বসিয়া বিজনে কে গো বিমনা

বাণী

	বসিয়া বিজনে কে গো বিমনা।
	নিরালায় বাসনা-তুলিকায় আঁকিছ কোন্ আল্‌পনা।।
			অনামিকায় কভু জড়াও অঞ্চল
		(কভু)	ভাসাও স্রোতে মালার ফুলদল,
কভু	আনমনে চাই গগন-কোণে যেন কোন্ উদাসী কামনা।।
পলক নাই চোখে, মুখে নাহি বাণী,
ফেলে যাওয়া যেন, কার বাঁশরিখানি।
	তাহারি আগমনী অন্তরে শুনি’
	উছলি’ উঠিবে মৌন সুরধুনী,
				বাজিবে মধু-মুরছনা।।

রিম্‌ঝিম্‌ রিম্‌ঝিম্‌ ঝরে শাওন ধারা

বাণী

রিম্‌ঝিম্‌ রিম্‌ঝিম্‌ ঝরে শাওন ধারা।
গৃহকোণে একা আমি ঘুমহারা।।
	ঘুমন্ত ধরা মাঝে
	জল-নূপুর বাজে,
বিবাগী মন মোর হল পথহারা।।
চেনা দিনের কথা ভেজা সুবাসে,
অতীত স্মৃতি হ’য়ে ফিরে ফিরে আসে।
এমনি ছলছল ভরা সে-বাদরে
তোমারে পাওয়া মোর হয়েছিল সারা।।

শারদ নিশির হিমেলা বাতাস

বাণী

শারদ নিশির হিমেলা বাতাস, তারা-ভরা এই অসীম আকাশ।
স্বপ্ন-বিলাসিনী চাঁদের আবাস, কাশ ফুলে দোলে কার নিশাস্।।
	শিউলি-মালা গলে শরত-রানী
	লাবনি-মাখা যে গো তাহারি বাণী,
তোমার বেণু বিনা, আমার এ বীণা সুর তোলে যেন দীরঘ-শ্বাস।।
এমনই চাঁদের তিথি, এমনই শারদ-রাতি
মৌন-মুখর ধরা, তব সুর ছিল সাথি,
রাখিখানি যবে হায় নিয়েছিলে কর পাতি’ —
এসো গো ধেয়ানে মম তাজিয়া সে-পরবাস।।

রাধা-তুলসী প্রেম-পিয়াসি গোলকবাসী শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ

বাণী

রাধা-তুলসী, প্রেম-পিয়াসি, গোলকবাসী শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ।
নাম জপ মুখে, মূরতি রাখ বুকে ধ্যান দেখ তারি রপ মোহন।।
	অমৃত রসঘন কিশোর-সুন্দর,
	নব নীরদ শ্যাম মদন মনোহর —
সৃষ্টি প্রলয় যুগল নূপুর শোভিত যাহার রাঙা চরণ।।
	মগ্ন সদা যিনি লীলারসে,
	যে লীলা-রস ভরা গোপী-কলসে,
কান্না-হাসির আলো-ছায়ার মায়ায় যাহার মোহিত ভূবন।।

আসিলে কে অতিথি সাঁঝে

বাণী

আসিলে কে অতিথি সাঁঝে।
পূজার ফুল ঝরে বন-মাঝে।।
দেউল মুখরিত বন্দনা-গানে,
আকাশ আঁখি চাহে তব পানে
দোলে ধরাতল, দীপ-ঝলমল
নৌবতে ভূপালি বাজে।।

বুনো ফুলের করুণ সুবাস

বাণী

বুনো ফুলের করুণ সুবাস ঝুরে।
নাম-না-জানা গানের পাখি, তোমার গানের সুরে।।
	জানাতে হায় এলে কোথা
	বনের ছায়ার মনের ব্যথা,
তরুর ছায়া ফেলে এলে মরুর বুকে উড়ে।।
এলে চাঁদের তৃষ্ণা নিয়ে কৃষ্ণা তিথির রাতে,
পাতার বাসা ফেলে এলে সজল নয়ন-পাতে।
	ওরে পাখি, তোর সাথে হায়
	উড়তে নারি দূর অলকায়,
বন্ধনে যে বাঁধা আমি মলিন মাটির পুরে।।