জাগো জাগো শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম-ধারী কাঁদে ধরিত্রী

বাণী

জাগো জাগো শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম-ধারী।
কাঁদে ধরিত্রী নিপীড়িতা, কাঁদে ভয়ার্ত নরনারী।।
	আনো আরবার ন্যায়ের দণ্ড
	দৈত্য-ত্রাসন ভীম প্রচণ্ড,
অসুর-বিনাশী উদ্যত আসি ধর ধর দানবারি।।
	ঐ বাজে তব আরতি বোধন,
	কোটি অসহায় কণ্ঠে রোদন!
	ব্যথিত হৃদয়ে ফেলিয়া চরণ
	বেদনা-বিহারী এসো নারায়ণ,
রুদ্ধ কারার অন্ধ প্রাকার-বন্ধন অপসারি’।।

তুমি কি দখিনা পবন

বাণী

তুমি কি দখিনা পবন
দুলে ওঠে দেহলতা
ফুলে ফুলে ফুল্ল হয়ে ওঠে মন।।
	অন্তর সৌরভে শিহরে
	কথার কোয়েলিয়া কুহরে
তনু অনুরঞ্জিত করে গো প্রীতির পলাশ রঙন।।
কী যেন মধু জাগে হিয়াতে
চাহি’ যেন সেই মধু কোন্‌ চাঁদে পিয়াতে।
	ফুটাইয়া ফুল কোথা চলে যাও
	হুতাস নিশাসে কী ব’লে যাও
মধু পান করি না কো র’চে যাই শুধু মধু-বন।।

বিষ্ণুসহ ভৈরব অপরূপ মধুর

বাণী

বিষ্ণুসহ ভৈরব
অপরূপ মধুর মিলন শম্ভু মাধব।
দক্ষিণে শঙ্কর শ্রীহরি বামে,
মিলিয়াছে যেন রে কানু বলরামে
দেখি এক সাথে যেন দেখি রে
		স্বয়ম্ভু কেশব।।
বিমল চেতনা আনন্দ মদন
শিব-নারায়ণের যুগল মিলন,
এক সাথে ব্রজধাম শিবলোকে
অরূপ স্বরূপ নেহারি চোখে —  
শোন্ রে একসাথে বেণূকার প্রণব।।

রূপের কুমার জাগো নিশি হয় অবসান

বাণী

রূপের কুমার জাগো, নিশি হয় অবসান।
গাহিছে আলোক কুমারীরা, শোন ঘুম-ভাঙানিয়া গান।।
	তুমি জাগিছ না বলি’
	ফোটে না আলোর কলি,
তব ঘুমন্ত আঁখির পাতায় ঘুমায় আলোর প্রাণ।।

নাটিকাঃ ‌‘লায়লী-মজনু’

চিরদিন পূজা নিয়েছ দেবতা

বাণী

চিরদিন পূজা নিয়েছ দেবতা এবার মোদের পূজিতে হবে।
বৃথাই কেঁদেছি বৃথাই সেধেছি সহেছি দুঃখ শোক নীরবে।।
	টলেনি পাষাণ বলনি কথা
	কাঁদিয়েছ চিরকাল নিঠুর দেবতা,
কাঁদিতে হবে আজ আমাদের ঘরে সে-পূজার ঋণ সুধিবে এ ভবে।।

নাটক : ‘অন্নপূর্ণা’

তেপান্তরের মাঠে বঁধু হে একা বসে থাকি

বাণী

		তেপান্তরের মাঠে বঁধু হে একা বসে থাকি।
		তুমি যে পথ দিয়ে গেছ চলে তারি ধূলা মাখি’ হে।।
যেমন		পা ফেলেছ গিরিমাটির রাঙা পথের ধূলাতে,
		অমনি করে আমার বুকে চরণ যদি বুলাতে,
আমি		খানিক জ্বালা ভুলতাম ঐ মানিক বুকে রাখি’ হে।।
আমার	খাওয়া পরার নাই রুচি, আর ঘুম আসে না চোখে হে,
আমি		আউরী হয়ে বেড়াই পথে, হাসে পাড়ার লোকে
					দেখে হাসে পাড়ার লোকে।
আমি		তাল পুকুরে যেতে নারি — একি তোমার মায়া হে,
আমি		কালো জলে দেখি তোমার কালো রূপের ছায়া হে;
আমার	কলঙ্কিনী নাম রটিয়ে তুমি দিলে ফাঁকি হে।।