মোর দেহ মন বিভব রতন

বাণী

মোর দেহ মন বিভব রতন প্রিয়া তুমি নাও তুমি নাও।
পথের ধূলায় মুক্ত আকাশ-তলে আমারে থাকিতে দাও।।
সাজাইয়া হীরা মানিকের ফুলদানি
সাধ যায় রাখি’ সেথা তোমারে*
সোনার দালান — প্রাণহীন, সে যে ভুল আমি
মাটিতে জন্ম আমি যে মাটির ফুল কেন তা ভুলাতে চাও।।
	মাটির রসে যে প্রেমের কুসুম ফোটে
	তারি কাছে এসে মধুকর গেয়ে ওঠে,
মোর কাছে এসো — যদি কোন দিন সে-মাটির মধু পাও।।

* পঙক্তিটি অসম্পূর্ণ

সখি নাম ধ’রে কে ডাকে দুয়ারে

বাণী

সখি নাম ধ’রে কে ডাকে দুয়ারে।
চ’লে যাওয়া বন্ধু বুঝি ফিরে এলো জোয়ারে।।
	সখি নিত্য আমার বুকের মাঝে
	যাহার চরণ-ধ্বনি বাজে,
সেই পায়ের ধ্বনি কানে শুনি আমার আঙিনার ধারে।।
সাজ পরতে সাধ কেন হয়, বাম অঙ্গ নাচে,
থাকি থাকি বৌ কথাকও পাখি ডাকে গাছে।
	গাঙের পারে বাজে বাঁশি
	চাঁদের মুখে রাঙা হাসি
মোর মন কেঁদে কয়, সে এসেছে আন্ লো ডেকে উহারে।।

গোধূলির শুভ লগন এনে

বাণী

গোধূলির শুভ লগন এনে সে কেন বিদায়ের বাঁশি বাজায়।
ওর মিলনের মালা ভালো লাগে না বুঝি গো, ও-শুধু বিরহের অশ্রু চায়।।
	কে জানিত ও-বিরহ-বিলাসী
	সকালের ফুল চায়, সন্ধ্যায় উদাসী,
দিনে যে ধরা দেয় দীনের মতন রাতে সে শূন্যে কেন মিশে যায়।।
	ঘরে এনে কেন ভোলাতে চায় ঘর
	আত্মা জড়ায়ে কাঁদে, আত্মীয়ে করে পর,
প্রেম-কৃপা-ঘন সে নাকি সুন্দর — কেন তবে অসহ দুঃখ দিয়ে কাঁদায়।।

আজ বন-উপবন মে চঞ্চল

বাণী

আজ বন-উপবন মে চঞ্চল মেরে মনমে।
মোহন মুরলীধারী কুঞ্জ কুঞ্জ ফিরে শ্যাম।।
সুনো মোহন নূপুর গুঞ্জত হ্যয় —
বাজে মুরলী বোলে রাধা নাম কুঞ্জ কুঞ্জ ফিরে শ্যাম।।
বোলে বাঁশরি আও শ্যাম-পিয়ারি,
ঢুঁড়ত হায় শ্যাম-বিহারী,
বনমালা সব চঞ্চল ওড়াওয়ে অঞ্চল —
কোয়েল সখি গাওয়ে সাথ গুণধাম কুঞ্জ কুঞ্জ শ্যাম।।
ফুলকলি ভোলে ঘুঁঘট খোলে
পিয়াকে মিলনকি প্রেমকি বোলি বোলে,
পবন পিয়া লেকে সুন্দর সৌরভ —
হাঁসত যমুনা সখি দিবস-যাম কুঞ্জ কুঞ্জ ফিরে শ্যাম।।

নতুন নেশার আমার এ মদ

বাণী

নতুন নেশার আমার এ মদ বল কি নাম দেবো এরে বঁধুয়া।
গোপী চন্দন গন্ধ মুখে এর বরণ সোনার চাঁদ চুঁয়া।।
	মধু হ'তে মিঠে পিয়ে আমার মদ
	গোধূলি রং ধরে কাজল নীরদ,
প্রিয়েরে প্রিয়তম করে এ মদ মম, চোখে লাগায় নভোনীল ছোঁওয়া।।
	ঝিম্ হয়ে আসে সুখে জীবন ছেয়ে,
	পান্‌সে জোছনাতে পান্‌সি চলে বেয়ে,
মধুর এ মদ নববধূর চেয়ে আমার মিতালী এ মহুয়া।। 

ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি

বাণী

ও ভাই	খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
		আমার দেশের মাটি।।
			এই দেশেরই মাটি জলে
			এই দেশেরই ফুলে ফলে
		তৃষ্ণা মিটাই মিটাই ক্ষুধা পিয়ে এরি দুধের বাটি।।
			এই মায়েরই প্রসাদ পেতে
			মন্দিরে এর এঁটো খেতে
		তীর্থ ক’রে ধন্য হতে আসে কত জাতি।
ও ভাই	এই দেশেরই ধূলায় পড়ি’
		মানিক যায় রে গড়াগড়ি
ও ভাই	বিশ্বে সবার ঘুম ভাঙালো এই দেশেরই জিয়ন-কাঠি।।
			এই মাটি এই কাদা মেখে
			এই দেশেরই আচার দেখে
		সভ্য হ’লো নিখিল ভুবন দিব্য পরিপাটি।
ও ভাই	সন্ন্যাসিনী সকল দেশে
		জ্বাল্‌লো আলো ভালোবেসে
মা		আঁধার রাতে এক্‌লা জাগে আগ্‌লে রে এই শ্মশান-ঘাঁটি।।