পাপিয়া আজ কেন ডাকে সখি

বাণী

পাপিয়া আজ কেন ডাকে সখি, পিয়া পিয়া।
শুনি’, পিয়া পিয়া বোল্‌ ঝুরিছে আমার হিয়া।।
এমনি মধুরাতি, ছিল সে মোর সাথি,
সেদিন পাপিয়া এমনি উঠিত ডাকিয়া
সে কি আজ এলো তবে, চাঁদের মত নীরবে
হাসির জোছনাতে তার দশদিশি রাঙাইয়া।।

নাটকঃ ‘সর্বহারা’

চলে কুস্‌মি শাড়ি পরি'

বাণী

চলে কুস্‌মি শাড়ি পরি' বসন্তের পরী
নবীনা কিশোরী হেসে হেসে।
হেলিয়া দুলিয়া সমীরণে ভেসে ভেসে।।
রঙ্গীলা রঙ্গে নৃত্য-ভঙ্গে চলিছে চপলা এলোকেশে।
পাপিয়া 'পিয়া পিয়া' ডাকে শাখে তাহারে ভালোবেসে।।
মদির চপল বায়, অঞ্চল উড়ে যায়,
সে বৈকালি সুর যেন চৈতী বেলাশেষে।।
মনে সে নেশা লাগায়, বনে সে আঁখির ইঙ্গিতে ফুল ফোটায়।
বেনুবনে তারি বাঁশি বাজে, তারি নাম গুঞ্জরে ভ্রমর
তার ঝির্‌ঝির্‌ মিরমির বাজে মঞ্জির নাচের আবেশে
তার ঝুমুর ঝুমুর নূপুর-ধ্বনি হাওয়াতে মেশে।।

যখন আমার কুসুম ঝরার বেলা তখন তুমি এলে

বাণী

যখন আমার কুসুম ঝরার বেলা তখন তুমি এলে
ভাটির স্রোতে ভাসলো যখন ভেলা পারের পথিক এলে।।
	আঁধার যখন ছাইল বনতল
	পথ হারিয়ে এলে হে চঞ্চল
দীপ নিভাতে এলে হে বাদল ঝড়ের পাখা মেলে।।
শূন্য যখন নিবেদনের থালা তখন তুমি এলে
শুকিয়ে যখন ঝরল বরণ-মালা তখন তুমি এলে।
	নিরশ্রু এই নয়ন পাতে
	শেষ পূজা মোর আজকে রাতে
নিবু নিবু প্রাণ শিখাতে আরতি দীপ জ্বেলে।।

ছলছল নয়নে মোর পানে চেয়ো না

বাণী

ছলছল নয়নে মোর পানে চেয়ো না
যাবে যাও, নয়নে জল নিয়ে যেয়ো না।।
থাকে ব্যথা থাক বুকে, যাও তুমি হাসি মুখে
আমার চাঁদিনী রাত ঘন মেঘে ছেয়ো না।।
রঙিন পিয়ালাতে মম লোনা অশ্রু-জল ঢালি’
পানসে ক’রো না নেশা, জীবন ভরা ব্যথা খালি।
ভুলিতে চাহি যে ব্যথা, মনে এনো না সে কথা,
করুণ সুরে আর বিদায়-গীতি গেয়ো না।।

শা আর শুড়ি মিলে শাশুড়ি

বাণী

শা আর শুড়ি মিলে শাশুড়ি কি হয় গো।
শ্যাম প্রেমে বাধা দেয় স্বামী তারে কয় গো।।
নয় নদী মিলে হয় ননদিনী দজ্জাল,
জুতো জামা-ই সার যার-জামাই সে মহাকাল,
যার কসুর হয় না সে কে? — শ্বশুর মহাশয় গো।।
(সে) ভাদ্দর-বউ, (যার) ভাদ্দর মাসে বিয়ে,
দেবর সে জন — বর যে দেয় দাদারে দিয়ে।
ভাসুর সে, অসুরের মত যারে ভয় গো।।
বেহায়া চশম-খোর, তারে কি বেহাই কই,
পিসিয়া মারেন বলে তারে (তাই) কি পিসি কই,
সকলেরই ভাগ নেয় সে, ভাগ্‌নেরই জয় গো।।

খেলা শেষ হল শেষ হয় নাই বেলা

বাণী

খেলা শেষ হল, শেষ হয় নাই বেলা।
কাঁদিও না, কাঁদিও না — তব তরে রেখে গেনু প্রেম-আনন্দ মেলা।।
খেলো খেলো তুমি আজো বেলা আছে
খেলা শেষ হলে এসো মোর কাছে,
প্রেম-যমুনার তীরে ব’সে রব লইয়া শূন্য ভেলা।।
যাহারা আমার বিচার করেছে — ভুল করিয়াছে জানি,
তাহাদের তরে রেখে গেনু মোর বিদায়ের গানখানি।
	হই কলঙ্কী, হোক মোর ভুল
	বালুকার বুকে ফুটায়েছি ফুল,
তুমিও ভুলিতে নারিবে সে-কথা — হানো যত অবহেলা।।

পাঠান্তর

খেলা শেষ হল, শেষ হয় নাই বেলা।
কাঁদিও না, কাঁদিও না — তব তরে রেখে গেনু প্রেম-আনন্দ মেলা।।
খেলো খেলো তুমি আজো বেলা আছে
খেলা শেষ হলে এসো মোর কাছে,
প্রেম-যমুনার তীরে ব’সে রব লইয়া শূন্য ভেলা।।
যাহারা আমার বিচার করেছে আর তাহাদের কেহ,
দেখিতে পাবে না কলঙ্ক কালিমাখা মোর এই দেহ।
	হই কলঙ্কী, হোক মোর ভুল
	পৃথিবীতে আমি এনেছি গোকুল,
তুমিও ভুলিতে নারিবে সে-কথা — হানো যত অবহেলা।।

[গানটি ১৯৬৫ সালে জগন্ময় মিত্রের কণ্ঠে রেকর্ডের সময় প্রশিক্ষক কমল দাশগুপ্ত বাণীর কিছু পরিবর্তন করেছিলেন।
যথা: ১. খেলা শেষ হলে যেয়ো, যেয়ো মোর কাছে, ২. হোক অপরাধ হোক মোর ভুল]