লহ সালাম লহ দ্বীনের বাদশাহ

বাণী

লহ সালাম লহ, দ্বীনের বাদশাহ, জয় আখেরি নবী।
পীড়িত জনগণে মুক্তি দিতে এলে হে নবীকুলের রবি।।
	তুমি আসার আগে ধরার মজলুম
	করিত ফরিয়াদ, চোখে ছিল না ঘুম,
ধরার জিন্দানে, বন্দী ইনসানে আজাদি দিতে এলে হে প্রিয় আল-আরবি।।
	তব দামন ধরি’ যত গোনাহগার,
	মাগিল আশ্রয়, তুমিই করিবে পার।
	মানুষ ছিল আগে বন্য পশু প্রায়
	কাঁদিত পাপে তাপে অভাব ও বেদনায়,
শান্তি-দাতা রূপে সহসা এলে তুমি ফুটিল দুনিয়াতে নব বেহেশ্‌তের ছবি।।

নয়নে তোমার ভীরু মাধুরীর মায়া

বাণী

নয়নে তোমার ভীরু মাধুরীর মায়া
বন-মৃগী সম উঠিছ চমকি' হেরিয়া আপন ছায়া।।
	প্রাতে ঊষার প্রায়
	রেঙে ওঠো লজ্জায়,
এলায়িত লতিকায় ভঙ্গুর তব কায়া।।
দৃষ্টিতে তব আরতি-দীপের দ্যুতি
তুমি নিবেদিতা সন্ধ্যা-পূজা-আরতি।
	ভূমি অবলুণ্ঠিতা
	বনলতা কুণ্ঠিতা
কোলাহল-শঙ্কিতা যেন গো তাপস-জায়া।।

শারদ নিশির হিমেলা বাতাস

বাণী

শারদ নিশির হিমেলা বাতাস, তারা-ভরা এই অসীম আকাশ।
স্বপ্ন-বিলাসিনী চাঁদের আবাস, কাশ ফুলে দোলে কার নিশাস্।।
	শিউলি-মালা গলে শরত-রানী
	লাবনি-মাখা যে গো তাহারি বাণী,
তোমার বেণু বিনা, আমার এ বীণা সুর তোলে যেন দীরঘ-শ্বাস।।
এমনই চাঁদের তিথি, এমনই শারদ-রাতি
মৌন-মুখর ধরা, তব সুর ছিল সাথি,
রাখিখানি যবে হায় নিয়েছিলে কর পাতি’ —
এসো গো ধেয়ানে মম তাজিয়া সে-পরবাস।।

সন্ধ্যা নেমেছে আমার বিজন ঘরে

বাণী

সন্ধ্যা নেমেছে আমার বিজন ঘরে, তব গৃহে জ্বলে বাতি।
ফুরায় তোমারি উৎসব নিশি সুখে, পোহায় না মোর রাতি।।
	আমার আশার ঝরা ফুলদল দিয়া,
	তোমার বাসর শয্যা রচিছ প্রিয়া
তোমার ভবনে আলোর দীপালি জ্বলে, আঁধার আমার সাথী।
					পোহায় না মোর রাতি।।
ঘুমায়ে পড়েছে আমার কাননে কুহু, নীরব হয়েছে গান;
তোমার কুঞ্জে গানের পাখিরা তুলিয়াছে কলতান।
	পৃথিবীর আলো মোর চোখে নিভে আসে,
	বাজিছে বাঁশরি তোমার মিলন-রাসে;
ওপারের বাঁশি আমায় ডাকিবে কবে, আছি তাই কান পাতি।
					পোহায় না মোর রাতি।।

জাগো যুবতী আসে যুবরাজ

বাণী

জাগো যুবতী! আসে যুবরাজ।
অশোক-রাঙা বসনে সাজ।।
আসন-পাতা-বনে অঞ্চল আধো
বন্দনা-গীতি-ভাষা বাধো বাধো,
		কপোলে লাজ।।
উছলি’ ওঠে যৌবন আকুল তরঙ্গে,
খেলিছে অনঙ্গ নয়নে, বুকে, অঙ্গে আকুল তরঙ্গে।
আগমনী-ছন্দ মেঘ-মৃদঙ্গে
ভবন-শিখী গাহে বন-কুহু সঙ্গে,
বাজো হৃদি-অঙ্গনে বাঁশরি বাজো।।

নাটক : ‘আলেয়া’ (কাকলি ও বন্দিনীগণের গান)

জাগো বনলক্ষ্মী জোছনা বিগলিত

বাণী

জাগো বনলক্ষ্মী! জোছনা বিগলিত চৈতালি নিশীথে।
রাঙাও দশদিশি লজ্জা-অরুণ রূপ-সজ্জায় বনশ্রীতে।।
	তব আলোছায়ার ডুরে শাড়ির আঁচল
	লুটাক বকুল তলে সুখ-বিহ্বল,
তব লতা কবরী হের পুষ্প ভারে হ’ল —
	অবনমিতা অগ্নি অসম্বৃতে।।
পর গিরি-ঝর্নার শতনরী হার হে বনলক্ষ্মী!
বিহর-শীর্ণা দেহে (নব যৌবনের) জাগুক জোয়ার হে বনলক্ষ্মী!
	ঝংকৃত হোক বনভূমি নিঝ্ঝুম
	পুষ্পিত মাধবীর পর কঙ্কণ,
আলতা পর কলি পলাশ রঙ্গন — ভ্রমর-গুঞ্জন-নূপুর-গীতে।।

১. বিহগিত

নাটক : ‘মধুমালা’ (বন-বালিকাদের গান)