আগের মত আমের ডালে

বাণী

আগের মত আমের ডালে বোল ধরেছে বউ।
তুমিই শুধু বদ্‌লে গেছ, আগের মানুষ নও।।
	তেম্‌নি আজো তোমার নামে
	উথলে মধু গোলাপ-জামে,
উঠ্ল পু’রে জামরুলে রস, মহুল ফুলে মউ।।
ডালিম-দানায় রং ধরেছে, ডাঁশায় নোনা আতা,
তোমার পথে বিছায় ছায়া ছাতিম তরুর ছাতা।
	তেম্‌নি আজো নিমের ফুলে
	ঝিম্‌ হয়ে ঐ ভ্রমর দুলে,
হিজল-শাখায় কাঁদছে পাখি বউ গো কথা কও।।

এই সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি

বাণী

এই সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি
		খোদা তোমার মেহেরবানী।
শস্য-শ্যামল ফসল-ভরা মাঠের ডালিখানি
		খোদা তোমার মেহেরবানী।।
	তুমি কতই দিলে রতন
	ভাই বেরাদর পুত্র স্বজন
ক্ষুধা পেলেই অন্ন জোগাও মানি চাই না মানি।।
খোদা তোমার হুকুম তরক করি আমি প্রতি পায়
তবু আলো দিয়ে বাতাস দিয়ে বাঁচাও এ বান্দায়।
	শ্রেষ্ঠ নবী দিলে মোরে
	তরিয়ে নিতে রোজ-হাশরে
পথ না ভুলি তাইতো দিলে পাক কোরানের বাণী।।

হেড মাস্টারের ছড়ি সেকেন্ড মাস্টারের দাড়ি

বাণী

হেড মাস্টারের ছড়ি, সেকেন্ড মাস্টারের দাড়ি
থার্ড মাস্টারের টেড়ি, কারে দেখি কারে ছাড়ি।
হেড-পণ্ডিতের টিকির সাথে ওদের যেন আড়ি।
	দাঁড়াইয়া ঐ হাই বেঞ্চে
	হাসি রে মুখ ভেংচে ভেংচে,
খোঁড়া সেকেন্ড পণ্ডিত যায় লেংচে হুঁকো হাতে বাড়ি
তার মুখ নয় তেলো হাড়ি, মোর হেসে ছিড়ে যায় নাড়ি।

নাটিকাঃ ‘পুতুলের বিয়ে’

ঘোর ঘন ঘটা ছাইল গগন

বাণী

ঘোর ঘন ঘটা ছাইল গগন
ভুবন গভীর বিষাদ মগন।।
নাহি রবি শশী নাহি গ্রহ তারা
নিখিল নয়নে শ্রাবণের ধারা
সৃষ্টি ডুবালো গো’ স্রোতের প্লাবন।।

নাটক: সাবিত্রী

অয়ি চঞ্চল-লীলায়িত-দেহা চির-চেনা

বাণী

অয়ি চঞ্চল-লীলায়িত-দেহা চির-চেনা
ফোটাও মনের বনে তুমি বকুল হেনা।।
	যৌবন-মদ গর্বিতা তন্বী
	আননে জ্যোৎস্না, নয়নে বহ্নি,
তব চরণের পরশ বিনা অশোক তরু মুঞ্জরে না।।
নন্দন-নন্দিনী তুমি দয়িতা চির-আনন্দিতা,
প্রথম কবির প্রথম লেখা তুমি কবিতা।
নৃত্য শেষের তব নুপুরগুলি হায়
রয়েছে ছড়ানো আকাশের তারকায়
সুর-লোক-উর্বশী হে বসন্ত-সেনা ! চির-চেনা।।

বাজিছে দামামা বাঁধ রে আমামা

বাণী

বাজিছে দামামা, বাঁধ রে আমামা শির উঁচু করি মুসলমান।
দাওয়াত এসেছে নয়া জামানার ভাঙা কিল্লায় ওড়ে নিশান।।
	মুখেতে কল্‌মা হাতে তলোয়ার
	বুকে ইসলামী জোশ্ দুর্বার,
	হৃদয়ে লইয়া এশ্‌ক্‌ আল্লার —
	চল্ আগে চল বাজে বিষাণ।
ভয় নাই তোর গলায় তাবিজ বাঁধা যে রে তোর পাক কোরান।।
	নহি মোরা জীব ভোগ বিলাসের
	শাহাদত ছিল কাম্য মোদের,
	ভিখারির সাজে খলিফা যাদের —
				শাসন করিল আধা জাহান।
তা’রা আজ প’ড়ে ঘুমায় বেহোঁশ্ বাহিরে বহিছে ঝড় তুফান।।
	ঘুমাইয়া কাজা করেছি ফজর
	তখনো জাগিনি যখন জোহর,
	হেলা ও খেলায় কেটেছে আসর —
				মাগরিবের আজ শুনি আজান।
জমাত-শামিল হও রে এশাতে এখনো জামাতে আছে স্থান।।
	শুকনো রুটিরে সম্বল ক’রে
	যে ঈমান আর যে প্রাণের জোরে,
	ফিরেছি জগৎ মন্থন ক’রে —
				সে-শক্তি আজ ফিরিয়ে আন।
আল্লাহু আকবর রবে পুন কাঁপুক বিশ্ব দূর বিমান।।