স্মরণ-পারের ওগো প্রিয়

বাণী

স্বরণ-পারের ওগো প্রিয়, তোমায় আমি চিনি যেন
তোমায় চাঁদে চিনি আমি, তুমি আমায় তারায় চেন॥
	নূতন পরিচয়ের লাগি’
	তারায় তারায় থাকি জাগি’
বারে বারে মিলন মাগি, বারে বারে হারাই হেন॥
নূতন চোখের প্রদীপ জ্বালি’ চেয়ে আছি নিরিবিলি,
খোলো প্রিয় তোমার ধরার বাতায়নের ঝিলি-মিলি।
	নিবাও নিবু-নিবু বাতি,
	ডাকে নূতন তারার ভাতি,
ওগো আমার দিবস রাতি কাঁদে বিদায়-কাঁদন কেন॥

নাটিকাঃ ‌‘ঝিলিমিলি’

মোর প্রিয়া হবে এসো রানী

বাণী

মোর প্রিয়া 	হবে এসো রানী দেব খোঁপায় তারার ফুল
	কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির চৈতী চাঁদের দুল।।
		কণ্ঠে তোমার পরাবো বালিকা
		হংস –সারির দুলানো মালিকা
	বিজলী জরীণ ফিতায় বাঁধিব মেঘ রঙ এলো চুল।।
	জোছনার সাথে চন্দন দিয়ে মাখাব তোমার গায়
	রামধনু হতে লাল রঙ ছানি’ আলতা পরাবো পায়।
		আমার গানের সাত সুর দিয়া
		তোমার বাসর রচিব প্রিয়া।
	তোমারে ঘিরিয়া গাহিবে আমার কবিতার বুলবুল।।

মোর শ্যাম সুন্দর এসো

বাণী

মোর শ্যাম সুন্দর এসো।
প্রেমের বৃন্দাবনে এসো হে ব্রজধাম-সুন্দর এসো।।
এসো হৃদয়ে হৃদয়েশ মোর নয়নের আগে এসো হে।
মোর নব-অনুরাগে এসো শ্যাম কোটি-কাম-সুন্দর এসো।।
রস মানস গঙ্গার কূলে রসরাজ এসো এসো হে।
এসো মুরলী বাজায়ে এসো হে, এসো ময়ূর নাচায়ে এসো হে মধাব,
মধু-বনমাঝে, এসো এসো হে।।
মোর মুখের ভাষায় এসো, মোর প্রাণের আশায় এসো।
নবীন নীরদ ঘনশ্যাম রূপে রূপ-পিপাসায় এসো
এসো মদন-মোহন শোভন অভিরাম-সুন্দর এসো।।

তুমি সুন্দর কপট হে নাথ

বাণী

তুমি সুন্দর কপট হে নাথ! মায়াতে রাখ বিভোর।
তোমার ছলনা যে বোঝে না নাথ সেই সে দুঃখী ঘোর।।
	কত শত রূপে নিঠুর আঘাতে
	তুমি চাও নাথ তোমারে ভোলাতে
তবু যে তোমারে ভুলিতে পারে না ধরা দাও তারে চোর।।
কাঁদাও তাহারে নিশিদিন তুমি যপে যে তোমার নাম
তোমারে যে চাহে শত বন্ধনে বাঁধ তারে অবিরাম।
	সাগরে মিশাতে চায় বলে নদী
	জনম গোঁয়ায় কেঁদে নিরবধি
ভক্তে তেমনি দিয়াছ যে নাথ অসীম আঁখি - লোর।।

কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর

বাণী

কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর বাজে।
রিমিঝিমি রিমিঝিমি মৃদু আওয়াজে।।
আঁধারের চাঁচর চিকুর খুলিয়া
আপন মনে নাচে হেলিয়া দুলিয়া,
মুঠি মুঠি হিম-কণা তারা-ফুল তুলিয়া
ছুঁড়ে ফেলে ধরণী মাঝে।।
তার	মণি-হার খুলে পড়ে উল্কা-মানিক,
তার	নাচের নেশায় ঝিমায় দশ্‌দিক।
	আধো-রাতে আমি শুনি স্বপনে
তার	গুঞ্জন-গীত কানে-কথা গোপনে,
	কালো-রূপের শিখা, ওকি শ্যামা বালিকা
	নাচে নাচে জাগাইতে নটরাজে।।

সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায়

বাণী

সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায় তুমি ফিরিলে না ঘরে,
আঁধার ভবন জ্বলেনি প্রদীপ মন যে কেমন করে।।
	উঠানে শূন্য কলসির কাছে
	সারাদিন ধরে ঝ’রে প’ড়ে আছে
তোমার দোপাটি গাঁদা ফুলগুলি যেন অভিমান ভরে।।
বাসন্তী রাঙা শাড়িখানি তব ধূলায় লুটায় কেঁদে,
তোমার কেশের কাঁটাগুলি বুকে স্মৃতির সমান বেঁধে।
	যাইনি বাহিরে আজ সারাদিন
	ঝরিছে বাদল শ্রান্তিবিহীন
পিয়া পিয়া ব’লে ডাকিছে পাপিয়া এ বুকের পিঞ্জরে।।