নীল কবুতর লয়ে নবীর দুলালী

বাণী

নীল কবুতর লয়ে নবীর দুলালী মেয়ে খেলে মদিনায়
দেহের জ্যোতিতে তার জাফরানি পিরহান ম্লান হয়ে যায়॥
	মুখে তার নবীজীর মুখেরি আদল
	আঁখি দুটি করুণায় সদা ঢল ঢল,
মেষ শাবকেরে ধরি মধুর মিনতি করি কলেমা শোনায়॥
জুম্মার মস্‌জিদে কোন্ সে ভক্ত পড়ে কোরান আয়াত,
অমনি সে খেলা ভুলি কচি দুটি হাত তুলে করে মোনাজাত।
	নীল দরিয়ার পানি নয়নে বহে
	‘উম্মতে কর ত্রাণ’ কাঁদিয়া কহে
হজরত কোলে তুলে ‘বেহেশ্‌ত্‌ রানী তুমি’ বলে ফাতেমায়॥

কিশোরী সাধিকা রাধিকা শ্রীমতী

বাণী

কিশোরী সাধিকা রাধিকা শ্রীমতী।
চির-কিশোর আরাধিকা শ্রীমতী।।
	কমলা গোলোকে
	গোপিনী ভুলোকে,
সেবিকা প্রকৃতি পরমা তপতী।।
	শ্যাম ভুবন কালো
	রাই অরুণ আলো,
হরি পূজারিণী প্রেম মূর্তিমতী।।
	ব্রজধাম বাসিনী
	লীলা বিলাসিনী,
শ্যাম নাম ভাষিণী বিরহ ভারতী।।
	শ্যাম মেঘ গলে
	রাই বিজলি দোলে,
শ্যাম পত্র কোলে রাই ফুল আরতি।।
	লয়ে যাঁহার নাম
	হরি হন রাধা শ্যাম,
সুর নর অবিরাম করে যাঁর প্রণতি।।

ভগবান শিব জাগো জাগো

বাণী

ভগবান শিব জাগো জাগো, ছাড়িয়া গেছেন দেবী শিবানী সতী।
শক্তিহীন আজি সৃষ্টি চন্দ্র-সূর্য তারা হীন-জ্যোতি।।
	হে শিব, সতীহারা হয়ে নিষ্প্রাণ
	ভূ-ভারত হইয়াছে শবের শ্মশান,
কোলে ল’য়ে প্রাণহীন জড়-সন্তান — শিবনাম জপে ধ’রা অশ্রুমতী।।

ঐ সর্ষে ফুলে লুটালো কার

বাণী

ঐ	সর্ষে ফুলে লুটালো কার হলুদ-রাঙা উত্তরী।
	উত্তরী-বায় গো —
ঐ	আকাশ-গাঙে পাল তুলে যায় নীল সে পরীর দূর-তরী।।
তা’র	অবুঝ বীণার সবুজ সুরে
	মাঠের নাটে পুলক পুরে,
ঐ	গহন বনের পথটি ঘু’রে — আস্‌ছে দূরে কচিপাতা দূত্ ওরি।।
	মাঠ-ঘাট তার উদাস চাওয়ায় হুতাশ কাঁদে গগন মগন
	বেণুর বনে কাঁপ্‌চে গো তার দীঘল শ্বাসের রেশটি সঘন।।
তার	বেতস-লতায় লুটায় তনু
	দিগ্বিলয়ে ভুরুর ধনু,
সে	পাকা ধানের হীরক-রেণু
	নীল নলিনীর নীলিম-অণু — মেখেছে মুখ-বুক্‌-ভরি।।

সখি সাজায়ে রাখ্ লো পুষ্প-বাসর

বাণী

সখি		সাজায়ে রাখ্ লো পুষ্প-বাসর তেমনি করিয়া তোরা,
		কে জানে কখন্ আসিবে ফিরিয়া গোপিনীর মনোচোরা।
		(সে কি) ভুলিয়া থাকিতে পারে, তা’র চির-দাসী রাধিকারে,
		কত ঝড় ঝঞ্চায় বাদল-নিশীথে এসেছে সে অভিসারে।।
		মধু-বন হ’তে চেয়ে আন্ আধ-ফোটা বনফুল,
		পাপিয়ারে বল গান গাহিতে অনুকূল।
		চাঁপার কলিকা এনে নূপুর গেঁথে রাখ
		তেমনি তমাল-ডালে ঝুলনা বাঁধা থাক্।
		দেহের ডালায় রূপ-অঞ্জলি ধরিয়া
		রাস-মঞ্চে চল্ বেশ ভূষা করিয়া।
আখর	:	[বেঁধে রাখ্ লো — ঝুলনা তেমনি বেঁধে রাখ লো —
		তমাল-ডালে ঝুলনা তেমনি বেঁধে রাখ্ লো]
		সখি, যোগিনীর বেশ ছাড়িয়া আবার পরিব নীলাম্বরী,
		মথুরা ত্যজিয়া এ ব্রজে ফিরিয়া আসিবে কিশোর হরি।।
		হরি ফিরিয়া আসিবে, সময় পাবি না তোরা মুছিতে চোখের জল
		আনন্দে ভাসিবে, আনন্দ ব্রজধাম আনন্দে ভাসিবে।।
আখর	:	[ফিরে আসিবে — কিশোর নটবর ফিরে আসিবে —
		এই ব্রজে পদরজ দিতে ফিরে আসিবে আসিবে]
		আনন্দে ভাসিবে — নিরানন্দ ব্রজপুর আনন্দে ভাসিবে —
		এই নিরানন্দ ব্রজপুর হরিপদ-রজ লভি’ আনন্দে ভাসিবে।।

বাজিছে বাঁশরি কার অজানা সুরে

বাণী

বাজিছে বাঁশরি কার অজানা সুরে।
ডাকিছে সে যেন তার সুদূর বঁধুরে।।
তারা-লোকের সাথীরে যেন সে চাহে ধরাতে,
তারি কাঁদন যেন ঝরা কুসুমে ঝুরে।।
চাঁদের স্বপন ল’য়ে জাগে সে নিশীথ একা,
নিরালা গাহে গান হায় বিষাদ-মধুরে।।
তাহারি অভিমান যেন উঠিছে বাতাসে কাঁপি’,
তাহারি বেদনা দূর আকাশে ঘুরে।।