ্য দিল আমার নবীর, সবার কালাম হ'ল রদ।
যাঁহার মাঝে দেখল জগৎ ইশারা খোদার নূরের,
পাপ-দুনিয়ায় আনলো যে রে, পুণ্য বেহেশতী সনদ।।
হায় সিকান্দর খুঁজল বৃথাই আব-হায়াত এই দুনিয়ায়
বিলিয়ে দিল আমার নবী, সে সুধা মানব সবায়।
হায় জুলেখা মজল ঐ ইউসুফেরই রূপ দেখে,
দেখলে মোদের নবীর সুরত, যোগীন হত ভসম মেখে'।
শুনলে নবীর শিঁরিন জবান, দাউদ মাগিত মদদ।।
ছিল নবীর নূর পেশানিতে, তাই ডুবল না কিস্তি নূহের
পুড়ল না আগুনে হযরত ইব্রাহিম সে নমরুদের
হায়, দোজখ আমার হারাম হ'ল পিয়ে কোরানের শিঁরিন শ্যহদ।।

চরণ ফেলি গো মরণ-ছন্দে

বাণী

চরণ ফেলি গো মরণ-ছন্দে মথিয়া চলি গো প্রাণ।
মর্তের মাটি মহিমান করি স্বর্গেরে করি ম্লান।।
	চিতার বিভূতি মাখিয়া গায়
	লজ্জা হানি গো অন্নদায়,
বাঁধিয়াছি বিদ্যুল্লাতায় — দেবরাজ হতমান।
পাতাল ফুঁড়িয়া করি গো মাতাল রসাতল-অভিযান।।

নাটিকা : ‘সেতু-বন্ধ’

চৈতী চাঁদের আলো আজ ভাল নাহি লাগে

বাণী

চৈতী চাঁদের আলো আজ ভাল নাহি লাগে,
তুমি নাই মোর কাছে — সেই কথা শুধু জাগে।।
এই ধরণীর বুকে কত গান কত হাসি,
প্রদীপ নিভায়ে ঘরে আমি আঁখি-নীরে ভাসি,
পরানে বিরহী বাঁশি ঝুরিছে করুণ রাগে।।
এ কী এ বেদনা আজি আমার ভুবন ঘিরে,
ওগো অশান্ত মম, ফিরে এসো, এসো ফিরে।
বুলবুলি এলে বনে বলে যাহা বনলতা —
সাধ যায় কানে কানে আজি বলিব সে কথা,
ভুল বুঝিও না মোরে বলিতে পারিনি আগে।।

ও কূল-ভাঙ্গা নদী রে

বাণী

	ও, কূল-ভাঙ্গা নদী রে,
	আমার চোখের নীর এনেছি মিশাতে তোর নীরে।।
	যে লোনা জলের সিন্ধুতে নদী, নিতি তব আনাগোনা
	মোর চোখের জল লাগবে না ভাই তার চেয়ে বেশি লোনা।
	আমায় কাঁদাতে দেখে আসবিনে তুই রে,
	উজান বেয়ে ফিরে' নদী, উজান বেয়ে ফিরে'।।
		আমার মন বোঝে না, নদী —
তাই	বারে বারে আসি ফিরে তোর কাছে নিরবধি।
	তোরই অতল তলে ডুবিতে চাই রে,
		তুই ঠেলে দিস তীরে (ওরে)।।