ফুলবনে যদি বসন্ত এলো

বাণী

ফুলবনে যদি বসন্ত এলো
মনবনে নাহি এলো,
কেন মনবনে নাহি এলো।।
বিবশা এ হিয়া উঠিছে রাঙিয়া
মধুর পরশন মাগিয়া,
ফুরাবে সবই কি, বিফল-চাওয়া চাহিয়া।।
তৃষিত এ প্রাণ চাহে যাহারে
গগন-পারে খোঁজে তাহারে,
অ-ধরা কি রবে পিয়া রে।।

আমার পায়ের বেড়ি

বাণী

আমার পায়ের বেড়ি এই সোনার পুরী ভেঙে।
যাও গো নিয়ে তোমার দেশে (তোমায়) পাব সেথায় জেগে।।
এই যে সাগর এই যে কুমার এই যে তোমার আমি
এই যে তুমি স্বপ্নে-পাওয়া মধুমালার স্বামী,
(এবার) তোমার হাসির রঙে, আঁধার পুরী উঠুক রেঙে।।

নাটক : 'মধুমালা'

পাপিয়া আজ কেন ডাকে সখি

বাণী

পাপিয়া আজ কেন ডাকে সখি, পিয়া পিয়া।
শুনি’, পিয়া পিয়া বোল্‌ ঝুরিছে আমার হিয়া।।
এমনি মধুরাতি, ছিল সে মোর সাথি,
সেদিন পাপিয়া এমনি উঠিত ডাকিয়া
সে কি আজ এলো তবে, চাঁদের মত নীরবে
হাসির জোছনাতে তার দশদিশি রাঙাইয়া।।

নাটকঃ ‘সর্বহারা’

আমি হব মাটির বুকে ফুল

বাণী

আমি হব মাটির বুকে ফুল
প্রভাত বেলা হয়ত পাব তোমার চরণ মূল।।
	ঠাঁই পাব গো তোমার থালায়
	রইব তোমার গলার মালায়
সুগন্ধ মোর মিশবে হাওয়ায় আনন্দ আকুল।।
আমার রঙে রঙিন হবে বন
পাখির কণ্ঠে আনব আমি গানের হরষণ।
	নাই যদি নাও তোমার গলে
	তোমার পূজা বেদীর তলে
শুকাবে গো সেই হবে মোর মরণ অতুল।।

আমার সুরের ঝর্না-ধারায়

বাণী

আমার সুরের ঝর্না-ধারায় করবে তুমি স্নান।
ওগো বধূ! কণ্ঠে আমার তাই ঝরে এই গান।।
	কেশে তোমার পর্‌বে বালা
	তাই গাঁথি এই গানের মালা,
তোমার টানে ভাব-যমুনায় বহিছে উজান।।
আমার সুরের ইন্দ্রাণী গো, উঠ্‌বে তুমি ব’লে,
নিত্য বাণীর সিন্ধুতে মোর মন্থন তাই চলে।
	সিংহাসনের সুর-সভাতে
	বসবে রানীর মহিমাতে,
সৃজন করি’ সেই গরবে সুরের পরীস্থান।।

ছন্দের বন্যা হরিণী অরণ্যা

বাণী

ছন্দের বন্যা হরিণী অরণ্যা
চলে গিরি-কন্যা চঞ্চল ঝর্ণা
নন্দন-পথ-ভোলা চন্দন-বর্ণা।।
গাহে গান ছায়ানটে, পর্বতে শিলাতটে
লুটায়ে পড়ে তীরে শ্যামল ওড়না।।
ঝিরি ঝিরি হাওয়ায় ধীরি ধীরি বাজে
তরঙ্গ-নূপুর বন-পথ মাঝে।
এঁকেবেকে নেচে যায় সর্পিল ভঙ্গে
কুরঙ্গ সঙ্গে অপরূপ রঙ্গে
গুরু গুরু বাজে তাল মেঘ-মৃদঙ্গে
তরলিত জোছনা-বালিকা অপর্ণা।।