কেন তুমি কাঁদাও মোরে হে মদিনাওয়ালা

বাণী

কেন তুমি কাঁদাও মোরে, হে মদিনাওয়ালা!
অবরোধবাসিনী আমি কুলের কুলবালা।।
ঈদের চাঁদের ইশারাতে কেন ডাক নিঝুম রাতে,
হাসিন ইউসুফ! জুলেখারে কত দিবে জ্বালা।।
একি লিপি পাঠালে নাথ কোরানের আয়াতে —
পড়তে গিয়ে অশ্রু-বাদল নামে আঁখি-পাতে।
বাজিয়ে শাহাদতের বাঁশি কেন ডাক নিত্য আসি';
হাজার বছর আগে তোমায় দিয়েছি তো মালা।।

নতুন খেজুর রস এনেছি মেটে কলস ভ'রে

বাণী

নতুন খেজুর রস এনেছি মেটে কলস ভ'রে
ভিন গাঁ হতে এনে গো রস-পিয়াসি
ও আমার রস-পিয়াসি রসিক জনের তরে।।
	মিঠে রোদে শীতের দিনে
	তরুণ-বঁধূ লও গো কিনে
ফাগুন-হাওয়া বইবে প্রাণে, ওগো হালকা নেশার ঘোরে।।
মলিন মুখে দিয়ে দেখ নলিন খেজুর-গুড়
বাহির-ভিতর হবে তাহার মিষ্টিতে ভরপুর
	ওগো মিষ্টিতে ভরপুর।
	মোর তনুর চেয়ে অনেক বেশি
	মধুর এ রস ও বিদেশি,
রস না পিয়েও ঝিমিয়ো না গো নেশায় অমন ক'রে।।

সাত ভাই চম্পা কে কি হবি বল

বাণী

বোন		:	সাত ভাই চম্পা কে কি হবি বল। তোরা কে কি হবি বল 
			কেলো, ভূলো, হেবো, পচা, ভুতো, ন্যাড়া, ডল্।
প্রথম ভাই	:	আমি হব কাব্‌লিওয়ালা এক কুলো চাপ দাড়ি।
			‘তেরে মুসে আগা, মোর মা গায়া, লেয়াও রূপী তাড়াতাড়ি’।
দ্বিতীয় ভাই	:	আমি হব পন্ডিত মশাই, কাঁপবে ছেলের দল
			দেখে কাঁপবে ছেলের দল।।
তৃতীয় ভাই	:	আমি হব ফেরিওয়ালা চাই চানাচুর ঘুগ্‌নিদানা!
			পাড়ায় পাড়ায় ফিরব ঘুরে পারবে না কেউ করতে মানা!
			রাত্রে হাঁক্‌ব ‘কুলফী বরফ’ হায় কি মজার কল।।
চতুর্থ ভাই	:	আমি হব জজ সাহেব, দিব ফাঁসি ছ’ মাস ক’রে
পঞ্চম ভাই	:	দারোগা আমি, তোর জজকে চালান দিব থানায় ধ’রে।
ষষ্ঠ ভাই	:	আমায় দেখে দারোগা গুড়ুম
			আমি হব কনিষ্ঠ-বল।।
সপ্তম ভাই	:	আমি হব বাবার বাবা মা সে আমার ভয়ে
			ঘোম্‌টা দিয়ে লুকোবে কোণে চূনি-বিল্লি হয়ে!
			বল্‌ব বাবায়, ওরে খোকা শিগ্‌গির পাঠশাল্ চল্।।

খোদার রহম চাহ যদি

বাণী

	খোদার রহম চাহ যদি নবীজীরে ধর।
	নবীজীরে মুর্শিদ কর নবীর কলমা পড়।।
		আল্লা যে ভাই অসীম সাগর
		কয়জন জানে তাঁহার খবর,
(যদি)	এ সাগরে যাবে, নবী নামের নায়ে চড়।।
	নবীর সুপারিশ বিনা আল্লার দরবারে কেউ যেতে নাহি পারে,
	ও ভাই আল্লা যেন সুর সেই সুরে সুমধুর বাজে নবীর বীণা তারে।
	আল্লা নামের ঝিনুকে ভাই মুক্ত যেন নবী
	আল্লা নামের আসমানে ভাই নবী যেন রবি,
	প্রিয় মোহাম্মদের নামরে ভাই আল্লা তালার চাবি
	খোদা দয়া করবেন সদা নবীরে সার কর।।

তুমি যে আমার আধখানি চাঁদ

বাণী

তুমি যে আমার আধখানি চাঁদ, আধখানি ঐ আকাশে।
তুমি হাস যবে মোর বুকে থাকি’ ঝলকে জোছনা হাসে।।
	কত বেদনায় মোর হিয়াতল
	ঘন হয়ে আসে যেন দীঘিজল,
তারি বুকে তুমি অমল কমল — দুলিছ দখিনা বাতাসে।।
আমি যে বাঁধিনু খেলাঘরখানি, তুমি যে পুতুল তারি,
বাহিব সেথায় তরণী আমার — তুমি যে অসীম বারি।
	পথগুলি মোর মিশিল যেথায়
	আসিনু ফিরিয়া সেই মোহনায়,
ভালোবাসা তব জীবনে আমার সৌরভ হ’য়ে ভাসে।।

কেন মরিতে আসিলাম যমুনায়

বাণী

কেন মরিতে আসিলাম যমুনায়, ললিতা কেন বিপরীত হেরিলাম।
কৃষ্ণ-যমুনা-জলে কারে ল’য়ে কুতুহলে জল-খেলা করে ঘনশ্যাম।।
কালো মেঘের যেন খেলে বিজলি
সোনার-প্রতিমার প্রতিবিম্ব কালো জলে
কালো মেঘে যেন খেলে বিজলি।
হিরন্ময়ী জ্যোতির্ময়ী সতিনীর রূপ আমি যত দেখি গো তত মজি সখি গো!
অতি জ্যোতি গর্বিতা যেন পতি সোহাগিনী সতীসম কে এ সতিনী, ললিতে,
মোর শ্যাম অঙ্গে অপরূপ ভঙ্গে আমারই সমুখে করে খেলা, মোরে ছলিতে।
ও কি কায়া না ছায়া!
ও কি কৃষ্ণ রূপের চঞ্চল জল-তরঙ্গ মায়া?
সখি মান ভাঙাতে মোর এসেছিল গোপনে শ্যাম আজি প্রভাতে (সখি),
শ্যাম-তনুমুকুরে হেরিলাম বিরাজে গৌর-বর্ণা নারী অপরূপ শোভাতে।
এলো অভিমান মনে, তাই
মনে হলে যমুনায় ডুবিয়া ললিতা শান্তি যদি পাই।
এখানেও দেখি সেই গৌরী কিশোরী আছে শ্যামে জড়ায়ে।
(ও কি কায়া না মায়া ও কি কৃষ্ণেরই রঙ্গ না আমারই ছায়া কায়া না মায়া।)
কোন্ দেশে যাব সখি কোন্ খানে পাব শ্যামে একাকী।
আন-নারীরে ছেড়ে কেবল রাধার হয়ে দেবে না দেখা কি (সখী গো)।।

গীতিচিত্র : ‘অভিমানিনী’